বিচারের বদলে জুটল লাঞ্ছনা ও ঘুষের দাবি! হাতের পাতায় দোষীদের নাম লিখে কৃষকের চরম পথ

মহারাষ্ট্রের লাতুর জেলার জলকোট থানা এলাকায় এক কৃষকের আত্মহত্যার ঘটনা গোটা দেশকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, নিজের স্ত্রীর শ্লীলতাহানির বিচার চাইতে গিয়ে খোদ পুলিশি হয়রানি ও ঘুষের দাবির মুখে পড়েন ওই কৃষক। বিচার পাওয়ার আশা হারিয়ে অবশেষে গত ৬ এপ্রিল রাতে বিষপান করে নিজের জীবন শেষ করে দেন তিনি। চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, মৃত্যুর আগে তিনি নিজের হাতের তালুতে অভিযুক্ত পুলিশকর্মী ও ঘটনার নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের নাম লিখে রেখে যান।
ঘটনার সূত্রপাত গত ২১ ফেব্রুয়ারি, যখন গণেশ কেন্দ্রা নামে এক ব্যক্তি ওই কৃষকের স্ত্রীকে শ্লীলতাহানি করে। এই অপমানের প্রতিকার চাইতে থানায় গেলে সহযোগিতা করার বদলে পুলিশ উল্টো ২৫,০০০ টাকা ঘুষ দাবি করে বলে অভিযোগ। একদিকে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা এবং অন্যদিকে অভিযুক্তদের ক্রমাগত খুনের হুমকির মুখে ওই কৃষক তীব্র মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। মৃত্যুর আগে তিনি স্পষ্টভাবে লিখে যান যে, অভিযুক্তদের হুমকি ও পুলিশের অসহযোগিতাই তাঁকে এই চরম পথ বেছে নিতে বাধ্য করেছে।
এই মর্মান্তিক ঘটনার প্রতিবাদে জেলাজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়লে প্রশাসন নড়েচড়ে বসে। কর্তব্যরত পুলিশকর্মী শিবাজি রামদাস কেন্দ্র এবং মানিক সান্তারাম কাসবে সহ মোট ছয়জনের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনা ও ঘুষ চাওয়ার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। স্থানীয় সমাজ ও সাধারণ মানুষ দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।