ঋতুস্রাব কি অস্পৃশ্যতা? শবরীমালা মামলায় কেন্দ্রকে নজিরবিহীন তোপ সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির

ঋতুস্রাব কি অস্পৃশ্যতা? শবরীমালা মামলায় কেন্দ্রকে নজিরবিহীন তোপ সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির

সবরিমলা মন্দিরে ঋতুস্রাব চলাকালীন নারীদের প্রবেশে বাধা দেওয়া এবং একে ‘অস্পৃশ্যতা’ হিসেবে গণ্য করার প্রথা নিয়ে ভারতের সর্বোচ্চ আদালতে এক ঐতিহাসিক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের নয় সদস্যের সাংবিধানিক বেঞ্চে এই মামলার শুনানির সময় জাস্টিস বি.ভি. নাগারত্নর একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে আইনি ও সামাজিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তাঁর সরাসরি প্রশ্নে আদালত কক্ষে এক অভূতপূর্ব নীরবতা নেমে আসে।

জাস্টিস নাগারত্নর প্রশ্ন ও যুক্তির লড়াই

শুনানির সময় জাস্টিস নাগারত্ন নারীদের প্রাকৃতিক শারীরিক প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা সামাজিক ও ধর্মীয় বিধিনিষেধের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি জানতে চান, যদি কোনো নারীকে তিন দিন ঋতুস্রাবের কারণে ‘অস্পৃশ্য’ মনে করা হয়, তবে চতুর্থ দিনে তিনি হঠাৎ কীভাবে ‘পবিত্র’ হয়ে ওঠেন?

  • লিঙ্গ বৈষম্য বনাম প্রথা: জাস্টিস নাগারত্ন মন্তব্য করেন যে, এটি কেবল ধর্মীয় প্রথা নয়, বরং স্পষ্টত লিঙ্গ বৈষম্য।
  • ২০১৮ সালের রায়ের প্রতিফলন: বর্তমান শুনানিতে ২০১৮ সালে তৎকালীন বিচারপতি ডি.ওয়াই. চন্দ্রচূড়ের দেওয়া সেই ঐতিহাসিক পর্যবেক্ষণের উল্লেখ করা হয়, যেখানে বলা হয়েছিল যে নারীদের মন্দিরে প্রবেশে বাধা দেওয়া অস্পৃশ্যতা অনুশীলনের সমান।

কেন্দ্রের অবস্থান ও পাল্টা যুক্তি

কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা এই ব্যাখ্যার তীব্র বিরোধিতা করেন। তিনি ভারতীয় সমাজব্যবস্থাকে পশ্চিমা দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে বিচার না করার অনুরোধ জানান।

  • বয়সভিত্তিক বিধিনিষেধ: কেন্দ্রের যুক্তি অনুযায়ী, সবরিমলায় সব নারীর ওপর নিষেধাজ্ঞা নেই। এটি কেবল ১০ থেকে ৫০ বছর বয়সী নারীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। তাই একে জাতিভিত্তিক অস্পৃশ্যতার সাথে তুলনা করা ঠিক হবে না।
  • অনন্য বৈশিষ্ট্য (Sui Generis): মেহতা উল্লেখ করেন যে, বিশ্বজুড়ে অন্যান্য আয়াপ্পা মন্দিরে নারীদের প্রবেশাধিকার রয়েছে। সবরিমলার নিয়মটি একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় বিশেষত্ব বা অনন্য প্রথা হিসেবে দেখা উচিত।

পটভূমি ও বর্তমান পরিস্থিতি

২০১৮ সালে পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ সব বয়সের নারীর জন্য সবরিমলা মন্দিরের দ্বার খুলে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই রায়কে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে প্রতিবাদ ও পুনর্বিবেচনার আবেদন জমা পড়ে। পরবর্তীতে বিষয়টির গভীর সাংবিধানিক পর্যালোচনার জন্য নয় সদস্যের বৃহত্তর বেঞ্চে মামলাটি স্থানান্তরিত হয়। এই আইনি লড়াই এখন প্রথা বনাম সাংবিধানিক অধিকারের এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে।

একঝলকে

  • জাস্টিস নাগারত্ন ঋতুস্রাবকালীন অস্পৃশ্যতার তর্ককে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করেছেন।
  • কেন্দ্রীয় সরকার একে অস্পৃশ্যতা নয় বরং অনন্য ধর্মীয় ঐতিহ্য বলে দাবি করেছে।
  • বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ১০ থেকে ৫০ বছর বয়সী নারীদের প্রবেশাধিকার।
  • নয় সদস্যের সাংবিধানিক বেঞ্চে এই ঐতিহাসিক মামলার শুনানি চলছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *