ভোটার তালিকা থেকে ৯০ লাখ নাম বাদ নিয়ে তোলপাড় প্রচার বন্ধের দাবিতে সরব এসআইআর বিরোধী ঐক্য উদ্যোগ

পশ্চিমবঙ্গের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ৯০ লক্ষ মানুষের নাম বাদ পড়া নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ৭ এপ্রিল পর্যন্ত মোট ৯০ লক্ষ ৮৩ হাজার ৩৪৫ জন নাগরিকের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং নাগরিকদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে সরব হয়েছে ‘এসআইআর বিরোধী ঐক্য উদ্যোগ’।
নাগরিকত্ব ও ভোটাধিকার নিয়ে গভীর সংকট
ভোটার তালিকা থেকে এত বিপুল সংখ্যক নাম বাদ পড়ার বিষয়টিকে অগণতান্ত্রিক বলে অভিহিত করছে বিভিন্ন সংগঠন। মুখ্যমন্ত্রী ইতিমধ্যেই আশ্বাস দিয়েছেন যে, বাদ পড়া ভোটারদের নাম পুনরায় তালিকায় তোলার জন্য ট্রাইব্যুনালের দ্বারস্থ হওয়া হবে। অন্যদিকে, এই পরিস্থিতির প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার একটি সাংবাদিক বৈঠক করে ‘এসআইআর বিরোধী ঐক্য উদ্যোগ’। সংগঠনটির পক্ষ থেকে বর্তমান নির্বাচনী প্রচার প্রক্রিয়া অবিলম্বে বাতিলের দাবি জানানো হয়েছে।
সংগঠনের প্রধান দাবিগুলো
আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে ‘এসআইআর বিরোধী ঐক্য উদ্যোগ’ মোট আটটি দাবি পেশ করেছে। তাদের উল্লেখযোগ্য দাবিগুলি হলো:
- অবিলম্বে সমস্ত নির্বাচনী প্রচার প্রক্রিয়া বাতিল করতে হবে।
- এনআরসি এবং নাগরিকত্ব বাছাইয়ের সকল প্রক্রিয়া বন্ধ রাখতে হবে।
- ২০২৫ সালের ভোটার তালিকার সঙ্গে ১৮ বছর বয়সীদের নাম যুক্ত করে নতুন তালিকা তৈরি করতে হবে, অন্যথায় এই নির্বাচন প্রক্রিয়া বাতিল করতে হবে।
- এসআইআর সংক্রান্ত কারণে হওয়া মৃত্যু ও আত্মহত্যার নিরপেক্ষ বিচারবিভাগীয় তদন্ত করতে হবে।
- কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন এবং ট্রাইব্যুনাল প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে হবে।
বিশেষজ্ঞ ও বিশিষ্টজনদের উদ্বেগ
এ দিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মানবাধিকার কর্মী সুজাত ভদ্র, সঙ্গীতশিল্পী মৌসুমী ভৌমিক এবং ড. সাইফুল্লা। ড. সাইফুল্লা বিষয়টির সামাজিক ও আইনি জটিলতা ব্যাখ্যা করে বলেন, ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া নাগরিকদের মধ্যে বড় একটি অংশ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের। কাগজপত্রের সমস্যার কারণে অনেকের নাগরিকত্ব প্রশ্নের মুখে পড়ছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আগে প্রতিটি মানুষের নাগরিকত্ব নিশ্চিত করতে হবে এবং প্রয়োজনে আইনের পরিবর্তন ঘটিয়ে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে হবে।
প্রভাব ও বিশ্লেষণ
একসঙ্গে ৯০ লক্ষ মানুষের নাম বাদ পড়া কেবল প্রশাসনিক ত্রুটি নয়, বরং এটি একটি বড় সামাজিক সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে। যদি বিপুল সংখ্যক মানুষ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হন, তবে নির্বাচনের নৈতিক ভিত্তি দুর্বল হতে পারে। বিরোধীদের মতে, নাগরিকত্ব বাছাইয়ের এই প্রক্রিয়া সাধারণ মানুষের মনে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে, যার ফলে আত্মহত্যার মতো চরম ঘটনাও ঘটছে। এই পরিস্থিতিতে ট্রাইব্যুনাল প্রক্রিয়া কতটা দ্রুত এবং স্বচ্ছভাবে কাজ করে, তার ওপরই নির্ভর করছে বহু মানুষের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ।