স্বামী মৃত, পচাগলা লাশের পাশেই ১০ দিন কাটালেন স্ত্রী!

স্বামী মৃত, পচাগলা লাশের পাশেই ১০ দিন কাটালেন স্ত্রী!

কর্ণাটকের চিকমাগালুর জেলার মুডিগেরে তালুকের কোট্টিগেহারা গ্রামে এক মর্মান্তিক ও শিউরে ওঠার মতো ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। দীর্ঘ ১০ দিন ধরে নিজের মৃত স্বামীর পচনধরা দেহের পাশে বসবাস করেছেন তার মানসিকভাবে অসুস্থ স্ত্রী। উচ্চপদস্থ চাকরিতে থাকা সন্তানরা দূরে থাকায় এবং স্ত্রীর অসুস্থতার কারণে ১০ দিন পর প্রতিবেশীদের মাধ্যমে বিষয়টি জানাজানি হয়।

ঘটনার প্রেক্ষাপট ও মর্মান্তিক পরিণতি

৭৭ বছর বয়সী সিরিল মোনিস বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। প্রায় ১০ দিন আগে ঘুমের মধ্যেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। কিন্তু তার বৃদ্ধা স্ত্রী মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন হওয়ায় স্বামীর মৃত্যুর বিষয়টি উপলব্ধি করতে পারেননি। তিনি ভেবেছিলেন তার স্বামী হয়তো ঘুমাচ্ছেন। এই বিশ্বাস থেকেই তিনি লাশের পাশে দিনরাত কাটিয়ে দেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মরদেহটিতে পচন ধরে পোকা জমতে শুরু করলেও স্ত্রী সেখান থেকে সরেননি।

সন্তানদের অসতর্কতা ও ভুল তথ্য

সিরিল মোনিসের ছেলে বেঙ্গালুরুতে একটি বেসরকারি সংস্থায় উচ্চপদে কর্মরত এবং মেয়ে দুবাইতে শিক্ষকতা করেন। ছেলে প্রতিদিন ফোন করে বাবার স্বাস্থ্যের খোঁজ নিতেন। তবে মা মানসিকভাবে সুস্থ না থাকায় ফোনে প্রতিবারই জানাতেন যে, “বাবা ভালো আছেন, এখন ঘুমাচ্ছেন।” মায়ের এই কথায় আশ্বস্ত হয়ে ছেলেও আর বিস্তারিত খোঁজ নেননি, যা শেষ পর্যন্ত এক ভয়াবহ ট্র্যাজেডিতে রূপ নেয়।

যেভাবে প্রকাশ্যে এল ঘটনা

টানা ১০ দিন অতিক্রান্ত হওয়ার পর ওই বাড়ি থেকে অসহ্য দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করলে প্রতিবেশীদের সন্দেহ হয়। তারা পুলিশে খবর দিলে পুলিশ এসে ঘরের ভেতর থেকে সিরিল মোনিসের বিকৃত মরদেহ উদ্ধার করে। উদ্ধারকাজের সময়ও বৃদ্ধা স্ত্রী বাধা দেন এবং চিৎকার করে বলতে থাকেন, “আমার স্বামী ঠিক আছেন, তাকে কোথাও নিয়ে যেও না।” পরবর্তীতে একজন স্থানীয় সমাজকর্মীর সহায়তায় মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়।

সামাজিক অবক্ষয় ও একাকীত্বের চিত্র

এই ঘটনা আধুনিক সমাজের এক রূঢ় বাস্তবতাকে ফুটিয়ে তুলেছে। সন্তানরা প্রতিষ্ঠিত হওয়া সত্ত্বেও বৃদ্ধ বাবা-মায়ের এই করুণ দশা স্থানীয়দের ব্যথিত করেছে। মাত্র ১৫ দিন আগে বাড়ি থেকে ঘুরে যাওয়ার পরেও বাবার শেষ বিদায়ে সঠিক সময়ে পাশে থাকতে না পারার অনুশোচনায় ভেঙে পড়েন তার পুত্র। শেষ পর্যন্ত বানকাল খ্রিস্টান কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়।

একঝলকে

  • মৃত ব্যক্তির নাম: সিরিল মোনিস (৭৭ বছর)।
  • স্থান: কোট্টিগেহারা, চিকমাগালুর জেলা।
  • সময়কাল: ১০ দিন ধরে লাশের পাশে ছিলেন স্ত্রী।
  • পেশা: ছেলে বেঙ্গালুরুতে চাকরিজীবী ও মেয়ে দুবাইয়ের শিক্ষক।
  • কারণ: স্ত্রীর মানসিক অসুস্থতা এবং সন্তানদের অনুপস্থিতি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *