চশমা কি ঝক্কি মনে হচ্ছে? ল্যাসিক সার্জারির আগে এই ৮টি তথ্য না জানলে হতে পারে বড় বিপদ!

চশমা কি ঝক্কি মনে হচ্ছে? ল্যাসিক সার্জারির আগে এই ৮টি তথ্য না জানলে হতে পারে বড় বিপদ!

চশমা বা কন্টাক্ট লেন্সের ঝামেলা থেকে মুক্তি পেতে বর্তমানে লেসিক (LASIK) সার্জারি অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। আধুনিক জীবনযাত্রায় খেলাধুলা, অফিস বা ভ্রমণের প্রয়োজনে অনেকেই স্থায়ী সমাধানের পথ খুঁজছেন। তবে বিজ্ঞাপনী চমকে প্রলুব্ধ হয়ে হুটহাট সিদ্ধান্ত নেওয়া চোখের স্বাস্থ্যের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে কর্নিয়ার গঠন এবং শরীরের সামগ্রিক অবস্থা বিবেচনা না করলে হিতে বিপরীত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

লেসিক সার্জারি আসলে কী

লেসিক হলো একটি লেজার ভিত্তিক অস্ত্রোপচার, যার পূর্ণ রূপ ‘লেজার-অ্যাসিস্টেড ইন সিটু কেরাটোমিলিউসিস’। এই পদ্ধতিতে চোখের সামনের স্বচ্ছ অংশ বা কর্নিয়ার আকার লেজারের মাধ্যমে পরিবর্তন করা হয়। এতে আলোর রশ্মি সরাসরি রেটিনার ওপর পড়ে, ফলে চশমা ছাড়াই দৃষ্টিশক্তি স্বচ্ছ হয়ে ওঠে।

সার্জারির আগে যে বিষয়গুলো জানা জরুরি

যেকোনো সার্জারির মতোই লেসিকের ক্ষেত্রেও কিছু সীমাবদ্ধতা ও নিয়ম রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা নিচের বিষয়গুলোতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন:

  • উপযুক্ততা যাচাই: চোখের পাওয়ার থাকলেই লেসিক করা যায় না। রোগীর বয়স এবং অন্তত গত এক বছর চোখের পাওয়ার স্থিতিশীল থাকা জরুরি। কর্নিয়ার পুরুত্ব এবং গঠন ঠিক থাকলে তবেই এই সার্জারি সম্ভব।
  • কখন সার্জারি এড়িয়ে চলবেন: কর্নিয়া পাতলা হলে বা কেরাটোকোনাস জাতীয় রোগ থাকলে লেসিক করা বিপজ্জনক। এছাড়া অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, অটো-ইমিউন রোগ বা চোখের ইনফেকশন থাকলে এই পদ্ধতি এড়িয়ে চলা উচিত।
  • বয়সের ভূমিকা: সাধারণত ১৮ বছরের নিচে এই সার্জারি করা হয় না। আবার ৪০ বছর বয়সের পর স্বাভাবিক নিয়মেই মানুষের কাছের দৃষ্টি কমে যায় (প্রেসবায়োপিয়া), যা লেসিকের মাধ্যমে পুরোপুরি দূর করা সম্ভব নয়।
  • সাধারণ ভুল ধারণা: লেসিক মানেই যে সারা জীবনের জন্য চশমা থেকে মুক্তি, বিষয়টি সবসময় তেমন নয়। এটি বর্তমান দৃষ্টিত্রুটি সংশোধন করে মাত্র। বয়সের কারণে ভবিষ্যতে চোখের ক্ষমতায় পরিবর্তন আসতে পারে।
  • জরুরি পরীক্ষা-নিরীক্ষা: অস্ত্রোপচারের আগে ‘কর্নিয়াল টোপোগ্রাফি’র মাধ্যমে চোখের আকার ও শক্তি পরীক্ষা করা হয়। এছাড়া রেটিনা পরীক্ষার মাধ্যমে চোখের ভেতরের কোনো দুর্বলতা আছে কি না তাও নিশ্চিত হতে হয়।

বিকল্প ও আধুনিক প্রযুক্তি

যদি কর্নিয়া পাতলা হওয়ার কারণে লেসিক করা সম্ভব না হয়, তবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা পিআরকে (PRK) বা সারফেস অ্যাবলেশন করার পরামর্শ দেন। অন্যদিকে, যাদের চোখের পাওয়ার অনেক বেশি, তাদের জন্য আইসিএল (ICL) বা বাড়তি লেন্স সংযোজন একটি কার্যকর পদ্ধতি। বর্তমানে স্মাইল (SMILE) বা সিল্ক (SILK)-এর মতো উন্নত প্রযুক্তি চলে এসেছে, যাতে কর্নিয়ার ওপর কোনো বড় কাটাছেঁড়া ছাড়াই দ্রুত সুস্থ হওয়া সম্ভব।

সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

অস্ত্রোপচারের পর কিছুদিনের জন্য চোখ শুকনো বোধ করা (Dry Eye) বা আলোর দিকে তাকালে ঝাপসা লাগার মতো সমস্যা হতে পারে। তবে অভিজ্ঞ সার্জন এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে এই ঝুঁকি এখন অনেকটাই কমে এসেছে।

একঝলকে

  • লেসিক করার আগে চোখের পাওয়ার কমপক্ষে এক বছর স্থির থাকতে হবে।
  • গর্ভবতী বা স্তন্যদানকারী মায়েদের হরমোনজনিত পরিবর্তনের কারণে এই সার্জারি কিছুদিনের জন্য পিছিয়ে দেওয়া উচিত।
  • ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে সুগার নিয়ন্ত্রণে থাকা বাধ্যতামূলক।
  • এটি কোনো জাদুকরী সমাধান নয়, বরং একটি সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা পদ্ধতি যা কর্নিয়ার গঠনের ওপর নির্ভর করে।
  • যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অন্তত ২০ বছরের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *