সাবধান! পুরনো ফোন বাসনওয়ালাকে দিচ্ছেন? আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সাফ হতে পারে মুহূর্তে

পুরানো স্মার্টফোন বদলে বাসন নিচ্ছেন? অজান্তেই নিজের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও ব্যক্তিগত তথ্য তুলে দিচ্ছেন আন্তর্জাতিক হ্যাকারদের হাতে। উত্তরপ্রদেশ ও বিহার পুলিশের সাম্প্রতিক একটি যৌথ অভিযানে উঠে এসেছে এমনই এক চাঞ্চল্যকর তথ্য, যা শুনলে চমকে উঠবেন যে কেউ।
আন্তর্জাতিক ডেটা পাচার চক্রের পর্দা ফাঁস
উত্তরপ্রদেশের মির্জাপুরে একটি সন্দেহভাজন ট্রাকে তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ প্রায় ১১,৬০৫টি পুরনো মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে। উদ্ধারকৃত এই ফোনগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১ কোটি টাকা। এই ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে এক বিশাল আন্তর্জাতিক সাইবার অপরাধ চক্রের কথা। বিহারের কাটিহারের বাসিন্দা ইস্তার আলম এই পুরো চক্রের মূল হোতা। বাইরে থেকে তাকে একটি ছোট মোবাইল মেরামতের দোকানের মালিক মনে হলেও, আসলে সে আন্তর্জাতিক সাইবার অপরাধীদের কাছে ভারতের নাগরিকদের তথ্য পাচারের প্রধান মাধ্যম হিসেবে কাজ করত।
যেভাবে কাজ করে এই চক্র
এই চক্রটি অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে ভারতের বিভিন্ন বড় শহর যেমন হায়দ্রাবাদ, দিল্লি এবং তামিলনাড়ুতে তাদের নেটওয়ার্ক ছড়িয়ে দিয়েছে।
- প্রলোভন দেখিয়ে সংগ্রহ: এই চক্রের এজেন্টরা পুরনো ভাঙা বা অকেজো ফোনের বদলে চকচকে স্টিলের বাসন বা প্লাস্টিকের কৌটো দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের, বিশেষ করে মহিলাদের কাছ থেকে ফোন সংগ্রহ করে।
- মাদারবোর্ড পাচার: সংগৃহীত ফোনগুলো থেকে মাদারবোর্ড আলাদা করা হয়। এরপর এগুলো অবৈধভাবে চীন, বাংলাদেশ, কম্বোডিয়া, মালয়েশিয়া এবং মিয়ানমারে পাচার করা হয়।
- তথ্য পুনরুদ্ধার: ফোন নষ্ট বা ভাঙা হলেও এর ভেতরে থাকা রম (ROM) চিপটি সুরক্ষিত থাকে। বিদেশি হ্যাকাররা অত্যাধুনিক সফটওয়্যারের মাধ্যমে এই চিপ থেকে ডিলিট করা ছবি, পাসওয়ার্ড এবং ব্যাংকিং তথ্য উদ্ধার করে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খালি করে দেয়।
ব্যক্তিগত ও জাতীয় নিরাপত্তার ঝুঁকি
পুরানো ফোনের মাধ্যমে ব্যক্তিগত তথ্য চুরি হওয়া শুধু একজন ব্যক্তির জন্য আর্থিক ক্ষতি নয়, এটি দেশের নিরাপত্তার জন্যও বড় হুমকি। আপনার অজান্তেই আপনার ব্যক্তিগত ডেটা দেশের বাইরে পাচার হয়ে যাচ্ছে, যা ভয়াবহ সাইবার যুদ্ধের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।
সুরক্ষিত থাকতে যা করবেন
আপনার পুরনো ফোন যেন আপনার বিপদের কারণ না হয়, সেজন্য বিশেষজ্ঞ ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে কিছু সতর্কতা জারি করা হয়েছে:
- রাস্তার হকারদের ফোন দেবেন না: সামান্য বাসন বা কম টাকার লোভে অপরিচিত ব্যক্তিদের হাতে পুরনো ফোন তুলে দেবেন না।
- পরিচয়পত্র যাচাই: যদি ফোন বিক্রি করতেই হয়, তবে ক্রেতার সরকারি পরিচয়পত্র (যেমন প্যান কার্ড বা অন্যান্য বৈধ আইডি) যাচাই করে নিন।
- রসিদ সংগ্রহ: ফোন বিক্রির সময় অবশ্যই আইএমইআই (IMEI) নম্বর সম্বলিত একটি রসিদ বুঝে নিন। ভবিষ্যতে কোনো অপরাধে ফোনটি ব্যবহৃত হলে এই রসিদ আপনাকে নির্দোষ প্রমাণ করতে সাহায্য করবে।
- ফ্যাক্টরি রিসেট: ফোন হাতবদল করার আগে অবশ্যই সেটির ডেটা পুরোপুরি ডিলিট করে ‘ফ্যাক্টরি রিসেট’ করতে ভুলবেন না।
- অনুমোদিত কেন্দ্র: শুধুমাত্র সরকারি স্বীকৃত বা নামী কো ম্পা নির অফিশিয়াল রিসাইক্লিং সেন্টারে পুরনো ফোন জমা দিন।
একঝলকে
- পুলিশ ১১,৬০৫টি পুরনো ফোনসহ আন্তর্জাতিক পাচার চক্রের পর্দা ফাঁস করেছে।
- বাসনের বদলে পুরনো ফোন নিয়ে সেই মাদারবোর্ড বিদেশে পাচার করা হচ্ছিল।
- হ্যাকাররা নষ্ট ফোন থেকেও ব্যক্তিগত ছবি ও ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য উদ্ধার করতে সক্ষম।
- ফোন বিক্রির আগে অবশ্যই ফ্যাক্টরি রিসেট এবং বৈধ রসিদ নেওয়া বাধ্যতামূলক।