বাংলায় পতাকা বিক্রিতে ঘাসফুলের একাধিপত্য বিজেপিকে টপকে দ্বিতীয় স্থানে বামেরা

বাংলায় পতাকা বিক্রিতে ঘাসফুলের একাধিপত্য বিজেপিকে টপকে দ্বিতীয় স্থানে বামেরা

বাংলার রাজনীতির লড়াই এখন শুধু জনসভা বা সমাজমাধ্যমে সীমাবদ্ধ নেই, তা পৌঁছে গিয়েছে বড়বাজারের পতাকা মার্কেটেও। আসন্ন নির্বাচনের আবহে কলকাতার অন্যতম বড় পাইকারি বাজার পাগে পট্টিতে এখন সাজ সাজ রব। তবে এই পতাকা বিক্রির লড়াইয়ে এক চমকপ্রদ তথ্য উঠে এসেছে। রাজনৈতিক ময়দানে বিজেপি ও তৃণমূলের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও, পতাকা বিক্রির পরিসংখ্যানে গেরুয়া শিবিরকে পিছনে ফেলে দিয়েছে সিপিএম।

বড়বাজারের পাগে পট্টিতে প্রচারের আমেজ

কলকাতার বড়বাজার এলাকা বরাবরই রাজনৈতিক প্রচার সামগ্রীর প্রধান কেন্দ্র। এখানকার দোকানে ৪ টাকা থেকে শুরু করে ৭০ টাকা পর্যন্ত দামের বিভিন্ন মানের পতাকা পাওয়া যায়। বিক্রেতাদের মতে, নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণার পর থেকেই এখানে ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। তবে এবারের বিক্রির ট্রেন্ড বিশ্লেষকদের অবাক করছে। তৃণমূল কংগ্রেসের পতাকা বিক্রির হার আকাশছোঁয়া হলেও দ্বিতীয় স্থানের লড়াইয়ে বিজেপিকে টেক্কা দিচ্ছে বামপন্থীরা।

কেন পিছিয়ে পড়ছে বিজেপি

পতাকা বিক্রেতা নীরজ টাটিয়ার মতে, তৃণমূলের পতাকা বিক্রির পরিমাণ বাকি সব দলের চেয়ে বহুগুণ বেশি। কিন্তু উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, বিজেপিকে পিছনে ফেলে এখন দুই নম্বরে উঠে এসেছে সিপিএম। এর সম্ভাব্য কারণ হতে পারে তৃণমূল ও বামেদের নিচুতলার কর্মীদের মধ্যে পতাকার মাধ্যমে প্রচারের চিরাচরিত ঝোঁক। অন্যদিকে, বিজেপির প্রচার কৌশলে হয়তো পতাকার চেয়ে অন্যান্য আধুনিক উপকরণের ব্যবহার বেশি দেখা যাচ্ছে।

প্রচারের ধরনে বিবর্তন

ব্যবসায়ী সঞ্জয় চন্দ্র চন্দ্রনানা জানান, রাজনীতির আঙিনায় দলগুলোর মধ্যে যতই তিক্ততা থাকুক, তার প্রভাব দোকানে পড়ে না। সব দলের কর্মীরাই একই দোকানে হাসিমুখে ভিড় করেন। তবে সময়ের সাথে সাথে প্রচারের ধরনে বড় বদল এসেছে। শুধু পতাকায় এখন আর সীমাবদ্ধ নেই রাজনৈতিক দলগুলো। পতাকার পাশাপাশি পাল্লা দিয়ে বিকোচ্ছে:

  • দলীয় প্রতীক সম্বলিত গেঞ্জি ও টুপি
  • চাবির রিং ও ছাতা
  • উত্তরীয় এবং ব্যাজ

ছোট দল ও নির্দল প্রার্থীদের উপস্থিতি

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বড় দলগুলোর পাশাপাশি আইএসএফ ও বিএসপি-র মতো দলগুলোর পতাকারি চাহিদাও রয়েছে। এমনকি নির্দল প্রার্থীদের জন্য আলাদা করে ফরমাস অনুযায়ী পতাকা তৈরি করে দিচ্ছেন দোকানিরা। প্রতিটি দলেরই লক্ষ্য নিজস্ব প্রতীককে ভোটারের ড্রয়িং রুম পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়া।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *