‘বদলা নয় বদল’ থেকে ‘গণতান্ত্রিক বদলা’, উত্তর ২৪ পরগনায় মমতার রণহুঙ্কার!

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-কে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে এখন টানটান উত্তেজনা। বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘সবকা হিসাব’ নেওয়ার হুঙ্কারের পাল্টা হিসেবে শুক্রবার তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিলেন ‘গণতান্ত্রিক বদলা’র ডাক। উত্তর ২৪ পরগনার তিনটি জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী ভোটারদের উদ্দেশ্যে স্পষ্ট জানান, এই বদলা হবে ভোটের বাক্সে এবং সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ উপায়ে।
স্লোগান যুদ্ধ: ‘বদলে’র পর এবার ‘বদলা’
২০১১ সালে রাজ্যে পরিবর্তনের সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রধান স্লোগান ছিল ‘বদলা নয়, বদল চাই’। কিন্তু ১৫ বছর পর সেই অবস্থান থেকে সরে এসে তিনি সরাসরি ‘বদলা’ নেওয়ার কথা বলছেন। তৃণমূলনেত্রীর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এই বদলা হলো নিজের অধিকার রক্ষার লড়াই। বিজেপি যে ভাবে সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিতে চাইছে, তার বিরুদ্ধে গর্জে ওঠাই এখন তৃণমূলের প্রধান হাতিয়ার।
ভোটার তালিকা ও ‘সার’ বিতর্ক
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ‘সার’ (SIR) প্রক্রিয়া। তাঁর দাবি, এই প্রক্রিয়ার আড়ালে নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করে বিজেপি বাংলার লক্ষ লক্ষ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার চক্রান্ত করছে।
- বিপুল সংখ্যক নাম কর্তন: মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেছেন, সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী প্রায় ৯১ লক্ষ মানুষের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে।
- সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের অভিযোগ: মমতার দাবি, বাদ পড়া নামের মধ্যে প্রায় ৬০ লক্ষই হিন্দু ধর্মাবলম্বী। এই তথ্যটি তিনি খতিয়ে দেখছেন বলেও জানান।
- এনআরসি আতঙ্ক: আসামের এনআরসি প্রসঙ্গ টেনে তিনি ভোটারদের সতর্ক করেন যে, তালিকায় নাম না থাকা মানেই আগামীতে এনআরসি ও ডিটেনশন ক্যাম্পের মুখে পড়া।
বিজেপির ভোটারদের প্রতি আবেদন
এ দিনের সভা থেকে এক নজিরবিহীন আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি গত নির্বাচনে বিজেপিকে ভোট দেওয়া ভোটারদের কাছে অনুরোধ করেন, এবার যেন তাঁরা তৃণমূলকে সমর্থন করেন। তাঁর যুক্তি, বিজেপি ক্ষমতায় এলে কারো ভোটাধিকারই সুরক্ষিত থাকবে না। ‘অ্যাজুডিকেশন’ বা যাচাইকরণের পর যে ২৭ লক্ষ মানুষ তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন, তাঁদের আশ্বস্ত করে তিনি জানান, এই লড়াই সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হবে।
পাল্টা কটাক্ষ বিজেপির
তৃণমূলনেত্রীর এই আক্রমণাত্মক মেজাজকে ‘হারের ভয়’ হিসেবেই দেখছে গেরুয়া শিবির। বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ রাহুল সিনহা কটাক্ষ করে বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বদলের স্লোগান দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন আর বদলার স্লোগান দিতে দিতেই ক্ষমতা থেকে বিদায় নেবেন। বিজেপির দাবি, দুর্নীতি ও অপশাসনের হিসেব দিতে হবে বলেই মুখ্যমন্ত্রী এখন জনগণের সামনে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছেন।
একঝলকে
- মমতার ডাক: বিজেপিকে ভোট না দিয়ে ‘গণতান্ত্রিক বদলা’ নেওয়ার আহ্বান।
- প্রধান ইস্যু: ভোটার তালিকা থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষের নাম বাদ পড়া।
- পরিসংখ্যান: ৯১ লক্ষ মানুষের নাম বাদ পড়ার অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রীর।
- কড়া অবস্থান: বাংলায় এনআরসি বা ডিটেনশন ক্যাম্প করতে না দেওয়ার অঙ্গীকার।
- বিজেপির প্রতিক্রিয়া: মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যকে ‘হারের ভয়ে প্রলাপ’ বলে আখ্যা।