জমি না থাকলে আর রাস্তা নয়! হাইওয়ে নির্মাণে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের

ভারতে জাতীয় মহাসড়ক বা হাইওয়ে নির্মাণের গতি বাড়াতে এবং আইনি জটিলতা কমাতে বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তন এনেছে কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক মন্ত্রণালয়। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিতিন গড়করি স্পষ্ট জানিয়েছেন, এখন থেকে কোনো নতুন হাইওয়ে প্রকল্প অনুমোদনের আগে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় ১০০ শতাংশ জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন করতে হবে।
কেন এই নিয়মের পরিবর্তন
আগে নিয়ম ছিল যে, প্রকল্পের জন্য নির্ধারিত জমির ৯০ শতাংশ অধিগ্রহণ করা হলেই কাজ শুরু করা যেত। কিন্তু দেখা গেছে, বাকি ১০ শতাংশ জমির মালিকানা বা বন বিভাগের ছাড়পত্র সংক্রান্ত জটিলতার কারণে মাঝপথে কাজ আটকে যায়। এতে প্রকল্পের খরচ যেমন বাড়ে, তেমনি সাধারণ মানুষের ভোগান্তিও দীর্ঘায়িত হয়। এই অচলবস্থা কাটাতে এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এখন থেকে শতভাগ জমি হাতে না আসা পর্যন্ত প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক শুরুর তারিখ বা ‘অয়পয়েন্টেড ডে’ ঘোষণা করা হবে না।
নতুন নিয়মের সম্ভাব্য প্রভাব ও সুবিধা
সরকারের এই সাহসী পদক্ষেপের ফলে পরিকাঠামো খাতে একাধিক ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে:
- বিবাদ ও মামলা হ্রাস: জমি নিয়ে কোনো অমীমাংসিত সমস্যা থাকলে তা কাজ শুরুর আগেই মিটিয়ে ফেলা হবে। ফলে মাঝপথে আইনি জটিলতায় কাজ বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি থাকবে না।
- দ্রুত বাস্তবায়ন: যেহেতু সব ধরনের পরিবেশগত ক্লিয়ারেন্স এবং জমির মালিকানা আগে থেকেই নিশ্চিত থাকবে, তাই ঠিকাদারী সংস্থাগুলো নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ চালিয়ে যেতে পারবে।
- আর্থিক সাশ্রয়: সময়মতো কাজ শেষ হলে প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি পাবে না। বর্তমানে মহাসড়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রায় ১৫ লক্ষ কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে, যা থেকে সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে আরও তহবিল সংগ্রহ করা সম্ভব।
ডিপিআর ও গুণগত মান নিয়ে কড়া বার্তা
সড়কের গুণগত মান বজায় রাখার ক্ষেত্রে ‘ডিটেইলড প্রজেক্ট রিপোর্ট’ (DPR) প্রস্তুতকারী কনসালট্যান্টদের আরও সতর্ক হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন নিতিন গড়করি। তিনি উল্লেখ করেন, অনেক ক্ষেত্রে ত্রুটিপূর্ণ ডিপিআর-এর কারণে সড়কের মান খারাপ হয়। এই সমস্যা সমাধানে তিনি এনএইচএআই (NHAI)-এর অভিজ্ঞ অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের পরামর্শক সংস্থা খোলার আহ্বান জানান, যাতে তাদের দীর্ঘ অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে নিখুঁত ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করা যায়।
একঝলকে
- জাতীয় মহাসড়ক প্রকল্পে ১০০ শতাংশ জমি অধিগ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
- সব ধরনের আইনি ও পরিবেশগত ছাড়পত্র পাওয়ার পরই নির্মাণ কাজ শুরু হবে।
- প্রকল্পের মাঝপথে কাজ থমকে যাওয়া এবং খরচ বেড়ে যাওয়া রোধ করাই মূল লক্ষ্য।
- সড়কের উন্নত মানের জন্য ডিপিআর বা ব্লু-প্রিন্ট তৈরিতে আরও কড়াকড়ি করা হবে।
- মন্ত্রণালয়ের ১৫ লক্ষ কোটি টাকার সম্পদকে কাজে লাগিয়ে তহবিল সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে।