বিশ্ব বাণিজ্যে নতুন আতঙ্ক! প্রতিটি জাহাজ থেকে ১৮ কোটি দাবি ইরানের, ভাগ চাইছে ট্রাম্পও!

মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘ ৩৯ দিনের যুদ্ধ পরিস্থিতির পর ১৫ দিনের সাময়িক যুদ্ধবিরতি ঘোষিত হলেও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এই সমঝোতা প্রক্রিয়ার মাঝেই তেহরান এক বিতর্কিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ‘হারমুজ প্রণালী’ দিয়ে যাতায়াতকারী প্রতিটি জাহাজের ওপর প্রায় ১৮ কোটি টাকা (২ মিলিয়ন ডলার) টোল আরোপ করার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি পুষিয়ে নিতেই এই বিশাল অঙ্কের টোল নির্ধারণ করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইরানের এই সিদ্ধান্তের পেছনে যেমন অর্থনৈতিক কারণ রয়েছে, তেমনি ভূ-রাজনৈতিক কৌশলও স্পষ্ট। যুদ্ধ চলাকালীন ভারত বাদে প্রায় সব দেশের জন্য এই পথটি বন্ধ রেখেছিল ইরান। এখন পথ উন্মুক্ত করলেও টোলের মাধ্যমে তারা বিপুল রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। অদ্ভুত বিষয় হলো, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই টোল আদায়ের ক্ষেত্রে নিজেদের ভাগ দাবি করে পরোক্ষভাবে ইরানের এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন দিয়েছেন।
ভারতীয় অর্থনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাবের আশঙ্কা
ইরানের এই টোল নীতি যদি ভারতের ক্ষেত্রেও কার্যকর হয়, তবে দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধাক্কা লাগতে পারে। ভারতের আমদানিকৃত অপরিশোধিত তেলের ৫০ শতাংশ এবং এলপিজির ৮০ শতাংশ এই হারমুজ প্রণালী হয়েই আসে।
- ব্যয় বৃদ্ধি: প্রতিদিন গড়ে ১০ থেকে ১২টি ভারতীয় জাহাজ এই পথ দিয়ে চলাচল করে। ফলে দিনে প্রায় ১৮০ থেকে ২০০ কোটি টাকার অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা বাড়তে পারে।
- জ্বালানির দাম: পরিবহন খরচ দ্বিগুণ হয়ে গেলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কম থাকলেও সাধারণ মানুষের জন্য পেট্রোল, ডিজেল ও গ্যাসের দাম আকাশচুম্বী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
- অনিশ্চয়তা: এর আগে ভারত ‘ফ্রি প্যাসেজ’ বা বিনামূল্যে যাতায়াতের সুবিধা পেত। নতুন নিয়মে সেই সুবিধা বজায় থাকবে কি না, তা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা রয়েছে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও কূটনৈতিক তৎপরতা
ইরানের এই পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করেছে প্রতিবেশী দেশ ওমান। তাদের মতে, আন্তর্জাতিক নৌপথে এমন টোল আরোপ আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী। ভারতও শুরু থেকেই এই রুটে অবাধ ও নিরাপদ যাতায়াতের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
এদিকে, এই যুদ্ধবিরতি এবং আলোচনার প্রেক্ষাপট তৈরিতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ ও সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের মধ্যস্থতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। আগামী ১০ এপ্রিল থেকে ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে চূড়ান্ত পর্যায়ের আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
একঝলকে
- হারমুজ প্রণালীতে প্রতি জাহাজে ২ মিলিয়ন ডলার বা ১৮ কোটি টাকা টোল ঘোষণা ইরানের।
- টোল আদায়ের ভাগে ভাগ বসাতে চায় যুক্তরাষ্ট্র।
- ভারতের তেল আমদানির অর্ধেক এবং এলপিজির ৮০ শতাংশ এই রুটেই আসে।
- প্রতিদিন ভারতের অতিরিক্ত ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ের সম্ভাবনা।
- পাকিস্তান সরকারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ১৫ দিনের যুদ্ধবিরতি।
- ১০ এপ্রিল থেকে ইসলামাবাদে শুরু হবে চূড়ান্ত শান্তি বৈঠক।