স্বামীকে পাথর দিয়ে থেঁতলে খুন! সারারাত লাশের পাশেই বসে রইলেন স্ত্রী

গুজরাটের নর্মদা জেলায় এক রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। তুচ্ছ ঘটনার জেরে স্বামীকে পাথর দিয়ে আঘাত করে খুন করার পর সারারাত মরদেহের পাশে বসে ছিলেন স্ত্রী। তিলকওয়াদা তালুকার ভোরাগাঁও গ্রামে এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত ও নৃশংস হত্যাকাণ্ড
পুলিশি তদন্ত ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ৩৫ বছর বয়সী প্রবীণ ভাই রণসিংহ নায়েক এবং তার স্ত্রী রেখা বেন নায়েক বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে হেরন নদীর কাছে কোনো একটি বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। বিবাদ চরমে পৌঁছালে প্রবীণ ভাই তার স্ত্রীর গায়ে হাত তোলেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে রেখা বেন পাশে থাকা একটি ভারি পাথর দিয়ে স্বামীর মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করেন। পাথরের আঘাতে মাথা থেঁতলে গিয়ে ঘটনাস্থলেই প্রবীণ ভাইয়ের মৃত্যু হয়।
রক্তমাখা মরদেহের পাশে নির্ঘুম রাত
হত্যাকাণ্ডের পর পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা না করে রেখা বেন সারারাত স্বামীর নিথর দেহের পাশে বসে থাকেন। পরদিন দুপুর পর্যন্ত তাকে একইভাবে মরদেহের পাশে বসে থাকতে দেখে স্থানীয়রা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং পুলিশে খবর দেন। জনশূন্য নদীর তীরে রক্তাক্ত লাশের পাশে ঘাতক স্ত্রীর এভাবে বসে থাকার দৃশ্য পুলিশকেও হতবাক করেছে।
পুলিশের পদক্ষেপ ও সম্ভাব্য কারণ
খবর পেয়ে তিলকওয়াদা থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং রেখা বেনকে গ্রেপ্তার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ ধারণা করছে, প্রচণ্ড মানসিক ক্ষোভ বা তাৎক্ষণিক উত্তেজনার বশবর্তী হয়েই তিনি এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। তবে খুনের পর তার এই অস্বাভাবিক আচরণ কোনো গভীর মানসিক ট্রমা বা মানসিক ভারসাম্যহীনতার ইঙ্গিত কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পারিবারিক সহিংসতার ভয়াবহ রূপ
এই ঘটনা গ্রামীণ জনপদে পারিবারিক সহিংসতার এক চরম দৃষ্টান্ত তুলে ধরেছে। সামান্য কথা কাটাকাটি থেকে একজন মানুষের প্রাণ চলে যাওয়া এবং একটি সাজানো সংসার তছনছ হয়ে যাওয়ার ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে ভোরাগাঁও গ্রামে। পুলিশ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করে বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে।
একঝলকে
- ঘটনার স্থান: তিলকওয়াদা তালুকা, নর্মদা জেলা, গুজরাট।
- নিহতের নাম: প্রবীণ ভাই রণসিংহ নায়েক (৩৫)।
- অভিযুক্ত: স্ত্রী রেখা বেন নায়েক।
- খুনের ধরণ: মাথায় ভারি পাথর দিয়ে আঘাত।
- বর্তমান অবস্থা: অভিযুক্ত স্ত্রী গ্রেপ্তার এবং পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন।