“আমি জলঢোড়াও নই, বেলেবোড়াও নই, আমি জাত গোখরো!” ফালাকাটায় হুঙ্কার মিঠুনের

“আমি জলঢোড়াও নই, বেলেবোড়াও নই, আমি জাত গোখরো!” ফালাকাটায় হুঙ্কার মিঠুনের

পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী উত্তাপ এখন তুঙ্গে। আলীপুরদুয়ার জেলার ফালাকাটা বিধানসভা কেন্দ্রের মেজবিল রাসমেলা ময়দানে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় যোগ দিয়ে তৃণমূল সরকারের তীব্র সমালোচনা করলেন বিজেপি নেতা তথা বলিউড অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী। বিজেপি প্রার্থী দীপক বর্মনের সমর্থনে আয়োজিত এই সভায় মিঠুন চক্রবর্তীর উপস্থিতি রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

তৃণমূল সরকারের কঠোর সমালোচনা

মিঠুন চক্রবর্তী তার বক্তব্যে শাসকদলের নীতি ও কৌশলের ওপর সরাসরি আক্রমণ শানিয়েছেন। তার ভাষণের মূল বিষয়বস্তু ছিল রাজ্যের কর্মসংস্থান এবং অর্থনৈতিক মডেল।

  • ভাতার রাজনীতি: মিঠুন দাবি করেন যে রাজ্যে কর্মসংস্থানের ব্যাপক অভাব রয়েছে। সরকার মানুষকে স্থায়ী কর্মসংস্থানের পরিবর্তে কেবল বিভিন্ন ভাতার ওপর নির্ভরশীল করে রাখছে।
  • এসআইআর ইস্যু: স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা এসআইআর ইস্যু নিয়ে তিনি শাসকদলের কঠোর সমালোচনা করেন এবং একে প্রশাসনিক ব্যর্থতা হিসেবে চিহ্নিত করেন।
  • ভয়ের রাজনীতি: নির্বাচনী প্রচারে মাছ-মাংস খাওয়া বন্ধ হয়ে যাওয়া সংক্রান্ত যে প্রচার তৃণমূল করছে, তাকে স্রেফ ‘ভয়ের রাজনীতি’ বলে উড়িয়ে দেন তিনি। তিনি জানান, দেশের সর্বত্রই এই খাবারগুলো পাওয়া যায় এবং বিজেপি ক্ষমতায় এলে এমন কিছু হওয়ার সম্ভাবনা ভিত্তিহীন।

রাজনৈতিক ময়দানে মিঠুন ম্যাজিক

রাজনৈতিক আলোচনার বাইরেও এই সভায় প্রধান আকর্ষণ ছিল মিঠুন চক্রবর্তীর ব্যক্তিত্ব এবং তার জনপ্রিয় সংলাপ। আলিপুরদুয়ারের জনসভায় উপচে পড়া ভিড় প্রমাণ করেছে যে রুপালি পর্দার ‘মহাগুরু’র আবেদন সাধারণ মানুষের কাছে আজও অম্লান।

  • সংলাপের ঝড়: সমর্থকদের অনুরোধে তিনি তার সেই বিখ্যাত ডায়ালগ, “মারব এখানে লাশ পড়বে শ্মশানে” এবং “জাত গোখরো” নতুন করে আওড়ান। এই সংলাপগুলো শোনার সময় পুরো ময়দান তালি ও স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে।
  • জনজোয়ার: কোচবিহার থেকে সড়কপথে ফালাকাটায় পৌঁছানোর পর তাকে দেখার জন্য রাস্তার দুপাশে এবং সভাস্থলে সাধারণ মানুষের ব্যাপক ভিড় লক্ষ্য করা যায়।

বিশ্লেষণ ও প্রভাব

মিঠুন চক্রবর্তীর এই সফর এবং বক্তব্য উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কর্মসংস্থানকে ইস্যু করে তিনি শিক্ষিত তরুণ প্রজন্মের ক্ষোভকে উসকে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। অন্যদিকে, ভাতার রাজনীতির সমালোচনা করে তিনি রাজ্যের বর্তমান কল্যাণমুখী প্রকল্পের সীমাবদ্ধতাগুলো সামনে আনার চেষ্টা করেছেন। এই আক্রমণাত্মক প্রচার তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটিতে কতটা ফাটল ধরাতে পারে, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে।

একঝলকে

  • স্থান: ফালাকাটা বিধানসভার মেজবিল রাসমেলা ময়দান।
  • উপলক্ষ: বিজেপি প্রার্থী দীপক বর্মনের সমর্থনে জনসভা।
  • প্রধান বক্তা: মিঠুন চক্রবর্তী।
  • মূল বক্তব্য: রাজ্যে কর্মসংস্থানের অভাব এবং ভাতার ওপর নির্ভরতা।
  • বিশেষ আকর্ষণ: মিঠুন চক্রবর্তীর আইকনিক ফিল্মি ডায়ালগ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *