“আমার নমিনেশন বাতিল করতে চেয়েছিল গদ্দাররা”, বিস্ফোরক মমতা

“আমার নমিনেশন বাতিল করতে চেয়েছিল গদ্দাররা”, বিস্ফোরক মমতা

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নিজের মনোনয়ন পত্র ঘিরে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুললেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কেশোয়াড়ির জনসভা থেকে তিনি সরাসরি বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা ষড়যন্ত্র করে তাঁর প্রার্থিতা বাতিল করার চেষ্টা করেছিল।

মনোনয়ন রুখতে ‘মিথ্যা এফিডেভিট’

জনসভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন যে, তাঁর মনোনয়ন পত্র বাতিল করার উদ্দেশ্যে ‘গদ্দার’ বাহিনী তাঁর নামে দুটি ভুয়া হলফনামা বা এফিডেভিট জমা দিয়েছিল। তাঁর কথায়, “আমার নমিনেশন কাটবার জন্য ওই গদ্দাররা আমার নামে দুটো মিথ্যে এফিডেভিট করেছিল। আমার নমিনেশন ক্যানসেল করার চেষ্টা করেছিল। পারেনি শেষ পর্যন্ত।” তিনি আরও যোগ করেন, একজন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে যদি এমন আচরণ করা হয়, তবে সাধারণ মানুষের ওপর অত্যাচারের মাত্রা কতটা হতে পারে তা সহজেই অনুমেয়।

ভোটার তালিকা ও ইভিএম নিয়ে প্রশ্ন

নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একগুচ্ছ অভিযোগ সামনে এনেছেন:

  • ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ: কমিশনের বিরুদ্ধে তোপ দেগে তিনি জানান, প্রায় ৯০ লক্ষ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৬০ লক্ষ হিন্দু এবং ৩০ লক্ষ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ রয়েছেন।
  • ইভিএম টেম্পারিংয়ের আশঙ্কা: ইভিএম-এ চিপ বসিয়ে ভোট চুরির পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। কর্মীদের এই ষড়যন্ত্র রুখতে জোটবদ্ধ হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
  • এনআরসি ও ডিটেনশন ক্যাম্প: বিহারের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সেখানে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া ব্যক্তিদের রেশন বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। বাংলায় তৃণমূল ক্ষমতায় থাকলে এনআরসি বা ডিটেনশন ক্যাম্প হতে দেবেন না বলে তিনি স্পষ্ট জানান।

অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (UCC) নিয়ে আক্রমণ

বিজেপির সংকল্পপত্রে উল্লিখিত অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউসিসি-র তীব্র সমালোচনা করেন তৃণমূল নেত্রী। তাঁর মতে, এই বিধি কার্যকর হলে মানুষের ব্যক্তিগত ও ধর্মীয় অধিকার খর্ব হবে। তিনি বলেন, “হিন্দু, আদিবাসী, তপশিলি বা সংখ্যালঘু—সবার বিয়ের রীতি আলাদা। বিজেপি চাইছে সবার ওপর একটিই নীতি চাপিয়ে দিতে। এতে আপনাদের শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য কেড়ে নেওয়া হবে।”

লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে আশ্বাস

বিরোধীদের প্রচারের পাল্টা জবাব দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পুনরায় ঘোষণা করেন যে, ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্প কখনোই বন্ধ হবে না। এটি আজীবন এবং আমৃত্যু চলবে বলে তিনি রাজ্যের মহিলাদের আশ্বস্ত করেন।

একঝলকে

  • মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মনোনয়ন বাতিলের জন্য দুটি মিথ্যা এফিডেভিট করার অভিযোগ।
  • ভোটার তালিকা থেকে ৯০ লক্ষ মানুষের নাম বাদ দেওয়ার দাবি।
  • ইভিএম জালিয়াতির মাধ্যমে ভোট চুরির আশঙ্কা প্রকাশ।
  • অভিন্ন দেওয়ানি বিধিকে ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ হিসেবে চিহ্নিত করা।
  • লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প আজীবন চালু রাখার প্রতিশ্রুতি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *