ইসলামাবাদ বৈঠকের আগেই যুদ্ধের দামামা! ইরানকে ‘ভয়াবহ’ হামলার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

পাকিস্তানে আমেরিকা ও ইরানের বহুল প্রতীক্ষিত দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের ঠিক আগেই মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। একদিকে তেহরান আলোচনার জন্য কঠোর শর্ত জুড়ে দিয়েছে, অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, এই আলোচনা ব্যর্থ হলে ইরানকে ভয়াবহ সামরিক পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে। দুই দেশের এই অনড় অবস্থানের কারণে শান্তির পথ আরও কণ্টকিত হয়ে উঠল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
আলোচনার আগেই তেহরানের কড়া শর্ত
ইসলামাবাদে শনিবারের এই বৈঠকে বসার ঠিক আগমুহূর্তে ইরান দাবি করেছে যে, লেবাননে ইসরায়েলি হামলা অবিলম্বে বন্ধ না হলে তারা আলোচনায় অংশ নেবে না। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাকের ঘালিবাফ এবং বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সাফ জানিয়েছেন, লেবাননে যুদ্ধবিরতি এবং ইরানের বাজেয়াপ্ত সম্পদ ফিরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত কোনো ইতিবাচক আলোচনা সম্ভব নয়। শুক্রবারও লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ২০ জনের মৃত্যু পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
ট্রাম্পের পালটা হুঁশিয়ারি ও সামরিক প্রস্তুতি
ইরানের এই অনমনীয় মনোভাবের জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত কঠোর বার্তা দিয়েছেন। নিউইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় না এলে ইরানে আবার হামলা চালানো হবে। ট্রাম্পের দাবি:
- মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলোতে এ যাবৎকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ও অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্র এবং গোলাবারুদ মজুত করা হচ্ছে।
- আলোচনা ব্যর্থ হলে অতীতে যে ধরনের আক্রমণ হয়েছিল, তার চেয়েও অনেক বেশি ভয়াবহ আঘাত হানা হবে।
- ইরানের সামনে এখন সমঝোতা ছাড়া অন্য কোনো পথ খোলা নেই।
মধ্যস্থতায় পাকিস্তান ও আমেরিকার অবস্থান
আলোচনায় অংশ নিতে আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইতিমধ্যেই ইসলামাবাদের পথে রওনা দিয়েছেন। তিনি ইরানের প্রতি নমনীয় হওয়ার সুযোগ রাখলেও স্পষ্ট করেছেন যে, ইরান যদি আলোচনার নামে ছলনা করে তবে আমেরিকা চুপ করে থাকবে না। এদিকে, আলোচনার জন্য ইরানের প্রতিনিধি দল ইতিমধ্যেই পাকিস্তানে পৌঁছেছে। পাকিস্তানের মাটিতে এই বৈঠকের ফলাফল এখন ঝুলে আছে লেবানন পরিস্থিতি এবং ট্রাম্পের রণকৌশলের ওপর।
উত্তেজনার পেছনের কারণ ও প্রভাব
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান লেবানন ইস্যুকে সামনে রেখে আমেরিকার ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চাইছে। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি অনেক বেশি আক্রমণাত্মক হওয়ায় তেহরানের এই কৌশল হিতে বিপরীত হতে পারে। যদি এই আলোচনা কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যে একটি বড় মাপের আঞ্চলিক যুদ্ধের সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে, যার প্রভাব পড়বে বিশ্ববাজারে তেলের দাম থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তায়।
একঝলকে
- বৈঠক: শনিবার পাকিস্তানের ইসলামাবাদে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে বৈঠক হওয়ার কথা।
- শর্ত: লেবাননে যুদ্ধবিরতি ও বাজেয়াপ্ত অর্থ ফেরত না দিলে আলোচনায় বসবে না ইরান।
- হুঁশিয়ারি: আলোচনা ব্যর্থ হলে ভয়াবহ হামলার হুমকি দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
- সামরিক প্রস্তুতি: মার্কিন যুদ্ধজাহাজে অত্যাধুনিক অস্ত্র তোলার কাজ শুরু হয়েছে।
- উপস্থিতি: আমেরিকার পক্ষ থেকে জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পক্ষ থেকে আব্বাস আরাঘচি বৈঠকে থাকছেন।