হুমায়ুন কবীরের ভাইরাল ভিডিও ঘিরে তোলপাড় বাংলা রাজনীতিতে বিস্ফোরক দাবি তৃণমূলের

হুমায়ুন কবীরের ভাইরাল ভিডিও ঘিরে তোলপাড় বাংলা রাজনীতিতে বিস্ফোরক দাবি তৃণমূলের

পশ্চিমবঙ্গে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই উত্তপ্ত হচ্ছে রাজনৈতিক ময়দান। এবার বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির নেতা হুমায়ুন কবীর। একটি ভাইরাল ভিডিও প্রকাশ্যে এনে তৃণমূল কংগ্রেস দাবি করেছে, মুসলিম ভোট প্রভাবিত করতে বিজেপির সঙ্গে হাজার কোটি টাকার গোপন রফায় জড়িয়েছেন এই নেতা। মুর্শিদাবাদ তথা রাজ্য রাজনীতিতে এই ‘ভিডিও বোমা’ এখন আলোচনার শীর্ষে।

তৃণমূলের অভিযোগ ও ভিডিওর সারমর্ম

তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে পোস্ট করা ওই ভিডিওতে হুমায়ুন কবীরকে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর দাবি করতে শোনা গিয়েছে। শাসক দলের অভিযোগগুলো মূলত নিচে দেওয়া পয়েন্টগুলোর ওপর ভিত্তি করে:

  • বিজেপি আঁতাত: ভিডিও অনুযায়ী, বাবরি মসজিদের দাবি তুলে মুসলিম সমাজের ভাবাবেগ উসকে দেওয়ার বিষয়টি ছিল পূর্বপরিকল্পিত।
  • বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীদের যোগাযোগ: দাবি করা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর দফতরের নির্দেশে আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এবং মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব হুমায়ুনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।
  • আর্থিক লেনদেন: তৃণমূলের দাবি, বর্তমানে হুমায়ুন কবীর যে হেলিকপ্টার ব্যবহার করে প্রচার চালাচ্ছেন, তার খরচ আসলে বিজেপির দেওয়া অর্থে মেটানো হচ্ছে। একে একটি বড় মাপের ‘স্ক্যাম’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে ঘাসফুল শিবির।

অধীর চৌধুরীর কড়া প্রতিক্রিয়া

হুমায়ুন কবীরের এই বিতর্কিত ভিডিও নিয়ে মুখ খুলেছেন বহরমপুরের কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী। তিনি সরাসরি আক্রমণ শানিয়ে বলেন, ‘ধর্মের কল বাতাসে নড়ে।’ অধীর মনে করিয়ে দেন যে, অতীতে তাঁকে রাজনৈতিকভাবে পরাস্ত করার জন্য হুমায়ুনের মুখ দিয়ে সাম্প্রদায়িক উসকানিমূলক কথা বলানো হয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর স্পষ্ট মত, কেন্দ্রীয় এজেন্সির তলবের অপেক্ষায় না থেকে তথ্যপ্রমাণ সামনে এনে অবিলম্বে প্রকৃত অপরাধীদের ধরা উচিত।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ষড়যন্ত্রের পালটা দাবি

নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হুমায়ুন কবীর। তাঁর দাবি, এই ভিডিওটি সম্পূর্ণ ‘ভুয়ো’ এবং এটি এআই (AI) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৃণমূল তৈরি করেছে। এই ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে তিনি তৃণমূলের বিরুদ্ধে ২ হাজার কোটি টাকার মানহানির মামলা করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

রাজনৈতিক সমীকরণের দোলাচল

কয়েক সপ্তাহ আগেই হুমায়ুন কবীর জানিয়েছিলেন যে, ২০২৯ সালের লোকসভা ভোটে তিনি অধীর চৌধুরীকে জেতাতে চান এবং ইউসুফ পাঠানকে হারানোই তাঁর লক্ষ্য। এমনকী তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ ছুড়েছিলেন তিনি। কিন্তু বর্তমান ভিডিও বিতর্ক তাঁর সেই রাজনৈতিক ভাবমূর্তিকে বড়সড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *