“বন্দে মাতরম গাইতে না পারলে পাকিস্তানে যান!” দলীয় কাউন্সিলরদের তীব্র তোপ কংগ্রেসেরই

ভারতের মধ্যপ্রদেশের ইন্দোর মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের একটি সভায় ‘বন্দে মাতরম’ গানটি গাইতে অস্বীকার করে চরম বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন কংগ্রেসের দুই নারী কাউন্সিলর। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক টানাপোড়েন। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই ঘটনায় ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস তাদের নিজস্ব দলীয় কাউন্সিলরদের বিরুদ্ধেই কড়া অবস্থান নিয়েছে এবং তাদের দেশ ছেড়ে পাকিস্তানে চলে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও উত্তপ্ত পরিস্থিতি
ইন্দোর মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের সাধারণ সভা চলাকালীন প্রথা অনুযায়ী জাতীয় গীত ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া শুরু হয়। অভিযোগ উঠেছে, কংগ্রেস কাউন্সিলর ফৌজিয়া শেখ আলিম এবং রুবিনা ইকবাল গানটি গাওয়ার সময় উঠে দাঁড়াননি এবং নীরব ছিলেন। এই আচরণ লক্ষ্য করার পর বিজেপি সদস্যরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং এটিকে জাতীয় অমর্যাদা হিসেবে অভিহিত করে ক্ষমা প্রার্থনার দাবি করেন। তর্কের এক পর্যায়ে সভার সভাপতি মুন্নালাল যাদব ফৌজিয়াকে সভা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন।
ধর্মীয় বিশ্বাস বনাম দেশপ্রেমের বিতর্ক
ঘটনার পর কাউন্সিলর রুবিনা ইকবাল সংবাদমাধ্যমের সামনে সাফ জানিয়ে দেন যে, তাঁদের ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী তাঁরা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও কাছে মাথা নত করেন না। ‘বন্দে’ শব্দের অর্থ বন্দনা বা পূজা করা, যা তাঁদের ধর্মীয় বিশ্বাসের পরিপন্থী। তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, বন্দে মাতরম গাওয়া বাধ্যতামূলক এমন কোনো লিখিত নিয়ম থাকলে তা দেখানো হোক। তবে তিনি এও জানান যে, তাঁরা প্রয়োজনে ‘সারে জাহা সে আচ্ছা’ গাইতে রাজি আছেন। এমনকি দল থেকে বের করে দিলে তাঁরা স্বতন্ত্রভাবে কাজ করবেন বা মিমের (AIMIM) মতো দলে যোগ দেবেন বলেও হুঁশিয়ারি দেন।
রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান ও প্রতিক্রিয়া
এই ঘটনা বিজেপি ও কংগ্রেসের মধ্যে এক নজিরবিহীন বাদানুবাদের সৃষ্টি করেছে:
- কংগ্রেসের কঠোর অবস্থান: সাধারণত বিজেপি এ জাতীয় ইস্যুতে আক্রমণাত্মক হলেও, এবার কংগ্রেস নেতা কে. কে. মিশ্র চরম বিরক্তি প্রকাশ করেছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, যাদের কাছে দেশের স্বার্থ বড় নয় এবং যারা বন্দে মাতরম গাইতে পারেন না, তারা পাকিস্তানে চলে যেতে পারেন। দল এই ধরনের শৃঙ্খলাভঙ্গ বরদাস্ত করবে না।
- বিজেপির সমালোচনা: বিজেপি নেতা সুমিত মিশ্র ঐতিহাসিক উদাহরণ টেনে বলেন যে, আশফাকউল্লাহ খানের মতো মুসলিম বিপ্লবীরা বন্দে মাতরম বলতে বলতে হাসিমুখে ফাঁসির দড়ি গ্রহণ করেছিলেন। বর্তমান কাউন্সিলররা সেই বীরদের অপমান করছেন।
বিজেপি এখন এই দুই কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতার মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা ইন্দোরের স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ তৈরি করেছে।
একঝলকে
- ঘটনা: ইন্দোর মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া নিয়ে বিবাদ।
- অভিযুক্ত: কংগ্রেস কাউন্সিলর ফৌজিয়া শেখ আলিম ও রুবিনা ইকবাল।
- কারণ: ধর্মীয় বিশ্বাসের দোহাই দিয়ে জাতীয় গীত গাইতে আসাম্মতি।
- কংগ্রেসের প্রতিক্রিয়া: কাউন্সিলরদের পাকিস্তানে চলে যাওয়ার পরামর্শ এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি।
- বিজেপির দাবি: জাতীয় গীতের অবমাননার দায়ে ক্ষমা প্রার্থনা ও আইনি ব্যবস্থা।