উপসাগরীয় সংকটেও সুরক্ষিত ভারত গ্যাস ও ওষুধের পর্যাপ্ত মজুতসহ দাম থাকবে স্থিতিশীল

পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান অস্থিরতা ও বিশ্বজুড়ে সরবরাহ শৃঙ্খল বিঘ্নিত হওয়া সত্ত্বেও ভারতের সাধারণ মানুষের ওপর এর কোনো প্রভাব পড়বে না বলে আশ্বস্ত করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। সম্প্রতি একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় ব্রিফিংয়ে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, দেশে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও জ্বালানির পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। আন্তর্জাতিক সংকটের দোহাই দিয়ে ওষুধের দাম বাড়ানোর কোনো আশঙ্কা নেই, কারণ ওষুধ তৈরির কাঁচামাল সরবরাহ সচল রাখতে সরকার বিশেষ কৌশল গ্রহণ করেছে। ফলে সাধারণ মানুষ আগের মতোই স্বাভাবিক দামে জীবন রক্ষাকারী ওষুধ পাবেন।
রান্নার গ্যাসের ক্ষেত্রেও স্বস্তির খবর দিয়েছে প্রশাসন। দেশে এলপিজি সিলিন্ডারের সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে এবং কালোবাজারি রুখতে ডেলিভারি অথেন্টিকেশন কোড (DAC) ব্যবস্থা কড়াকড়িভাবে কার্যকর করা হয়েছে। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, গত ফেব্রুয়ারি মাসের তুলনায় সিলিন্ডারের দৈনিক বিক্রি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। পাশাপাশি, পাইপলাইনের গ্যাসের (PNG) ব্যবহার বৃদ্ধিতেও জোর দেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি ওমান ও ইরানের মধ্যবর্তী হরমোজ প্রণালীর সংবেদনশীল পথ অতিক্রম করে এলপিজি বাহী জাহাজ ‘গ্রিন আশা’ নিরাপদে জওহরলাল নেহেরু বন্দরে পৌঁছেছে, যা জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করে।
দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারের পাশাপাশি বিদেশে আটকে পড়া নাগরিকদের নিরাপত্তাতেও সরকার সমান তৎপর। তেহরানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসের বিশেষ অভিযানে ইতিমধ্যে ২,১৭০ জন ভারতীয়কে নিরাপদ পথে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। ভূ-রাজনৈতিক এই উত্তেজনার মধ্যেই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও মজবুত করতে আগামী ১১ ও ১২ এপ্রিল সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরে যাচ্ছেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী। এই সফর দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্বকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সাহায্য করবে বলে মনে করা হচ্ছে।