ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ছাড়াই চলবে Google Pay! পকেট মানি ফিচারে বাজিমাত করল গুগল

ডিজিটাল ইন্ডিয়ার পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল গুগল পে। ন্যাশনাল পেমেন্টস কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া (NPCI) এর ‘ইউপিআই সার্কেল’ (UPI Circle) প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে গুগল পে নিয়ে এসেছে ‘পকেট মানি’ ফিচার। এই পরিষেবার মাধ্যমে এখন থেকে নিজের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট না থাকলেও যে কেউ স্মার্টফোনের মাধ্যমে ইউপিআই পেমেন্ট করতে পারবেন। মূলত ছাত্রছাত্রী, শিশু এবং বয়স্কদের কথা মাথায় রেখেই এই বিশেষ সুবিধা চালু করা হয়েছে।
গুগল পে পকেট মানি বা ইউপিআই সার্কেল আসলে কী
এই ব্যবস্থায় একজন মূল ব্যবহারকারী (Primary User) তাঁর বিদ্যমান ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টটি অন্য কোনো ব্যক্তির (Secondary User) সঙ্গে শেয়ার করার অনুমতি দেন। এর ফলে দ্বিতীয় ব্যবহারকারীর নিজস্ব ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থাকার প্রয়োজন পড়ে না। তিনি মূল ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ডিজিটাল কেনাকাটা বা পেমেন্ট সম্পন্ন করতে পারেন।
কারা এবং কীভাবে এটি ব্যবহার করতে পারবেন
এই ফিচারের দুটি প্রধান অংশ রয়েছে:
- প্রাইমারি ইউজার: যাঁর গুগল পে-তে একটি সচল ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট রয়েছে এবং যিনি অন্যদের খরচ করার অনুমতি দেবেন। একজন প্রাইমারি ইউজার সর্বোচ্চ ৫ জন সেকেন্ডারি ইউজারকে নিজের সার্কেলে যুক্ত করতে পারবেন।
- সেকেন্ডারি ইউজার: মূলত ছাত্রছাত্রী বা বয়স্ক ব্যক্তি, যাঁদের নিজস্ব অ্যাকাউন্ট নেই। তাঁরা প্রাইমারি ইউজারের অনুমতিক্রমে টাকা খরচ করতে পারবেন।
লেনদেনের নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা
ডিজিটাল জালিয়াতি রুখতে এবং আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এই ফিচারে কড়া নিয়ন্ত্রণ রাখা হয়েছে। প্রাইমারি ইউজার মূলত দুইভাবে এই নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে পারেন:
- মাসিক সীমা নির্ধারণ: সেকেন্ডারি ইউজারের জন্য মাসে সর্বোচ্চ ১৫,০০০ টাকা পর্যন্ত খরচের সীমা বেঁধে দেওয়া যাবে। এই সীমার মধ্যে লেনদেন করলে প্রতিবার প্রাইমারি ইউজারের অনুমতির প্রয়োজন হবে না।
- প্রতি লেনদেনে অনুমোদন: যদি কোনো মাসিক সীমা নির্দিষ্ট করা না থাকে, তবে সেকেন্ডারি ইউজার প্রতিটি পেমেন্টের জন্য রিকোয়েস্ট পাঠাবেন। প্রাইমারি ইউজার নিজের ফোনে পিন (PIN) দিলেই তবেই টাকা ট্রান্সফার হবে।
অ্যাকাউন্ট শুরু করার পদ্ধতি
গুগল পে অ্যাপের প্রোফাইল সেকশনে গিয়ে ‘UPI Circle’ অপশনটি বেছে নিতে হবে। এরপর সেকেন্ডারি ইউজারের কিউআর (QR) কোড স্ক্যান করে তাঁকে যুক্ত করতে হবে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেকেন্ডারি ইউজারের তথ্যের পাশাপাশি পরিচয়পত্র হিসেবে [Aadhaar Redacted] সংক্রান্ত তথ্য প্রদান করে কেওয়াইসি (KYC) প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। সব শেষে প্রাইমারি ইউজার তাঁর ইউপিআই পিন দিয়ে আমন্ত্রণ প্রক্রিয়াটি চূড়ান্ত করবেন।
প্রভাব ও প্রয়োজনীয়তা
সরকারি নিয়ম মেনে স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই এই কেওয়াইসি প্রক্রিয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এর ফলে অভিভাবকরা যেমন সন্তানদের খরচের ওপর নজর রাখতে পারবেন, তেমনি বয়স্কদের ক্ষেত্রেও ডিজিটাল লেনদেন অনেক বেশি সহজ ও নিরাপদ হবে। মূলত নগদ টাকার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে প্রান্তিক স্তরেও ডিজিটাল বিপ্লব পৌঁছে দেওয়াই এই ফিচারের মূল লক্ষ্য।
একঝলকে
- নিজস্ব ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ছাড়াই ইউপিআই ব্যবহারের সুবিধা।
- একসঙ্গে ৫ জন সেকেন্ডারি ইউজারকে যুক্ত করার সুযোগ।
- মাসে সর্বোচ্চ ১৫,০০০ টাকা পর্যন্ত খরচের সীমা নির্ধারণ।
- প্রতিটি লেনদেন মনিটর করার জন্য প্রাইমারি ইউজারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ।
- নিরাপদ লেনদেনের জন্য কেওয়াইসি (KYC) যাচাইকরণ বাধ্যতামূলক।