৪০ মাইল দূর থেকেও চেনা যাবে হৃদপিণ্ডের কম্পন! আমেরিকার রহস্যময় ‘Ghost Murmur’ প্রযুক্তিতে উদ্ধার নিখোঁজ পাইলট

৪০ মাইল দূর থেকেও চেনা যাবে হৃদপিণ্ডের কম্পন! আমেরিকার রহস্যময় ‘Ghost Murmur’ প্রযুক্তিতে উদ্ধার নিখোঁজ পাইলট

সম্প্রতি দক্ষিণ ইরানের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় মার্কিন বিমান বাহিনীর একটি এফ-১৫ ফাইটার জেট বিধ্বস্ত হওয়ার পর এক রুদ্ধশ্বাস উদ্ধার অভিযান সম্পন্ন হয়েছে। এই মিশনের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল সিআইএ-র অত্যন্ত গোপনীয় ‘ঘোস্ট মারমার’ প্রযুক্তি। প্রতিকূল পরিবেশ এবং শত্রুবেষ্টিত এলাকায় নিখোঁজ পাইলটকে খুঁজে বের করতে এই উন্নত সিস্টেমটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

পাহাড়ের আড়ালে রুদ্ধশ্বাস দুই দিন

ইরান সীমান্তে বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পর ‘ডুড ৪৪ ব্রাভো’ নামে পরিচিত ওই মার্কিন পাইলট প্রাণে বেঁচে গেলেও আটকা পড়েন গভীর পাহাড়ি খাঁজে। একদিকে পাহাড়ি তীব্র শীত, অন্যদিকে ইরানি বাহিনীর হন্যে হয়ে খোঁজা—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি ছিল ভয়াবহ। পাইলটকে বন্দি করার জন্য বিশাল পুরস্কার ঘোষণা করেছিল স্থানীয় শক্তিগুলো। দীর্ঘ দুই দিন অত্যন্ত গোপনে আত্মগোপন করে নিজের অস্তিত্ব রক্ষা করেন তিনি।

ঘোস্ট মারমার প্রযুক্তি আসলে কী

এই মিশনের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি ছিল ‘ঘোস্ট মারমার’ (Ghost Murmur) নামক এক বৈপ্লবিক প্রযুক্তি। এটি মূলত মানুষের হৃদস্পন্দন থেকে নির্গত অতি সামান্য ইলেকট্রোম্যাগনেটিক সংকেত শনাক্ত করতে পারে।

  • কোয়ান্টাম ম্যাগনেটোমেট্রি: এই প্রযুক্তির মাধ্যমে অত্যন্ত সংবেদনশীল চৌম্বক ক্ষেত্র পরিমাপ করা হয়।
  • আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে আশেপাশের হাজারো শব্দের ভিড় থেকে নির্দিষ্ট মানুষের হৃদস্পন্দনের ছন্দ আলাদা করা সম্ভব হয়।
  • কার্যকারিতা: যেখানে ইলেকট্রোম্যাগনেটিক হস্তক্ষেপ কম এবং জনবসতি বিরল, সেখানে এই প্রযুক্তি সবচেয়ে ভালো কাজ করে।

৪০ মাইল দূর থেকে নিখুঁত অবস্থান

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সিস্টেমটি প্রায় ৪০ মাইল দূর থেকেই নিখোঁজ পাইলটের অবস্থান শনাক্ত করতে সক্ষম হয়। বিশাল মরুভূমি ও পাহাড়ের মাঝে একজন মানুষের অবস্থান খুঁজে বের করা ছিল খড়ের গাদায় সুঁই খোঁজার মতো চ্যালেঞ্জিং। লকহিড মার্টিনের গোপন গবেষণা বিভাগ ‘স্কাঙ্ক ওয়ার্কস’ (Skunk Works) এই প্রযুক্তিটি তৈরি করেছে। এটি কোনো প্রকৃত অপারেশনে এই প্রযুক্তির প্রথম সফল প্রয়োগ।

প্রতিকূলতা কাটিয়ে সফল উদ্ধার

পুরো অভিযানে কয়েকশ মার্কিন সেনা অংশ নেয়। উদ্ধারকার্য চলাকালীন যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে কিছু বিমান মাটিতে আটকা পড়লে সেগুলোকে শত্রুহস্তে পড়া থেকে বাঁচাতে ধ্বংস করে দেওয়া হয়। তবে চূড়ান্ত পর্যায়ে সব মার্কিন সেনা এবং পাইলট নিরাপদে ফিরে আসতে সক্ষম হন। ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সফল মিশনের প্রশংসা করে একে প্রযুক্তির অভাবনীয় বিজয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

একঝলকে

  • ঘটনা: দক্ষিণ ইরানে বিধ্বস্ত এফ-১৫ বিমানের পাইলটকে উদ্ধার।
  • ব্যবহৃত প্রযুক্তি: সিআইএ-র গোপন ‘ঘোস্ট মারমার’ সিস্টেম।
  • ক্ষমতা: ৪০ মাইল দূর থেকে মানুষের হৃদস্পন্দন শনাক্ত করা।
  • প্রস্তুতকারক: লকহিড মার্টিনের স্কাঙ্ক ওয়ার্কস বিভাগ।
  • ফলাফল: দুই দিন নিখোঁজ থাকার পর পাইলটসহ উদ্ধারকারী দল নিরাপদ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *