বুলডোজার গর্জন এবার বাংলায়! মোদী-শাহের পর ১২ কর্মসূচি নিয়ে ময়দানে যোগী

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলার মাটিতে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে কোনো খামতি রাখছে না গেরুয়া শিবির। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ঝোড়ো সফরের পর এবার রাজ্যে পা রাখছেন বিজেপির অন্যতম ‘স্টার ক্যাম্পেইনার’ তথা উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। আগামী রবিবার থেকেই তাঁর এই হাইভোল্টেজ প্রচার অভিযান শুরু হতে চলেছে।
রবিবাসরীয় প্রচারের রূপরেখা
বিজেপি সূত্রের খবর অনুযায়ী, যোগী আদিত্যনাথের জন্য মোট ১২টি কর্মসূচির একটি প্রাথমিক তালিকা তৈরি করা হয়েছে। রবিবার তাঁর প্রচার শুরু হচ্ছে দক্ষিণবঙ্গের দুই গুরুত্বপূর্ণ জেলা থেকে।
- বাঁকুড়া: পাত্রসায়ের এলাকায় প্রথম জনসভা করবেন তিনি।
- পূর্ব মেদিনীপুর: কাঁথিতে একটি মেগা জনসভার আয়োজন করা হয়েছে।প্রয়োজনে এই কর্মসূচির সংখ্যা এবং সময় আরও বাড়ানো হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে দলের রাজ্য নেতৃত্ব।
মেরুকরণ ও হিন্দুত্বের তাস
রাজনৈতিক মহলের মতে, যোগী আদিত্যনাথকে বাংলায় নিয়ে আসার পেছনে বিজেপির সুনির্দিষ্ট কৌশল রয়েছে। উত্তরপ্রদেশে অপরাধ দমনে তাঁর কঠোর ‘বুলডোজার’ নীতি এবং কট্টর হিন্দুত্ববাদী ভাবমূর্তি তাঁকে সারা দেশের বিজেপি কর্মীদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় করে তুলেছে। বাংলায় হিন্দু ভোটব্যাঙ্ককে সংহত করতে এবং দলের কর্মীদের মধ্যে বাড়তি উদ্দীপনা তৈরি করতেই তাঁকে ময়দানে নামানো হচ্ছে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ এই সফর?
নির্বাচন ২০২৬-কে পাখির চোখ করে বিজেপি ইতিমধ্যেই রাজ্যে একাধিক হেভিওয়েট নেতাকে পাঠিয়েছে। তবে যোগীর উপস্থিতি অন্য কারণে তাৎপর্যপূর্ণ:
- কর্মীদের মনোবল বৃদ্ধি: নিচুতলার কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করতে যোগীর বক্তব্য বিশেষ কার্যকরী হবে বলে মনে করছে দল।
- কৌশলগত অবস্থান: উত্তর ও দক্ষিণ— উভয় বঙ্গেই তাঁর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করবে বিজেপি।
- পাল্টা চাপ: শাসক দলের প্রচারের বিপরীতে এক কড়া প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক বার্তা দিতেই তাঁকে এই ঝোড়ো সফরে শামিল করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, রবিবার থেকে বাংলায় ভোটের তাপমাত্রা কয়েক গুণ বাড়তে চলেছে। এখন দেখার, উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর এই ‘রোড শো’ এবং ‘জনসভা’ বাংলার নির্বাচনি সমীকরণে কতটা পরিবর্তন আনতে পারে।
একঝলকে
- প্রধান মুখ: যোগী আদিত্যনাথ, মুখ্যমন্ত্রী, উত্তরপ্রদেশ।
- শুরুর দিন: ১২ এপ্রিল, ২০২৬ (রবিবার)।
- মোট কর্মসূচি: বর্তমানে ১২টি (বাড়তে পারে)।
- প্রথম দিনের গন্তব্য: পাত্রসায়ের (বাঁকুড়া) ও কাঁথি (পূর্ব মেদিনীপুর)।
- মূল উদ্দেশ্য: হিন্দুত্ববাদী প্রচার ও সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি।