ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া ৬৩ শতাংশই হিন্দু চাঞ্চল্যকর তথ্য দিল তৃণমূল

রাজ্যের ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়ায় বড়সড় রদবদল সামনে এসেছে। নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক তথ্যের ওপর ভিত্তি করে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের করা একটি বিশ্লেষণ রাজনৈতিক মহলে শোরগোল ফেলে দিয়েছে। তৃণমূলের দাবি অনুযায়ী, রাজ্যজুড়ে বাদ পড়া ৯১ লক্ষ ভোটারের মধ্যে সিংহভাগই হিন্দু সম্প্রদায়ের।
তৃণমূলের পরিসংখ্যান ও অবাক করা তথ্য
তৃণমূলের বিশ্লেষণ বলছে, বাদ পড়া ভোটারদের মধ্যে প্রায় ৬৩ শতাংশ হিন্দু এবং ৩৪ শতাংশ মুসলিম। শাসক শিবিরের দাবি, দীর্ঘ যাচাই প্রক্রিয়ার পর যে নামগুলো বাদ দেওয়া হয়েছে, সেখানে অ-মুসলিম ভোটারদের সংখ্যাই বেশি। বিশেষ করে মৃত ও স্থানান্তরিত ভোটারদের তালিকার বাইরেও যে বিশাল সংখ্যক নাম কাটা গেছে, সেখানেও একই চিত্র ধরা পড়েছে।
তৃণমূলের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী:
- এসআইআর-এর প্রথম পর্বে বাদ পড়া ৫৮ লক্ষ ভোটারের মধ্যে ৪৪ লক্ষই হিন্দু।
- মুসলিম নাম বাদ পড়ার সংখ্যা ১৩ লক্ষের কিছু বেশি।
- গত ৭ এপ্রিল পর্যন্ত নিষ্পত্তি হওয়া ২৭ লক্ষ নামের ক্ষেত্রেও হিন্দুদের সংখ্যাই বেশি।
ভবানীপুর কেন্দ্রের চিত্র
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কেন্দ্র ভবানীপুরের তথ্যকে মডেল হিসেবে তুলে ধরছে তৃণমূল। সেখানে ৪৫ লক্ষ ভোটারের মধ্যে প্রায় ৫১ হাজার নাম বাদ পড়েছে। এর মধ্যে ৩৭ হাজার ২২৭ জন হিন্দু এবং মাত্র ১২ হাজার জন মুসলিম। মৃত ও স্থানান্তরিত ভোটারের তালিকায় যেখানে ৩২ হাজার ৮৭১ জন হিন্দু, সেখানে মুসলিমের সংখ্যা ১০ হাজার ৪৬০। চূড়ান্ত তালিকায় বাদ পড়া ২,৩৪২ জনের মধ্যে ২,২৯২ জনই হিন্দু ভোটার।
রাজনৈতিক বিরোধ ও প্রতিক্রিয়া
তৃণমূলের এই তথ্য প্রকাশ নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছে বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের প্রশ্ন, নির্বাচন কমিশন ধর্মভিত্তিক কোনো তথ্য না দিলেও শাসকদল এই পরিসংখ্যান কোথায় পেল? এর নেপথ্যে কি কোনো সরকারি কর্মীদের কারসাজি রয়েছে? পাল্টা জবাবে তৃণমূল জানিয়েছে, সাংগঠনিক স্তরে বুথভিত্তিক কাজ করার ফলেই এই নির্ভুল তথ্য পাওয়া সম্ভব হয়েছে। তৃণমূলের দাবি, বিজেপি যেভাবে অনুপ্রবেশের দোহাই দিয়ে মুসলিম ভোটারদের ওপর আঙুল তোলে, এই তথ্য তাকে মিথ্যা প্রমাণ করে। উল্টে বাদ পড়া হিন্দুদের মধ্যে বড় অংশ মতুয়া সম্প্রদায়ের বলে দাবি করেছে শাসকদল।