আম আদমি পার্টিতে চরম কোন্দল নতুন দল গড়ার পথে কি রাঘব চাড্ডা

আম আদমি পার্টির অন্দরে দীর্ঘদিনের চাপা উত্তেজনা এখন প্রকাশ্যে। বিশেষ করে দলের তরুণ ও প্রভাবশালী নেতা রাঘব চাড্ডার একটি সাম্প্রতিক সোশ্যাল মিডিয়া মন্তব্য ভারতের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। রাজ্যসভার এই সাংসদ কি তবে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের ছায়া থেকে বেরিয়ে নিজের পৃথক রাজনৈতিক অস্তিত্ব তৈরি করতে চাইছেন? এই প্রশ্নই এখন ঘোরাফেরা করছে দিল্লির রাজনৈতিক অলিন্দে।
জেন জি পার্টি ও রাঘবের রহস্যময় ইঙ্গিত
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক সমর্থক দাবি করেন যে, দেশের তরুণ প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষা পূরণে রাঘব চাড্ডার উচিত নিজস্ব একটি রাজনৈতিক দল গঠন করা। সেই সমর্থক দলটির নাম হিসেবে ‘জেন জি পার্টি’ প্রস্তাব করেন। সাধারণত এ ধরনের জল্পনায় নেতারা নীরব থাকলেও রাঘব চাড্ডা সেখানে মন্তব্য করেছেন ‘ইন্টারেস্টিং থট’ বা ‘বেশ আকর্ষণীয় চিন্তাভাবনা’। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ছোট বাক্যটি আসলে আম আদমি পার্টির শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি এক প্রচ্ছন্ন বার্তা এবং নিজের স্বতন্ত্র পথে হাঁটার আগাম সংকেত।
আপ নেতৃত্বের সাথে ক্রমবর্ধমান দূরত্ব
রাঘব চাড্ডার এই পদক্ষেপ হঠাৎ করে নেওয়া কোনো সিদ্ধান্ত নয়। গত কয়েক মাস ধরেই দলের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব স্পষ্ট হয়েছে। এর প্রধান কারণগুলো হলো:
- পদচ্যুতি: রাজ্যসভায় দলের ডেপুটি লিডারের পদ থেকে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
- কণ্ঠরোধের চেষ্টা: অভিযোগ উঠেছে যে, সংসদীয় বিতর্কে চাড্ডার বক্তব্য রাখার সুযোগ সীমিত করা হচ্ছে, যা দলের অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রের অভাবকে ফুটিয়ে তোলে।
- নীতিগত সংঘাত: প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাবে সই করতে অস্বীকার করা চাড্ডা ও আপ নেতৃত্বের মধ্যে ফাটলকে চূড়ান্ত রূপ দেয়।
নেতৃত্বের অভিযোগ ও পাল্টা চ্যালেঞ্জ
দলের গুরুত্বপূর্ণ নেত্রী আতিশী এবং সৌরভ ভরদ্বাজ সরাসরি রাঘব চাড্ডার বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন। তাঁদের দাবি, কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে গিয়ে চাড্ডা ‘ভয়’ পাচ্ছেন। অন্যদিকে, রাঘবও চুপ করে থাকার পাত্র নন। পাঞ্জাব ইস্যু থেকে শুরু করে নিজের বর্তমান অবস্থান নিয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, এখন যা দেখছেন তা কেবল ‘ট্রেলার’, আসল ঘটনা এখনো বাকি। এই চ্যালেঞ্জিং সুরই বলে দিচ্ছে যে আপ-এর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক এখন খাদের কিনারায়।
সুযোগ সন্ধানী বিজেপি ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ
এই অভ্যন্তরীণ বিবাদকে পুঁজি করতে দেরি করেনি বিজেপি। দিল্লি বিজেপি সভাপতি বীরেন্দ্র সচদেব দাবি করেছেন, কেজরিওয়ালের পুরনো অভ্যাস হলো ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের কাজ ফুরোলে ছুড়ে ফেলা। যদিও ২০২৮ সাল পর্যন্ত রাঘব চাড্ডার রাজ্যসভার মেয়াদ সুরক্ষিত, কিন্তু ২০২৫ সালের দিল্লি নির্বাচনের আগে নতুন দল গঠনের জল্পনা আম আদমি পার্টির কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের মধ্যে চাড্ডার যে জনপ্রিয়তা রয়েছে, তা হাতছাড়া হওয়া আপ-এর জন্য বড় ক্ষতি হতে পারে।