‘আগে ১২ বছরের হিসেব দিন’, ইস্তেহার প্রকাশের দিনই বিজেপিকে মুখোমুখি বিতর্কের চ্যালেঞ্জ অভিষেকের

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরগরম বাংলার রাজনীতি। একদিকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তৃণমূলের গত ১৫ বছরের শাসনের বিরুদ্ধে ‘শ্বেতপত্র’ প্রকাশের ঘোষণা করেছেন, অন্যদিকে বাংলার বকেয়া পাওনা নিয়ে পাল্টা শ্বেতপত্রের দাবিতে সরব হয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার বিকেলে বিজেপির নির্বাচনী ইস্তেহার বা ‘সংকল্পপত্র’ প্রকাশের পর সাংবাদিক বৈঠকে বিজেপির বিরুদ্ধে দুর্নীতির দ্বিচারিতা ও পরিবারবাদের অভিযোগ তুলে তীব্র আক্রমণ শাণান অভিষেক।
শ্বেতপত্রের পাল্টা শ্বেতপত্র: অভিষেকের চ্যালেঞ্জ
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ শুক্রবার ঘোষণা করেন যে, বিজেপি ক্ষমতায় এলে তৃণমূল সরকারের দুর্নীতি ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ে শ্বেতপত্র প্রকাশ করা হবে। এর জবাবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, শ্বেতপত্র প্রকাশ করা ভালো উদ্যোগ, কিন্তু তার আগে বিজেপিকে গত ১২ বছরে বাংলার জনকল্যাণমূলক প্রকল্পে কেন্দ্রের বরাদ্দের হিসাব দিতে হবে।
- পুরানো চ্যালেঞ্জের পুনরাবৃত্তি: অভিষেক মনে করিয়ে দেন যে, ২০২৪-এর লোকসভা ভোটের আগেও তিনি এই শ্বেতপত্র চেয়েছিলেন। দীর্ঘ ৭৫৭ দিন পার হয়ে গেলেও বিজেপি সেই প্রশ্নের কোনো জবাব দেয়নি।
- খোলা বিতর্ক: গত ১২ বছরের কেন্দ্রীয় বরাদ্দ এবং বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলোর উন্নয়ন নিয়ে সামনাসামনি বিতর্কে বসার জন্য বিজেপি নেতৃত্বকে পুনরায় চ্যালেঞ্জ জানান তিনি।
দুর্নীতি ও ‘ওয়াশিং মেশিন’ তত্ত্ব
বিজেপির দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করার দাবিকে নস্যাৎ করে দিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। একটি নির্দিষ্ট ছবি দেখিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, তথাকথিত কয়লা মাফিয়ারা আজ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সখ্যতা রাখছেন।
- তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন: জয়দেব খাঁ-র মতো ব্যক্তিদের কেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলো (ED/CBI) জিজ্ঞাসাবাদ করছে না, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি।
- নেতাদের তালিকা: হিমন্ত বিশ্বশর্মা, নারায়ণ রাণে এবং অজিত পাওয়ারের প্রসঙ্গ টেনে অভিষেক দাবি করেন, বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পরেই তাঁদের বিরুদ্ধে তদন্ত থমকে গিয়েছে। তিনি একে বিজেপির ‘ওয়াশিং মেশিন’ রাজনীতি বলে কটাক্ষ করেন।
পরিবারবাদ ও মুখ্যমন্ত্রী পদ নিয়ে তোপ
বিজেপি বরাবরই তৃণমূলের বিরুদ্ধে পরিবারবাদের অভিযোগ তুলে আসে। শুক্রবার পাল্টা হিসেবে শুভেন্দু অধিকারী, অর্জুন সিং এবং শান্তনু ঠাকুরের পরিবারের সদস্যদের প্রার্থী হওয়ার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন অভিষেক। তাঁর মতে, বিজেপির অভ্যন্তরেই সবথেকে বড় পরিবারবাদ বিদ্যমান।
পাশাপাশি, বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী কে হবেন, তা নিয়ে শাহের নীরবতাকে বিজেপির ‘দুর্বলতা’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন তিনি। সুকান্ত মজুমদার, শুভেন্দু অধিকারী কিংবা মিঠুন চক্রবর্তী— বিজেপির অন্দরে মুখ্যমন্ত্রী মুখ নিয়ে যে ধোঁয়াশা রয়েছে, তা নিয়ে ব্যঙ্গ করতে ছাড়েননি অভিষেক।
একঝলকে
- পাল্টা দাবি: বাংলার বকেয়া পাওনা ও বরাদ্দ নিয়ে বিজেপির কাছে শ্বেতপত্র চেয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
- বিতর্কের আহ্বান: কেন্দ্রীয় অনুদান নিয়ে বিজেপির সাথে সামনাসামনি বিতর্কে বসার চ্যালেঞ্জ বহাল রেখেছেন তিনি।
- দুর্নীতির অভিযোগ: কয়লা মাফিয়াদের সঙ্গে বিজেপি নেতাদের যোগসূত্র ও কেন্দ্রীয় সংস্থাকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন।
- পরিবারবাদ: শুভেন্দু অধিকারী ও অন্যান্য বিজেপি নেতাদের পরিবারের প্রার্থীদের উদাহরণ দিয়ে পরিবারবাদের পাল্টা তোপ দেগেছেন।
- মুখ্যমন্ত্রী পদ: বিজেপির সুনির্দিষ্ট কোনো মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী না থাকাকে দলের সাংগঠনিক ব্যর্থতা হিসেবে দাবি করেছেন তিনি।