“আগে অমিত শাহ পদত্যাগ করুন!” বাগুইআটি থেকে সরাসরি মোদীকে চ্যালেঞ্জ মমতার

রাজ্যে নির্বাচনী উত্তাপের পারদ চড়ল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যে। আজ বাগুইআটি ও বরানগরের জনসভা থেকে সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নিশানা করেন তৃণমূল নেত্রী। রাজারহাট-গোপালপুর ও বিধাননগর কেন্দ্রের প্রার্থীদের সমর্থনে আয়োজিত এই সভায় কেন্দ্র ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে কমিশনের ওপর ক্ষোভ
বরানগরের মিছিলে নিরাপত্তা ঘাটতির অভিযোগ তুলে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, সেখানে ভিড়ের চাপে পদপিষ্ট হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। পুলিশ ও প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ এখন নির্বাচন কমিশনের হাতে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিজেপি নেতাদের সভায় বড় ব্যারিকেড থাকলেও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা এখানে অবহেলিত। নিজের হাতে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার দাবি জানিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে তার দায় কে নিত?
অনুপ্রবেশ ইস্যুতে কেন্দ্রীয় সংস্থাকে আক্রমণ
বাংলার মানুষকে ‘অনুপ্রবেশকারী’ তকমা দেওয়ার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি অমিত শাহের পদত্যাগ দাবি করেন। তার যুক্তি বিশ্লেষণ করলে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক উঠে আসে:
- নজরদারিতে ব্যর্থতা: সীমানা সুরক্ষা ও বিএসএফ কেন্দ্রের অধীনে। যদি অনুপ্রবেশ ঘটে থাকে, তবে তার দায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর।
- কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা: সিআইএসএফ, কাস্টমস, পাসপোর্ট এবং রেলের মতো সব বিভাগই কেন্দ্রের হাতে।
- নাগরিকত্বের অপমান: সাধারণ মানুষকে অনুপ্রবেশকারী বলে অপমান করার বদলা ব্যালট বাক্সে নেওয়ার ডাক দেন তিনি।
সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান বনাম তৃণমূল
নির্বাচন কমিশন ও বিভিন্ন কেন্দ্রীয় এজেন্সির নিরপেক্ষতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, কমিশন সংবিধান না মেনে রাজ্যের ক্ষমতা কেড়ে নিচ্ছে এবং এজেন্সিগুলোকে একপাক্ষিক হিসেবে ব্যবহার করছে। কমিশনের দেওয়া আল্টিমেটাম প্রসঙ্গে তাঁর সাফ জবাব, তৃণমূল ভয় পেয়ে লড়াই ছাড়বে না বরং শেষ পর্যন্ত মানুষের পাশে থাকবে।
নির্বাচনী প্রভাব ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণ
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই আক্রমণাত্মক অবস্থান মূলত ভোটারদের আবেগ ও আঞ্চলিক আত্মসম্মানকে নাড়া দেওয়ার কৌশল। এনআরসি বা অনুপ্রবেশের মতো বিতর্কিত ইস্যুতে বিজেপিকে পাল্টা চাপে ফেলে তিনি প্রমাণ করতে চাইছেন যে, সীমান্ত নিরাপত্তার ব্যর্থতা আসলে কেন্দ্রেরই ব্যর্থতা। পাশাপাশি, প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনার দায় কমিশনের ওপর চাপিয়ে তিনি সহানুভূতি আদায়ের চেষ্টা করছেন।
একঝলকে
- অমিত শাহের পদত্যাগ দাবি করে সীমান্ত নিরাপত্তার ব্যর্থতাকে দায়ী করেছেন মমতা।
- নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় এজেন্সির নিরপেক্ষতা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন।
- বরানগরের মিছিলে অব্যবস্থাপনার কারণে বড় দুর্ঘটনা থেকে মানুষকে রক্ষার দাবি।
- অনুপ্রবেশকারী তকমা দিয়ে বাংলার মানুষকে অপমান করার অভিযোগ।
- সাধারণ মানুষকে ভোটের মাধ্যমে এই ‘অপমানের বদলা’ নেওয়ার আহ্বান।