‘হাতে সময় মাত্র ৩-৬ মাস!’ মৃত্যুর মুখ থেকে কীভাবে ফিরেছিলেন যুবরাজ? শোনালেন সেই রোমহর্ষক গল্প

ভারতের ক্রিকেট ইতিহাসের কিংবদন্তি অলরাউন্ডার যুবরাজ সিং মানেই এক লড়াকু মানসিকতার প্রতিচ্ছবি। ২০১১ সালের বিশ্বকাপে স্টুয়ার্ট ব্রডকে ছয় বলে ছয়টি ছক্কা মারার স্মৃতি আজও ভক্তদের মনে অম্লান। তবে মাঠের সেই বীরত্বের চেয়েও বড় এক লড়াই তিনি লড়েছিলেন জীবনের পিচে। সম্প্রতি ইংল্যান্ডের প্রাক্তন অধিনায়ক মাইকেল ভনের একটি পডকাস্টে অংশ নিয়ে যুবরাজ শুনিয়েছেন তাঁর সেই যন্ত্রণাদায়ক অথচ অনুপ্রেরণাদায়ক ক্যান্সার জয়ের নেপথ্যের গল্প।
যখন যমদূত কড়া নাড়ছিল দরজায়
২০১১ সালের বিশ্বকাপ জয়ে যুবরাজের অবদান ছিল অনস্বীকার্য। পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে ক্লান্তি, বমিভাব এবং অসহ্য শারীরিক কষ্ট নিয়ে খেললেও তিনি কাউকে বুঝতে দেননি। সিরিজের সেরা খেলোয়াড় হওয়ার আনন্দ ম্লান হয়ে যায় যখন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানা যায়, তাঁর হার্ট ও ফুসফুসের মাঝে একটি টিউমার দানা বেঁধেছে। চিকিৎসকরা তাঁকে জানিয়েছিলেন যে, যদি দ্রুত চিকিৎসা শুরু না করা হয় তবে তিনি হয়তো আর মাত্র ৩ থেকে ৬ মাস বেঁচে থাকবেন। একজন বিশ্বসেরা অ্যাথলিটের কাছে জীবনের এই চরম সত্যটি ছিল বজ্রপাতের মতো।
খেলোয়াড়ি মানসিকতা বনাম শারীরিক সীমাবদ্ধতা
পডকাস্টে যুবরাজ বলেন, একজন খেলোয়াড় হিসেবে সবসময় শরীরের সংকেতকে উপেক্ষা করে দেশের জন্য লড়ার মানসিকতা তৈরি করা হয়। সেই জেদ থেকেই তিনি অসুস্থতা নিয়ে বিশ্বকাপ শেষ করেছিলেন। কিন্তু ক্যান্সার ধরা পড়ার পর তাঁকে কঠোর বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয়। ২০১১-১২ সালে আমেরিকায় পাড়ি জমান কেমোথেরাপির জন্য। সেই দিনগুলো ছিল অসহ্য যন্ত্রণার এবং অনিশ্চয়তার। এক বছর সময় লেগেছিল কেবল মানসিকভাবে এটি মেনে নিতে যে, তিনি হয়তো আর কখনও হাতে ব্যাট তুলে নিতে পারবেন না।
ফিরে আসার রূপকথা এবং প্রভাব
চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে ফিরলেও কেউ বিশ্বাস করেনি যে তিনি পুনরায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরতে পারবেন। কিন্তু যুবরাজ দমে যাননি। ২০১৭ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তাঁর করা ১৫০ রানের ইনিংসটি ছিল বিশ্ব ক্রিকেটের কাছে এক বড় জবাব। যদিও অসুস্থতা পূর্ববর্তী সেই বিধ্বংসী ফর্ম সবসময় বজায় রাখা কঠিন ছিল, তবুও তাঁর এই কামব্যাক ক্যানসার আক্রান্ত লক্ষ লক্ষ মানুষের কাছে সাহসের অন্য নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাঁর এই লড়াই প্রমাণ করে যে, সঠিক সময়ে চিকিৎসা এবং অদম্য মানসিক শক্তি থাকলে মৃত্যুর মুখ থেকেও ফিরে আসা সম্ভব।
একঝলকে
- সংকট: ২০১১ বিশ্বকাপের সময় থেকেই অসুস্থ ছিলেন, পরে ধরা পড়ে হার্ট ও ফুসফুসের মাঝে টিউমার।
- চিকিৎসকের সতর্কবার্তা: দ্রুত চিকিৎসা না করালে বাঁচার সম্ভাবনা ছিল মাত্র ৩ থেকে ৬ মাস।
- চিকিৎসা: আমেরিকায় এক বছর ধরে কেমোথেরাপি ও দীর্ঘ লড়াই।
- প্রত্যাবর্তন: ২০১৭ সালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ১৫০ রানের অবিশ্বাস্য ইনিংস খেলে পুনরায় সামর্থ্যের প্রমাণ।
- মূল বার্তা: শারীরিক কষ্টের চেয়েও মানসিক শক্তির জয় এবং ক্যানসার নিয়ে সচেতনতা।