“ইরান হেরে গেছে, হোর্মুজ প্রণালী আমরাই খুলব”: শান্তি আলোচনার আগেই তেহরানকে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি

ইরান সামরিকভাবে পরাজিত এবং যেকোনো মূল্যে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ খুলে দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পাকিস্তানের ইসলামাবাদে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা শুরুর প্রাক্কালে তেহরানকে এই কড়া বার্তা দিলেন তিনি।
স্ট্রেইট অব হোর্মুজ বা হোর্মুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতকারী বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে কোনো ধরনের টোল বা ট্যাক্স আদায়ের চেষ্টা করা হলে তা বরদাশত করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন ট্রাম্প।
ট্রাম্পের কঠোর হুঁশিয়ারি ও যুদ্ধজয়ের দাবি
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ইরানের সামরিক সক্ষমতা এখন তলানিতে। তিনি দাবি করেন, ইরানের নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বর্তমানে অকার্যকর হয়ে পড়েছে। ট্রাম্প বলেন, “আমরা চুক্তির মাধ্যমে হোক বা চুক্তি ছাড়া, হোর্মুজ প্রণালী উন্মুক্ত রাখবই। এটি একটি আন্তর্জাতিক জলসীমা এবং এখানে মুক্ত চলাচল নিশ্চিত করতে আমেরিকা বদ্ধপরিকর।”
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ইরান যদি আলোচনায় ইতিবাচক সাড়া না দেয় তবে আমেরিকা সরাসরি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। তিনি মনে করেন, এই প্রক্রিয়া খুব দ্রুত সম্পন্ন হবে কারণ ইরানের বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক।
ইসলামাবাদে উচ্চপর্যায়ের শান্তি আলোচনা
পশ্চিম এশিয়ায় চলমান অস্থিরতা নিরসনে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইসলামাবাদে এই শান্তি বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বৈঠকে যোগ দিতে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইতোমধ্যেই পাকিস্তানে পৌঁছেছেন। অন্যদিকে, ইরানের সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কলিবাফের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল শুক্রবার রাতে ইসলামাবাদে অবতরণ করেছে।
ইরানি প্রতিনিধি দলে রয়েছেন:
- বিদেশ মন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি
- জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব আলী আকবর আহমদিয়ান
- কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আবদুল নাসের হেমমতি
- সামরিক ও আইনি খাতের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা
ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব ও সম্ভাব্য প্রভাব
হোর্মুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ। এই জলপথের ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার যেকোনো চেষ্টাকে আমেরিকা নিজেদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি মনে করছে। ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য স্পষ্ট করে দেয় যে, আমেরিকা মধ্যপ্রাচ্যে তাদের সামরিক আধিপত্য বজায় রাখতে চায়। অন্যদিকে, ইরান এই আলোচনার মাধ্যমে তাদের ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপ কমানোর চেষ্টা করছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই আলোচনার ফলাফলের ওপরই নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ স্থিতিশীলতা।
একঝলকে
- মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোর্মুজ প্রণালীকে আন্তর্জাতিক জলসীমা হিসেবে মুক্ত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন।
- তেহরানকে হুঁশিয়ারি দিয়ে ট্রাম্প বলেছেন, জাহাজ চলাচলে কোনো ট্যাক্স বা টোল আদায় করা যাবে না।
- ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের শীর্ষ প্রতিনিধিরা।
- ইরানের পক্ষ থেকে বিদেশ মন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত রয়েছেন।
- আমেরিকা দাবি করেছে ইরানের সামরিক সক্ষমতা বর্তমানে সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত।