ইরান ইজরায়েল সংঘাত নিয়ে ভারতের কূটনৈতিক সীমাবদ্ধতা ও পাকিস্তানের ভূমিকার প্রশংসা ওমরের
.jpeg?w=678&resize=678,452&ssl=1)
জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আব্দুল্লাহ ইরান ও ইজরায়েলের চলমান সংঘাত নিয়ে ভারতের কূটনৈতিক অবস্থান ও বৈদেশিক নীতি নিয়ে চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেছেন। তিনি সংঘাত নিরসনে পাকিস্তানের ভূমিকার প্রশংসা করে জানান, পাকিস্তান এমন কিছু করে দেখিয়েছে যা অন্য কেউ করতে পারেনি। ওমরের মতে, ইজরায়েলের সঙ্গে ভারতের অতি ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বর্তমানে একটি কৌশলগত দুর্বলতা হিসেবে দেখা দিচ্ছে। ভারত যদি এই সম্পর্কের ক্ষেত্রে কিছুটা দূরত্ব বজায় রাখত, তবে আমেরিকা ও ইরান—উভয় পক্ষের সাথেই সুসম্পর্ক থাকার সুবাদে নয়াদিল্লি আরও কার্যকর ভূমিকা নিতে পারত।
মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানান, ইজরায়েলের সঙ্গে অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠতার কারণেই ভারত নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করতে ব্যর্থ হয়েছে। তবে যেভাবেই হোক যুদ্ধবিরতি হওয়াকে তিনি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবেই দেখছেন। তিনি বলেন, যুদ্ধবিরতি কার্যকরে যদি পাকিস্তানের কোনো বিশেষ অবদান থেকে থাকে, তবে তা নিঃসঙ্কোচে স্বীকার করা উচিত। ওমরের মতে, এই যুদ্ধ ইরানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং এর ফলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে।
আমেরিকার প্রেসিডেন্টের অস্থির আচরণেরও তীব্র সমালোচনা করেন ওমর আব্দুল্লাহ। তিনি অভিযোগ করেন যে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের বক্তব্যে কোনো স্থিরতা নেই—সকাল, দুপুর ও সন্ধ্যায় তিনি ভিন্ন ভিন্ন কথা বলছেন। একজন রাষ্ট্রপ্রধানের এমন ভাষা ও ঘন ঘন হুমকি দেওয়া শোভন নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন। সাধারণ মানুষ সামাজিক মাধ্যমে এমন আচরণ করলে যেখানে তাঁদের অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়, সেখানে রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়াকে তিনি পক্ষপাতমূলক বলে উল্লেখ করেন।
সংঘাতের স্থায়ী সমাধান নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন, এই যুদ্ধের প্রকৃত উদ্দেশ্য কী ছিল? তিনি জানান, যুদ্ধবিরতির পর আমেরিকা একে সাফল্য দাবি করলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। যে সমুদ্রপথ আগে সবার জন্য উন্মুক্ত ছিল, এখন সেখানে শুল্ক আদায়ের কথা বলা হচ্ছে। লেবাননে নিরীহ মানুষ নিধন ও বোমাবর্ষণ বন্ধ না হলে শান্তি অধরাই থাকবে। পরিশেষে তিনি সতর্ক করে দেন যে, ইজরায়েলের ওপর নিয়ন্ত্রণ না আনলে এবং যুদ্ধবিরতি ব্যর্থ হলে তার সম্পূর্ণ দায় ইজরায়েলকেই নিতে হবে।