ইসলামাবাদে মুখোমুখি ট্রাম্প-ইরান, শান্তি বৈঠক ব্যর্থ হলে কী হবে? খোলসা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট

ইসলামাবাদে মুখোমুখি ট্রাম্প-ইরান, শান্তি বৈঠক ব্যর্থ হলে কী হবে? খোলসা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট

ইসলামাবাদে আজ এক ঐতিহাসিক কূটনৈতিক লড়াইয়ের সাক্ষী হতে চলেছে বিশ্ব। দীর্ঘ সংঘাত ও উত্তেজনার পর অবশেষে মুখোমুখি টেবিলে বসছে আমেরিকা এবং ইরান। হোয়াইট হাউস সূত্রে খবর, শনিবার সকালে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে দুই দেশের প্রতিনিধিরা এই গুরুত্বপূর্ণ শান্তি বৈঠকে মিলিত হবেন। তবে এই বৈঠক যদি সফল না হয়, তবে পরবর্তী পদক্ষেপ বা ‘প্ল্যান বি’ কী হতে পারে, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে।

কোনো প্ল্যান বি নেই সাফ জানালেন ট্রাম্প

সাধারণত বড় কোনো কূটনৈতিক আলোচনার আগে দেশগুলো বিকল্প পরিকল্পনা বা ‘প্ল্যান বি’ প্রস্তুত রাখে। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিস্ময়কর মন্তব্য করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে এই বৈঠক ব্যর্থ হলে আমেরিকার হাতে আপাতত কোনো বিকল্প পরিকল্পনা নেই। ট্রাম্পের মতে, আগাম কোনো পরিকল্পনার প্রয়োজনই নেই কারণ মার্কিন সেনা ইতিমধ্যেই তাদের শক্তিমত্তা প্রমাণ করেছে। তিনি দাবি করেন, ইরানের সামরিক শক্তি ও মিসাইল ভাণ্ডার আগের চেয়ে অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে, তাই তড়িঘড়ি কোনো সামরিক ছক কষছে না ওয়াশিংটন।

আলোচনার টেবিলে থাকবে যেসব স্পর্শকাতর বিষয়

ইসলামাবাদের এই বৈঠকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু স্থান পেতে চলেছে। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মূলত তিনটি বিষয়ের ওপর জোর দেবে দুই পক্ষ:

  • পারমাণবিক কর্মসূচি: ইরানের পরমাণু ভাণ্ডার এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নিয়ে দীর্ঘদিনের বিবাদ মেটানোর চেষ্টা।
  • বাণিজ্যিক পথ: হরমুজ প্রণালী দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখা।
  • আঞ্চলিক নিরাপত্তা: মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান সংঘাত নিয়ন্ত্রণ।

কারা থাকছেন এই মেগা বৈঠকে

আমেরিকার পক্ষে এই আলোচনার নেতৃত্ব দেবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স। তার সঙ্গে প্রতিনিধি দলে থাকছেন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার। অন্যদিকে, ইরানের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করবেন দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মহম্মদ বাঘের ঘালিবাফ এবং বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসেবে পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী ইশাক দারও এই বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে।

নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা ইসলামাবাদ

বৈঠকটি ঘিরে ইসলামাবাদে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। রাজধানীর কড়া নিরাপত্তাবেষ্টিত ‘রেড জোন’ এলাকায় অবস্থিত সেরেনা হোটেলে এই বৈঠক বসার কথা রয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে হোটেলটি আগেই খালি করে দেওয়া হয়েছে এবং ইসলামাবাদে দুই দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। রাস্তার মোড়ে মোড়ে সশস্ত্র বাহিনীর টহল ও নাকা তল্লাশিতে গোটা শহর এখন থমথমে।

কূটনৈতিক গুরুত্ব ও প্রভাব

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যে স্পষ্ট যে, আমেরিকা এখন আলোচনার টেবিলে শক্ত অবস্থানে থেকেই কথা বলতে চায়। আগে যেখানে তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, সেখানে ‘প্ল্যান বি’ না থাকার বিষয়টি ইঙ্গিত দেয় যে তিনি ইরানের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করছেন। যদি এই বৈঠক সফল হয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের মেঘ কেটে যেতে পারে। আর যদি ব্যর্থ হয়, তবে ট্রাম্পের এই ‘নিশ্চিন্ত’ ভাব ভবিষ্যতের বড় কোনো সংঘাতের ইঙ্গিত কি না, তা নিয়ে ধন্দ কাটছে না।

একঝলকে

  • বৈঠকের স্থান: ইসলামাবাদ, পাকিস্তান (সেরেনা হোটেল সংলগ্ন এলাকা)।
  • প্রধান প্রতিনিধি: জেডি ভান্স (আমেরিকা) ও আব্বাস আরাঘচি (ইরান)।
  • ট্রাম্পের অবস্থান: কোনো ‘প্ল্যান বি’ বা বিকল্প পরিকল্পনা নেই।
  • নিরাপত্তা: ইসলামাবাদে রেড অ্যালার্ট ও দুই দিনের সরকারি ছুটি।
  • মূল লক্ষ্য: পরমাণু বিবাদ নিরসন ও মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *