১০০০ কোটির ডিল ভিডিও ভুয়ো ও এআই দিয়ে তৈরি দাবি হুমায়ুন কবীরের, পালটা ২ হাজার কোটির মামলার হুঁশিয়ারি

১০০০ কোটির ডিল ভিডিও ভুয়ো ও এআই দিয়ে তৈরি দাবি হুমায়ুন কবীরের, পালটা ২ হাজার কোটির মামলার হুঁশিয়ারি

তৃণমূল কংগ্রেসের তোলা ‘১,০০০ কোটি টাকার ডিল’-এর অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিলেন হুমায়ুন কবীর। তাঁর দাবি, শাসক দলের পক্ষ থেকে যে ভিডিওটি প্রকাশ করা হয়েছে, সেটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ‘এআই’ (AI) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা একটি ভুয়ো ভিডিও। হুমায়ুন কবীর সাফ জানিয়েছেন, তৃণমূল যদি এই ভিডিওর সত্যতা প্রমাণ করতে না পারে, তবে তিনি দলের বিরুদ্ধে ২,০০০ কোটি টাকার মানহানির মামলা করবেন। যদিও এই হুঁশিয়ারির পর তৃণমূলের পক্ষ থেকে নতুন করে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

তৃণমূলের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছিল যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে বিজেপির সঙ্গে ১,০০০ কোটি টাকার একটি গোপন চুক্তি বা ‘ডিল’ করেছেন হুমায়ুন। বেলেঘাটার তৃণমূল প্রার্থী কুণাল ঘোষ দাবি করেন, বিভিন্ন সূত্র থেকে তাঁদের হাতে আসা একটি ভিডিওতে হুমায়ুনকে বিজেপির সঙ্গে এই বিপুল অঙ্কের টাকা নিয়ে আলোচনা করতে দেখা গিয়েছে। তৃণমূলের দাবি অনুযায়ী, ওই ভিডিওতে পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার নামও উল্লেখ করা হয়েছে।

শাসক দলের অভিযোগ, ভিডিওতে হুমায়ুনকে বলতে শোনা গিয়েছে যে মুসলিম ভোটারদের আবেগ নিয়ে খেলা করা বা তাঁদের ‘বোকা বানানো’ খুব সহজ, না হলে ভোট অন্য দিকে চলে যাবে। ভিডিওর ভিত্তিতে তৃণমূল দাবি করেছে, ১,০০০ কোটি টাকার চুক্তির অংশ হিসেবে হুমায়ুন ইতিমধ্যেই অগ্রিম ২০০ কোটি টাকা দাবি করেছেন। এই ঘটনায় আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ তুলে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি-র সক্রিয় হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন কুণাল ঘোষ। তাঁর প্রশ্ন, টাকার লেনদেনের প্রসঙ্গ ওঠার পরেও কেন ইডি চুপ করে বসে আছে? অবিলম্বে হুমায়ুনকে নোটিশ পাঠিয়ে জেরা করার দাবিও তুলেছেন তিনি।

এই রাজনৈতিক টানাপড়েন এখন তুঙ্গে। একদিকে তৃণমূল যেখানে ভিডিওটিকে হাতিয়ার করে দুর্নীতির অভিযোগে সরব হয়েছে, অন্যদিকে হুমায়ুন কবীর একে প্রযুক্তির অপব্যবহার করে তৈরি করা গভীর ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছেন। ভিডিওটির সত্যতা এখনও নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি, তবে মানহানির মামলার হুঁশিয়ারি রাজ্য রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। কারা মুসলিম ভোটব্যাঙ্ক নিয়ে রাজনীতি করছেন, তা প্রকাশ্যে আনার জন্য দু-পক্ষই এখন মরিয়া।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *