মমতা ও অভিষেকের প্রচারে সেন্সরশিপের দাবি, কঠোর পদক্ষেপের আর্জি জানিয়ে কমিশনের দ্বারস্থ বিজেপি

মমতা ও অভিষেকের প্রচারে সেন্সরশিপের দাবি, কঠোর পদক্ষেপের আর্জি জানিয়ে কমিশনের দ্বারস্থ বিজেপি

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে রাজনৈতিক পারদ তুঙ্গে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে প্ররোচনামূলক বক্তব্যের অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছে বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের দাবি, তৃণমূলের এই দুই শীর্ষ নেতার সাম্প্রতিক জনসভাগুলোর বেশ কিছু মন্তব্য নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছে এবং তা ভোটারদের প্রভাবিত করার পাশাপাশি হিংসায় উস্কানি দিতে পারে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তাঁদের নির্বাচনী প্রচারে সেন্সর করার জোরালো আবেদন জানিয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব।

বিজেপির অভিযোগের মূলে রয়েছে পূর্ব বর্ধমানের রায়নায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি বক্তব্য। সেখানে তিনি বিজেপিকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলার প্রসঙ্গে ‘ঘাড় ভেঙে দেওয়া’ এবং ‘মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়ার’ মতো মন্তব্য করেছিলেন। বিজেপি নেতা শিশির বাজোরিয়ার পক্ষ থেকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই ধরনের ভাষা সরাসরি প্ররোচনামূলক। তাঁদের মতে, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় এহেন বক্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং এর জন্য সংশ্লিষ্ট নেতার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

একইভাবে নিশানায় রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। গত ২৫ তারিখ ময়নাগুড়ির এক সভায় তিনি বলেছিলেন যে, নির্বাচনের পরে বিজেপি কর্মীদের পোস্টার লাগিয়ে দলত্যাগ করার পরিস্থিতি তৈরি হবে। বিজেপির দাবি, এই মন্তব্যের মাধ্যমে ভোটার ও বিরোধী কর্মীদের প্রচ্ছন্ন হুমকি দেওয়া হয়েছে, যা অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পরিপন্থী। এই বিষয়টিকে নির্বাচনী আচরণবিধির চরম লঙ্ঘন হিসেবে চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে বিজেপি।

তৃণমূল কংগ্রেস অবশ্য বিজেপির এই অভিযোগকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে নারাজ। ঘাসফুল শিবিরের পালটা দাবি, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেউই কোনো হিংসার উস্কানি দেননি; বরং তাঁরা রাজনৈতিকভাবে বিজেপিকে পরাজিত করার কথা বলেছেন। রাজনৈতিক লড়াইকে বিজেপি ভুলভাবে ব্যাখ্যা করছে বলে তৃণমূলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, উভয় পক্ষের এই চাপানউতোরের মধ্যে নির্বাচন কমিশন শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নেয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *