রক্তমাখা স্কুলব্যাগ ও জুতো নিয়ে ইসলামাবাদে ইরানি প্রতিনিধিদল, নিস্পাপ শিশুদের মৃত্যুতে কাঁদছে বিশ্ব

রক্তমাখা স্কুলব্যাগ ও জুতো নিয়ে ইসলামাবাদে ইরানি প্রতিনিধিদল, নিস্পাপ শিশুদের মৃত্যুতে কাঁদছে বিশ্ব

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তজনা ও সংঘাতের আবহে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে শুরু হয়েছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক শান্তি বৈঠক। তবে এই বৈঠকের আনুষ্ঠানিক আলোচনার চেয়েও বেশি আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে ইরানি প্রতিনিধি দলের আনা কিছু প্রতীকী সামগ্রী। মার্কিন হামলায় প্রাণ হারানো স্কুলছাত্রীদের রক্তে ভেজা ব্যাগ, জুতো এবং ছবি নিয়ে ইসলামাবাদে পৌঁছেছে ইরানের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল। এই আবেগঘন ও প্রতিবাদী পদক্ষেপের মাধ্যমে ইরান বিশ্বমঞ্চে আমেরিকার অভিযানের ভয়াবহতা তুলে ধরতে চাইছে।

ঘটনার প্রেক্ষাপট ও রক্তক্ষয়ী সেই হামলা

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমোজগান প্রদেশের মিনাব শহরের তৈয়েবেহ স্কুলে চালানো মার্কিন টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার স্মৃতি এখনো দগদগে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধের প্রাথমিক পর্যায়ে এই ভয়াবহ হামলা চালানো হয়। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার পুরনো তথ্যের ওপর ভিত্তি করে একটি রেভল্যুশনারি গার্ড বেস লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হলেও তার শিকার হয় নিরীহ স্কুলছাত্রীরা।

  • প্রাণহানি: এই হামলায় ১৬৫ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে একটি বড় অংশই শিশু।
  • মার্কিন অবস্থান: মার্কিন সামরিক বাহিনী প্রাথমিক তদন্তে স্বীকার করেছে যে, ভুল বা পুরনো গোয়েন্দা তথ্যের কারণে এই ট্র্যাজেডি ঘটে থাকতে পারে।

শান্তি আলোচনার বিমানে করুণ দৃশ্য

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ একটি ছবি পোস্ট করেছেন যা বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, ইসলামাবাদগামী বিমানের আসনগুলোতে নিহত শিশুদের স্কুলব্যাগ, জুতো এবং ছবি সাজিয়ে রাখা হয়েছে। গালিবাফ লিখেছেন, “এই শিশুরাই পাকিস্তান শান্তি আলোচনায় আমাদের সঙ্গী ছিল।” ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং গালিবাফের নেতৃত্বে এই প্রতিনিধি দলে সামরিক, রাজনৈতিক ও আইনি বিশেষজ্ঞদের একটি বিশাল বহর রয়েছে।

ইসলামাবাদ বৈঠকের কঠিন শর্ত ও বর্তমান চ্যালেঞ্জ

ইরান ও আমেরিকার মধ্যে মধ্যস্থতার লক্ষ্য নিয়ে এই বৈঠক আয়োজিত হলেও পরিবেশ বেশ থমথমে। আলোচনার আগেই ইরান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, তাদের দেওয়া পূর্বশর্তগুলো মানা হলেই কেবল আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হবে।

১. অবাস্তবায়িত চুক্তি: লেবাননে যুদ্ধবিরতি এবং ইরানের জব্দ করা সম্পদ ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে আগেই একমত হওয়া সত্ত্বেও তা কার্যকর না হওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছে তেহরান।

২. বিকল্প ভেন্যুর সম্ভাবনা: প্রথম দফার আলোচনার পর ইরান পরবর্তী বৈঠকগুলো জেনেভা বা ওমানে করার জন্য চাপ দিতে পারে বলে জানা গেছে।

আমেরিকার কঠোর অবস্থান ও ট্রাম্পের বার্তা

অন্যদিকে, এই আলোচনা নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর আত্মবিশ্বাস ব্যক্ত করেছেন। মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। ট্রাম্প ভার্জিনিয়ার শার্লটসভিলে সংবাদমাধ্যমকে বলেন যে, আমেরিকা পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে। তিনি দাবি করেন ইরান সামরিকভাবে দুর্বল অবস্থানে রয়েছে এবং হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “ইরান সহযোগিতা করুক বা না করুক, আমরা হরমুজ প্রণালী খুলে দেব।”

একঝলকে

  • মূল ঘটনা: নিহত ছাত্রীদের রক্তমাখা সামগ্রী নিয়ে ইসলামাবাদে ইরানি প্রতিনিধি দলের প্রতিবাদ।
  • হামলার স্থান: ইরানের মিনাব শহরের তৈয়েবেহ স্কুল।
  • ক্ষয়ক্ষতি: মার্কিন টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১৬৫ জনের মৃত্যু।
  • বৈঠকের উদ্দেশ্য: আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমন ও শান্তি স্থাপন।
  • নেতৃত্ব: ইরানের পক্ষে মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং আমেরিকার পক্ষে জেডি ভ্যান্স।
  • বিতর্কিত ইস্যু: লেবাননে যুদ্ধবিরতি ও হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *