তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের মেঘ কাটাতে চিনের মাস্টারস্ট্রোক! ইরানের পিছু হটার আসল কারণ ফাঁস

মধ্যপ্রাচ্যে ঘনাতে থাকা যুদ্ধের কালো মেঘ আপাতত অপসারিত। বিশ্বজুড়ে চরম উত্তেজনার মাঝে ইরানকে যুদ্ধের পথ থেকে সরিয়ে আনতে নেপথ্যে অনুঘটকের কাজ করেছে চিন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘নিউইয়র্ক পোস্ট’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির মুখে ইরান যখন প্রত্যাঘাতের প্রস্তুতি নিচ্ছিল, ঠিক তখনই বেজিংয়ের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নাটকীয় মোড় নেয়। চিনের চাপে পড়ে শেষ মুহূর্তে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মতি জানিয়েছেন।
মূলত অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের হাত থেকে ইরানকে বাঁচাতেই বেজিং এই পদক্ষেপ নিয়েছে। চিন স্পষ্ট করে দেয় যে, আমেরিকার তেল ও পরিকাঠামো ক্ষেত্রে আক্রমণ চালালে পাল্টা হামলায় ইরানের অর্থনীতি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাবে। এছাড়া রাশিয়া বা পাকিস্তানের সমর্থন থাকলেও আমেরিকা-ইজরায়েল জোটের বিরুদ্ধে জেতা আসাম্ভব বলে ইরানকে সতর্ক করে বেজিং। বদলে যুদ্ধবিরতিতে রাজি হলে ইরানের পুনর্গঠনে বিপুল সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছে চিন।
এই সমঝোতায় বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’ পুনরায় খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা এএফপি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্পও চিনের এই ভূমিকার প্রশংসা করে তাদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন যে, ইরান যদি এই চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করে, তবে আমেরিকা পুনরায় সামরিক পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করবে না। এই মুহূর্তে গোটা বিশ্বের নজর এখন আগামী দুই সপ্তাহের স্থিতাবস্থার দিকে।