নীল ষষ্ঠী ২০২৬: মায়েদের ব্রত পালনের সবথেকে শুভ সময় কখন? জেনে নিন উপকরণের তালিকা

বাংলার লোকায়ত সংস্কৃতির অন্যতম অবিচ্ছেদ্য অংশ হলো নীল ষষ্ঠী। চৈত্র সংক্রান্তির ঠিক আগের দিন সন্তানবতী মায়েরা সন্তানের দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্য কামনায় এই ব্রত পালন করেন। ২০২৬ সালে আগামী ১৩ এপ্রিল, সোমবার রাজ্যজুড়ে পালিত হতে চলেছে এই উৎসব। শাস্ত্র মতে, নীল ষষ্ঠী মূলত শিব ও নীলাবতীর পুজোর একটি সমন্বয়, যেখানে মাতৃত্বের অপত্য স্নেহ ও আধ্যাত্মিক ভক্তি মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়।
নীল ষষ্ঠী ২০২৬ পুজোর সঠিক সময়
পঞ্জিকা অনুসারে, আগামী ২৯ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ (১৩ এপ্রিল ২০২৬) সোমবার নীল পুজো অনুষ্ঠিত হবে। একই দিনে বরুথিনী একাদশী পড়ায় দিনটির ধর্মীয় গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
- সাধারণ সময়: সোমবার বেলা ১২টা থেকে রাত ৮টার মধ্যে মহাদেবের পুজো সম্পন্ন করা যাবে।
- মাহেন্দ্রক্ষণ: বিশেষ শুভ ফল লাভের জন্য বিকেল ৩টে ২২ মিনিট থেকে বিকেল ৫টা ১ মিনিটের মধ্যে পুজোর সময়কে নির্দেশ করা হয়েছে।
- নীলযাত্রা: দেবী নীলাবতীর পুজো প্রথা অনুযায়ী সন্ধেবেলায় সম্পন্ন করতে হবে।
পুজোর উপকরণ ও বিধি
মহাদেব অল্পেই তুষ্ট হন, তাই আড়ম্বরপূর্ণ আয়োজনের চেয়ে ভক্তিই এখানে প্রধান। তবে শাস্ত্রীয় মতে কিছু নির্দিষ্ট উপকরণ পুজোর মাহাত্ম্য বাড়িয়ে দেয়।
- প্রয়োজনীয় সামগ্রী: গঙ্গাজল, কাঁচা দুধ, দই, ঘি, মধু ও চিনি (পঞ্চামৃত)। এছাড়া আকন্দ ফুল, ধুতরো ফুল, নীল অপরাজিতা, বেলপাতা ও কাঁচা আম অত্যন্ত জরুরি।
- উপবাস রীতি: ব্রতী মায়েরা সারাদিন নির্জলা উপবাস পালন করেন। সন্ধেবেলা শিবলিঙ্গে জল ঢেলে এবং প্রদীপ জ্বালিয়ে উপবাস ভঙ্গ করার নিয়ম রয়েছে।
ঘরে পুজো করার নিয়মাবলী
মন্দিরে ভিড় এড়াতে অনেকে বাড়িতেই শিবলিঙ্গ প্রতিষ্ঠা করে পুজো করেন। সেক্ষেত্রে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করা যেতে পারে:
১. প্রথমে পঞ্চামৃত দিয়ে শিবলিঙ্গের অভিষেক করুন।
২. এরপর গঙ্গাজল বা ডাবের জল দিয়ে স্নান করিয়ে সাদা চন্দনের তিলক পরিয়ে দিন।
৩. তিনটি পাতা যুক্ত নিখুঁত বেলপাতা, ফুল ও ফল নিবেদন করুন।
৪. সন্তানের নাম স্মরণ করে একটি ঘিয়ের প্রদীপ জ্বালান।
৫. পুজো শেষে প্রসাদ গ্রহণ করে উপবাস ভাঙুন। রাতে সাবু বা ময়দার তৈরি নিরামিষ আহার গ্রহণ করা বিধেয়।
লোকায়ত প্রথা ও তাৎপর্য
গ্রাম বাংলায় নীল পুজোর দিন এক বিশেষ ঐতিহ্য লক্ষ্য করা যায়। অনেক জায়গায় মাটি দিয়ে শোয়ানো অবস্থায় মহাদেবের মূর্তি তৈরি করে তাতে খেজুর পাতা ও খেজুরের আবরণ দেওয়া হয়। এরপর ‘বালা গান’ বা ‘নীলের গান’ গেয়ে দেবতাকে তুষ্ট করার রীতি দীর্ঘদিনের। কবির ভাষায়, “আমার সন্ততি স্বপ্নে থাক”—এই চিরন্তন প্রার্থনাকেই সার্থক করতে বাংলার মায়েরা তপ্ত গ্রীষ্মের দাবদাহ উপেক্ষা করে পরম নিষ্ঠায় পালন করেন নীল ষষ্ঠীর ব্রত।
একঝলকে
খাদ্য: সারাদিন উপবাসের পর রাতে ফল বা নিরামিষ আহার।
তারিখ: ১৩ এপ্রিল ২০২৬, সোমবার।
মূল উদ্দেশ্য: সন্তানের মঙ্গল ও দীর্ঘায়ু কামনা।
প্রধান উপাচার: শিবলিঙ্গে জলদান, নীল অপরাজিতা ও কাঁচা আম।
শুভ ক্ষণ: বিকেল ৩টে ২২ মিনিট থেকে ৫টা ১ মিনিট।