পদ্মের ‘সংকল্প’ কি শুধুই ‘জুমলা’? ১৫ দফা ইস্তেহার নিয়ে বিজেপিকে ধুয়ে দিলেন অভিষেক!

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে রাজনৈতিক পারদ তুঙ্গে। শুক্রবার বিজেপির ১৫ দফা সংকল্পপত্র প্রকাশের পর থেকেই শাসক-বিরোধী সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে। বিজেপির এই নির্বাচনী ইস্তেহারকে সরাসরি ‘জুমলা’ বা মিথ্যাচার বলে আক্রমণ করেছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, বিজেপি শাসিত অন্য রাজ্যগুলোতেও এই ধরণের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা হয়নি, ফলে বাংলার ক্ষেত্রেও তারা একই পথে হাঁটবে।
সংকল্প বনাম জুমলা বিতর্কের নেপথ্যে
বিজেপির সংকল্পপত্রে মহিলাদের জন্য মাসে ৩০০০ টাকা ভাতা এবং ব্যাপক কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এর পাল্টা জবাবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় একটি পুরনো ভিডিও তুলে ধরেন, যেখানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে দিল্লি নির্বাচনের আগে নারীদের অ্যাকাউন্টে টাকা দেওয়ার কথা বলতে শোনা যায়। অভিষেকের প্রশ্ন, প্রধানমন্ত্রী ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে দেওয়া প্রতিশ্রুতি এখনও রক্ষা করেননি কেন? যেখানে বিজেপি ক্ষমতায় আছে, সেখানে কেন এই ভাতা দেওয়া হচ্ছে না? তৃণমূলের দাবি, মহারাষ্ট্রের মতো রাজ্যে শর্তের বেড়াজালে ফেলে বহু নারীকে সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে, অন্যদিকে বাংলার লক্ষ্মীর ভাণ্ডার কোনো শর্ত ছাড়াই সমস্ত মহিলার জন্য বরাদ্দ।
কর্মসংস্থান ও যুবসাথী প্রকল্প নিয়ে সংঘাত
রাজ্যের বেকারত্ব মেটাতে বিজেপি একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতির কথা বললেও তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর সরকারের ‘যুবসাথী’ প্রকল্পের নতুন আঙ্গিক তুলে ধরেছেন। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন:
- যুবসাথী প্রকল্পের মাধ্যমে বেকার যুবক-যুবতীদের সরাসরি কর্মসংস্থানের খোঁজ দেওয়া হবে।
- এটি কেবল ভাতা নয়, বরং তাদের স্বাবলম্বী করার একটি মাধ্যম।
- প্রতিটি ব্লকে ‘দুয়ারে চিকিৎসা’র মাধ্যমে স্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
দুর্নীতির অভিযোগ ও কেন্দ্রীয় ভূমিকা
বিজেপি যখন বাংলাকে দুর্নীতিমুক্ত করার কথা বলছে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তখন সরাসরি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। আসানসোলের কোল মাফিয়াদের সাথে বিজেপি নেতাদের ঘনিষ্ঠতার ইঙ্গিত দিয়ে তিনি কটাক্ষ করেছেন তাদের দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের মানসিকতাকে। এছাড়া, রাজ্যকে পাশ কাটিয়ে ইডি-সিবিআই আসতে পারলে, ভাতার টাকা কেন সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকার পাঠাতে পারছে না—সেই প্রশ্নও তুলেছেন তৃণমূল সাংসদ।
তৃণমূলের রাজনৈতিক অবস্থান
উত্তর ২৪ পরগনার নির্বাচনী জনসভাগুলো থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট করেছেন যে, তৃণমূল যা বলে তাই করে দেখায়। তিনি ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকারের ব্যর্থতার উদাহরণ টেনে বলেন, বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলো এখনও ‘সোনার রাজ্য’ হতে পারেনি। অন্যদিকে, বাংলায় লক্ষ্মীর ভাণ্ডার এবং যুবসাথীর মতো প্রকল্পগুলো সাধারণ মানুষের জন্য দীর্ঘস্থায়ী করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
একঝলকে
- বিজেপির ১৫ দফা সংকল্পপত্রকে ‘জুমলা’ বলে আক্রমণ অভিষেকের।
- মহিলাদের ৩০০০ টাকা ভাতার প্রতিশ্রুতিকে ভাঁওতা বলে দাবি তৃণমূলের।
- দিল্লি ও মহারাষ্ট্রের উদাহরণ টেনে বিজেপির প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থতার অভিযোগ।
- যুবসাথী প্রকল্পের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের পথ দেখানোর আশ্বাস মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের।
- দুর্নীতির অভিযোগে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিজেপি নেতাদের তীব্র সমালোচনা।
- তৃণমূলের দাবি, তাদের জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলো চিরস্থায়ী হবে।