প্রসাধনীর আড়ালে বিষের কারবার! টোকিও বন্দরে ধরা পড়ল ৮০০ কোটির পাকিস্তানি ড্রাগ চক্র

প্রসাধনীর আড়ালে বিষের কারবার! টোকিও বন্দরে ধরা পড়ল ৮০০ কোটির পাকিস্তানি ড্রাগ চক্র

জাপানে একটি বিশাল আন্তর্জাতিক মাদক পাচার চক্রের সন্ধান পেয়েছে দেশটির আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এই অভিযানে মূল অভিযুক্ত এক পাকিস্তানি নাগরিকসহ মোট ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত মাদকের বাজারমূল্য প্রায় ১৪.৩ বিলিয়ন জাজল ইয়েন, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৮০০ কোটি টাকারও বেশি।

যেভাবে চলত এই বিশাল নেটওয়ার্ক

জাজল পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এই মাদক পাচার চক্রটি অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছিল। গত বছরের ডিসেম্বরে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে একটি কন্টেইনার টোকিও বন্দরে এসে পৌঁছায়। প্রসাধনী সামগ্রীর আড়ালে এই বিপুল পরিমাণ মাদক জাপানে পাচার করা হয়েছিল।

  • কন্টেইনারটিতে প্রসাধনী হিসেবে ব্যবহৃত সাদা পাউডারের ৭৪২টি প্যাকেট ছিল।
  • গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তল্লাশি চালিয়ে ১৮টি বিশেষ প্যাকেটে লুকানো ২৭০ কেজি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন উত্তেজক মাদক উদ্ধার করা হয়।
  • ৫৩ বছর বয়সী পাকিস্তানি গাড়ি ব্যবসায়ী বাট শফকত মুশতাককে এই চক্রের মূল হোতা হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার ও তদন্তের বর্তমান অবস্থা

টোকিও পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার নাগরিকরা রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে রপ্তানি প্রক্রিয়া এবং পরিবহনে সরাসরি সহায়তার অভিযোগ রয়েছে। যদিও প্রধান অভিযুক্ত মুশতাক তার বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন, তবে পুলিশ তাকে একটি সক্রিয় পাকিস্তানি ড্রাগ ট্র্যাফিকিং গ্যাংয়ের সদস্য হিসেবে দাবি করছে।

এই ঘটনার পেছনে আরও বড় কোনো আন্তর্জাতিক চক্র জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। মধ্যপ্রাচ্য থেকে জাপানের বন্দরে পণ্য খালাসের পুরো চেইনটি এখন গোয়েন্দা নজরদারিতে রয়েছে।

সম্ভাব্য প্রভাব ও নিরাপত্তা উদ্বেগ

জাপানের মতো দেশে এত বড় মাদকের চালান ধরা পড়া একটি বিরল ঘটনা। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রসাধনী বা গাড়ির ব্যবসার আড়ালে মাদক পাচারের এই কৌশল এশিয়ার নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আসা কার্গোগুলোর ওপর এখন থেকে আরও কঠোর কড়াকড়ি আরোপ করা হতে পারে।

একঝলকে

  • মোট উদ্ধারকৃত মাদকের পরিমাণ ২৭০ কেজি।
  • জব্দকৃত মাদকের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৮০০ কোটি টাকার উপরে।
  • মূল অভিযুক্ত বাট শফকত মুশতাক একজন পাকিস্তানি গাড়ি ব্যবসায়ী।
  • পাচারের মাধ্যম হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আসা প্রসাধনীর কন্টেইনার ব্যবহার করা হয়েছিল।
  • অভিযানে মোট ৬ জন বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে টোকিও পুলিশ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *