“মোদী সরকার আমার গান থামিয়ে দিয়েছিল!” বিজেপির বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ বাবুল সুপ্রিয়র

“মোদী সরকার আমার গান থামিয়ে দিয়েছিল!” বিজেপির বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ বাবুল সুপ্রিয়র

বিখ্যাত গায়ক ও রাজনীতিক বাবুল সুপ্রিয় ভারতীয় জনতা পার্টি (বিजेपी) এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে নিয়ে এক চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেছেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, বিজেপি সরকারে মন্ত্রী থাকাকালীন তাঁর গান গাওয়ার ওপর এক ধরনের ‘অঘোষিত নিষেধাজ্ঞা’ চাপানো হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী মোদী মঞ্চে তাঁর পারফরম্যান্স পছন্দ করতেন না, যার ফলে তাঁর দীর্ঘদিনের সংগীত ক্যারিয়ার থমকে গিয়েছিল।

সংগীত বনাম রাজনীতি: টানাপোড়েনের নেপথ্যে

২০১৪ সালে যখন বাবুল সুপ্রিয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন, তখন তিনি ভেবেছিলেন সংগীত এবং জনসেবা সমান্তরালভাবে চলবে। কিন্তু বাস্তব চিত্র ছিল ভিন্ন। বাবুলের মতে, তিনি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হওয়ার পর পরিস্থিতি বদলে যায়। বিজেপির নীতি নির্ধারকদের ধারণা ছিল, একজন মন্ত্রীর মঞ্চে গান গাওয়া বা বিদেশে পারফর্ম করা দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে পারে। তিনি জানান, দলের নির্দেশের কারণে তিনি পারফর্ম করা বন্ধ করতে বাধ্য হন, যা তাঁকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলেছিল।

দলবদলের কারণ ও মমতার সমর্থন

২০২১ সালে তৃণমূল কংগ্রেসে (টিএমসি) যোগ দেওয়ার পর বাবুল তাঁর সংগীত যাত্রা নতুন করে শুরু করেন। বিজেপিতে যোগ্য সম্মান না পাওয়ার ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি বলেন:

  • বিজেপিতে তাঁকে কাঙ্ক্ষিত স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি।
  • মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে একজন শিল্পী হওয়ায় তিনি শিল্পীদের সম্মান করতে জানেন।
  • তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পর মমতা তাঁকে কোনো বাধা ছাড়াই গান চালিয়ে যাওয়ার স্বাধীনতা দিয়েছেন।

বর্তমানে তিনি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নিজের সৃজনশীল সত্তা নিয়েও সন্তুষ্ট। আগামী দশ বছর তিনি সংগীতকে উৎসর্গ করতে চান বলে জানিয়েছেন।

বাবুল সুপ্রিয়র রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সফর

১৯৭০ সালে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করা বাবুল সুপ্রিয় একাধারে গায়ক, অভিনেতা এবং দুঁদে রাজনীতিক। তাঁর ক্যারিয়ারের উল্লেখযোগ্য দিকগুলো হলো:

  • সাফল্যের শুরু: ২০০০ সালে ‘কহো না প্যায়ার হ্যায়’ সিনেমার ‘দিল নে দিল কো পুকারা’ গানের মাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পান।
  • সংসদীয় ক্যারিয়ার: আসানসোল থেকে দুইবার (১৬তম ও ১৭তম লোকসভা) সাংসদ নির্বাচিত হন এবং কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
  • বর্তমান অবস্থান: ২০২১ সালে সাংসদ পদ থেকে পদত্যাগ করে তিনি তৃণমূলে যোগ দেন এবং বর্তমানে বালিগঞ্জ কেন্দ্রের বিধায়ক হিসেবে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার সদস্য।

একঝলকে

  • বিজেপি ছাড়ার প্রধান কারণ হিসেবে ক্যারিয়ারের বাধা ও স্বীকৃতির অভাবকে দায়ী করেছেন।
  • প্রধানমন্ত্রী মোদীর আপত্তির কারণে মন্ত্রিত্বকালে গান গাওয়া বন্ধ রাখতে হয়েছিল।
  • মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুপ্রেরণায় পুনরায় সংগীত চর্চায় ফিরেছেন।
  • সাংসদ পদ ছেড়ে বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *