মোদির গ্যারান্টি কি শুধুই জুমলা হুমায়ুন ডিল বিতর্কে উত্তাল বাংলা

ভোটের আবহে বাংলার রাজনৈতিক পারদ এখন তুঙ্গে। বৃহস্পতিবার রাজ্যে তিনটি জনসভা করে নির্বাচনী প্রচার সেরেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তবে প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, মোদির ভাষণে বাংলার মানুষের জন্য কোনো গঠনমূলক আশ্বাস ছিল না, বরং ছিল ‘সিনেমাটিক হুমকি’। বিশেষ করে আমজনতা উন্নয়ন পার্টির নেতা হুমায়ুন কবীরের ফাঁস হওয়া ভিডিও বা ‘ডিল’ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে শাসকদল।
মোদির ভাষণ ও তৃণমূলের তোপ
বৃহস্পতিবার বিকেল তৃণমূল ভবনে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্যের দুই মন্ত্রী ব্রাত্য বসু এবং শশী পাঁজা প্রধানমন্ত্রীকে তীব্র আক্রমণ করেন। ব্রাত্য বসুর দাবি, প্রধানমন্ত্রী তাঁর জনসভাগুলোতে কেবল মিথ্যাচার করেছেন। তৃণমূলের পক্ষ থেকে একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে দাবি করা হয়েছে যে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের (PMO) সঙ্গে সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে একটি বিশেষ চক্রের। ব্রাত্য বসু প্রশ্ন তোলেন, এই ভিডিওর সত্যতা নিয়ে কেন মোদি একটি শব্দও খরচ করলেন না?
তৃণমূলের দাবি, যেহেতু প্রধানমন্ত্রী এই বিষয়ে নীরব ছিলেন, তাই এখন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কাছ থেকে এর সদুত্তর চায় তারা। শুক্রবার রাজ্যে অমিত শাহের ঠাসা কর্মসূচি রয়েছে, সেখানে এই ‘ডিল’ প্রসঙ্গ উঠবে কি না, সেটাই এখন দেখার।
হুমায়ুন কবীর ও ১০০০ কোটি টাকার রহস্য
সম্প্রতি একটি স্টিং অপারেশন এবং ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ্যে আসায় রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। তৃণমূলের অভিযোগ অনুযায়ী, ওই ভিডিওতে হুমায়ুন কবীরকে বলতে শোনা গেছে যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারানোর জন্য বিজেপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে তাঁর ১০০০ কোটি টাকার একটি ‘ডিল’ হয়েছে। এমনকি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের সঙ্গেও তাঁর কথা হয়েছে বলে ভিডিওতে দাবি করা হয়েছে। যদিও এই ভিডিওর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি, তবে তৃণমূল একে হাতিয়ার করে বিজেপির বিরুদ্ধে গোপন আঁতাঁতের অভিযোগ এনেছে।
হুমকির রাজনীতি বনাম উন্নয়নের হিসাব
জনসভা থেকে প্রধানমন্ত্রীর ‘চুন চুন কে হিসাব লুঙ্গা’ বা বেছে বেছে হিসাব নেওয়ার হুঁশিয়ারিকে কটাক্ষ করেছেন ব্রাত্য বসু। তিনি পালটা প্রশ্ন করেন, দেশের প্রধানমন্ত্রীর মুখে কেন এমন হুমকির সুর শোনা যাচ্ছে? তাঁর মতে, ২০২১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বাংলাকে কেন্দ্র যে বঞ্চনা করেছে, সেই হিসাব বরং বাংলার মানুষ প্রধানমন্ত্রীর কাছে চাইবে।
অন্যদিকে, শশী পাঁজা বিজেপির ‘গ্যারান্টি’ শব্দটিকে ‘জুমলা’ বা প্রতারণা বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে, প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসগুলো আসলে বাস্তবায়িত হওয়ার নয়। বিজেপির ইশতেহার বা ‘সংকল্পপত্র’ নিয়েও শাসকদল তাদের আপত্তির কথা জানিয়েছে।
আসন্ন রাজনৈতিক প্রভাব
হুমায়ুন কবীর ইস্যুতে বিজেপির নীরবতা এবং তৃণমূলের ধারাবাহিক আক্রমণ ভোটারদের মনে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে ‘বঞ্চনার হিসাব’ এবং ‘গোপন আঁতাঁত’-এর এই বয়ান ভোটের ময়দানে বিজেপিকে কিছুটা রক্ষণাত্মক অবস্থানে ঠেলে দিতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।