হাতে লেখা খুনিদের নাম! পুলিশের ওপর ক্ষোভ উগরে দিয়ে মর্মান্তিক পরিণতি কৃষকের

হাতে লেখা খুনিদের নাম! পুলিশের ওপর ক্ষোভ উগরে দিয়ে মর্মান্তিক পরিণতি কৃষকের

মহারাষ্ট্রের লাতুর জেলায় এক মর্মান্তিক ঘটনায় প্রশাসনের অমানবিক চেহারা ফুটে উঠেছে। নিজের স্ত্রীর শ্লীলতাহানির বিচার চাইতে গিয়ে পুলিশের হয়রানি ও ঘুষের দাবিতে অতিষ্ঠ হয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন এক কৃষক। মৃত্যুর আগে নিজের হাতের ওপর অভিযুক্তদের নাম লিখে তিনি এক ভয়াবহ প্রতিবাদের স্বাক্ষর রেখে গেছেন। এই ঘটনাটি বর্তমানে পুরো লাতুর জেলাসহ সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

ঘটনার সূত্রপাত ও নির্মম বাস্তবতা

ঘটনার শুরু গত ২১ ফেব্রুয়ারি, যখন গণেশ কেন্দ্রী নামের এক ব্যক্তি ওই কৃষকের স্ত্রীর শীলতাহানি করে। এই অপমানের বিচার পেতে ভুক্তভোগী কৃষক জলকোট থানায় অভিযোগ জানাতে যান। কিন্তু অভিযোগ গ্রহণ করে ব্যবস্থা নেওয়ার বদলে পুলিশ সদস্যরা তাঁর সঙ্গে অত্যন্ত দুর্ব্যবহার শুরু করেন।

ঘুষের দাবি ও পুলিশের ভূমিকা

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, থানায় বারবার চক্কর কাটলেও পুলিশ মামলা বা এফআইআর (FIR) নিতে অস্বীকার করে। উল্টো মামলা দায়ের করার বিনিময়ে পুলিশ সদস্যরা ওই অসহায় কৃষকের কাছে ২৫,০০০ টাকা ঘুষ দাবি করেন। রক্ষক যখন ভক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়, তখন সাধারণ মানুষের পিঠ দেওয়ালে ঠেকে যায়— এই ঘটনাই তার জলজ্যান্ত প্রমাণ।

দ্বিমুখী হয়রানি ও মানসিক চাপ

একদিকে পুলিশি অসহযোগিতা এবং অন্যদিকে অভিযুক্তদের ক্রমাগত হুমকি ওই কৃষককে কোণঠাসা করে ফেলে। অভিযুক্ত তুলসীদাস কেন্দ্রী, গণেশ কেন্দ্রী এবং শিবাজি কেন্দ্রী অভিযোগ তুলে নেওয়ার জন্য কৃষককে প্রাণনাশের হুমকি দিতে থাকে। ন্যায়বিচার না পেয়ে এবং চরম অপমানের গ্লানি সহ্য করতে না পেরে গত ৬ এপ্রিল রাতে বিষপান করে আত্মহত্যা করেন তিনি।

হাতের ওপর লেখা মরণবাণী

আত্মহত্যার আগে ওই কৃষক তাঁর শরীরে ও হাতের ওপর দায়ী ব্যক্তিদের নাম লিখে যান। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, অভিযুক্তরা তাঁকে প্রতিনিয়ত মারধরের হুমকি দিচ্ছিল। তাঁর পকেটে একটি চিরকুটও পাওয়া গেছে যেখানে বিস্তারিতভাবে এই যন্ত্রণার বর্ণনা দেওয়া ছিল।

প্রশাসনের পদক্ষেপ ও বর্তমান অবস্থা

জনরোষের মুখে পড়ে জেলা পুলিশ প্রশাসন নড়েচড়ে বসেছে। কৃষককে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে মূল অভিযুক্তদের পাশাপাশি কর্তব্যরত পুলিশ কর্মী শিবাজি রামদাস কেন্দ্রী এবং মাণিক সন্তারাম কাসবে-র বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের করা হয়েছে। মোট ছয়জনকে আসামি করে বর্তমানে তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

একঝলকে

  • ঘটনার স্থান: লাতুর জেলা, মহারাষ্ট্র।
  • মূল অভিযোগ: কৃষকের স্ত্রীর শ্লীলতাহানির বিচার না পাওয়া।
  • পুলিশের ভূমিকা: মামলা নিতে ২৫,০০০ টাকা ঘুষের দাবি।
  • ভুক্তভোগীর পদক্ষেপ: হাতের ওপর অভিযুক্তদের নাম লিখে বিষপান করে আত্মহত্যা।
  • আইনি ব্যবস্থা: অভিযুক্তদের পাশাপাশি দুই পুলিশ কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *