কাজের টোপ দিয়ে নরকযন্ত্রণা! নাসিকের নামী সংস্থায় তরুণীদের ধর্ম পরিবর্তনের জন্য চরম হেনস্থা

কাজের টোপ দিয়ে নরকযন্ত্রণা! নাসিকের নামী সংস্থায় তরুণীদের ধর্ম পরিবর্তনের জন্য চরম হেনস্থা

মহারাষ্ট্রের নাসিক শহরে একটি বহুজাতিক সংস্থায় (MNC) কর্মরতা তরুণীদের লক্ষ্য করে চলা এক ভয়াবহ ধর্মান্তর চক্রের হদিস মিলেছে। আধ্যাত্মিক নগরী হিসেবে পরিচিত নাসিকের একটি স্বনামধন্য সংস্থায় চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তরুণীদের ধর্মীয় বিশ্বাসে আঘাত হানা এবং তাদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। ২০২২ সাল থেকে লোকচক্ষুর আড়ালে এই চক্রটি সক্রিয় ছিল বলে জানা গেছে।

যেভাবে চলত এই চক্র

তদন্তে উঠে এসেছে যে, ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সী তরুণীদের মূলত লক্ষ্যবস্তু করত এই অপরাধী চক্র। বিশেষ করে যারা আর্থিক অনটনে ভুগছেন, তাদের চাকরির টোপ দিয়ে জালে ফেলা হতো। এরপর শুরু হতো নির্যাতনের নতুন অধ্যায়:

  • ধর্মীয় বাধ্যবাধকতা: হিন্দু তরুণীদের জোর করে নামাজ পড়তে বাধ্য করা হতো এবং ইসলাম ধর্ম গ্রহণের জন্য তীব্র মানসিক চাপ সৃষ্টি করা হতো।
  • খাদ্যাভ্যাসে হস্তক্ষেপ: ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার উদ্দেশ্যে এই তরুণীদের জোর করে গোমাংস (বীফ) খাওয়ানোর চেষ্টা করা হতো। এতে আসাম্মতি জানালে চলত শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার।
  • যৌন হয়রানি: শুধুমাত্র ধর্মীয় চাপই নয়, কর্মক্ষেত্রে এই তরুণীদের ওপর ভয়াবহ যৌন নির্যাতন চালানো হতো বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

আইনি পদক্ষেপ ও গ্রেপ্তার

এই ঘটনার ভয়াবহতা সামনে আসতেই পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত বিভিন্ন থানায় মোট ৯টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

১. গ্রেপ্তার: পুলিশ এই চক্রের সঙ্গে জড়িত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে। ধৃতরা হলো আসিফ আনসারী, শফি শেখ, শাহরুখ কুরেশি, রাজা মেমন এবং তৌসিফ আত্তার। এই ঘটনায় জড়িত এক নারী অভিযুক্ত বর্তমানে পলাতক রয়েছে।

২. ধর্ষণ মামলা: মুম্বাই নাকা থানায় ধর্মীয় উস্কানি ও হেনস্তার মামলা দায়ের হলেও, দেওলালি ক্যাম্প থানায় এক তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে পৃথক মামলা করা হয়েছে।

এসআইটি গঠন ও তদন্তের বিস্তার

মামলার গুরুত্ব বিবেচনা করে নাসিক পুলিশ কমিশনার একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করেছেন। এসআইটি-র প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে যে, শুধু নারীরাই নন, ওই সংস্থার এক পুরুষ কর্মীকেও জোরপূর্বক ধর্মান্তরিত করা হয়েছে। এই চক্রের পেছনে কোনো আন্তর্জাতিক যোগসূত্র বা বড় কোনো নেটওয়ার্ক কাজ করছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন এসিপি পদমর্যাদার কর্মকর্তারা।

শিল্পাঞ্চলে উদ্বেগ ও নিরাপত্তা নির্দেশনা

নাসিকের মতো একটি শান্ত শহরে এই ধরনের ঘটনায় শিল্প মহলে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। প্রশাসন থেকে প্রতিটি বেসরকারি সংস্থায় ‘অভ্যন্তরীণ অভিযোগ কমিটি’ (ICC) সক্রিয় করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুলিশ কমিশনার জানিয়েছেন, কোনো ভুক্তভোগী থাকলে তারা যেন নির্ভয়ে যোগাযোগ করেন; তাদের পরিচয় গোপন রাখা হবে।

একঝলকে

  • ঘটনা: নাসিকের একটি এমএনসিতে জোরপূর্বক ধর্মান্তর ও যৌন নির্যাতনের অভিযোগ।
  • টার্গেট: ১৮-২৫ বছর বয়সী অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া তরুণীরা।
  • নির্যাতনের ধরণ: জোর করে নামাজ পড়ানো, গোমাংস খাওয়ানো এবং যৌন হেনস্তা।
  • বর্তমান অবস্থা: ৯টি মামলা দায়ের ও ৫ জন মূল অভিযুক্ত গ্রেপ্তার।
  • তদন্ত: পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) কাজ করছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *