“বামপন্থীদের কার্বন কপি তৃণমূল!” মুর্শিদাবাদে দাঁড়িয়ে মমতার সরকারকে তুলোধোনা মোদীর

মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুরে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের কঠোর সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি অভিযোগ করেন যে, বামফ্রন্ট সরকারকে সরিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মানুষ বড় আশা করে তৃণমূলকে ক্ষমতায় এনেছিল। কিন্তু বর্তমানে তৃণমূল পুরোপুরি বামেদের ‘কার্বন কপি’তে পরিণত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর মতে, বাম আমলের সেই একই সিন্ডিকেট রাজ এবং গুন্ডাতন্ত্র এখন তৃণমূলের ছত্রছায়ায় রাজ্যজুড়ে জেঁকে বসেছে।
তৃণমূলের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর গুরুতর অভিযোগ
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তার ভাষণে তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনব্যবস্থাকে ‘মহাজঙ্গলরাজ’ বলে অভিহিত করেন। তিনি দাবি করেন, একসময়ে বামপন্থীরা যেভাবে ভোটারদের হুমকি দিত, এখন সেই একই কায়দায় তৃণমূলের আশ্রিত গুন্ডারা সাধারণ মানুষকে ভয় দেখাচ্ছে। তার অভিযোগের মূল পয়েন্টগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
- পাচার ও সিন্ডিকেট রাজ: অস্ত্র, মাদক এবং গবাদি পশু পাচারের যাবতীয় নিয়ন্ত্রণ এখন তৃণমূলের হাতে। বাম আমলের সেই পুরনো ‘কাট-মানি’ সংস্কৃতি এবং সিন্ডিকেট ব্যবস্থাকে তৃণমূল আরও শক্তিশালী করেছে।
- দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি: জনগণের টাকা যারা আত্মসাৎ করছে, তাদের জন্য কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন। দুর্নীতিবাজদের জন্য জেলের দরজা খোলা রয়েছে বলে তিনি সতর্ক করেন।
- তুষ্টির রাজনীতির অবসান: রাজ্যে তুষ্টির রাজনীতি বন্ধ করতে এবং জাতীয় নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (ইউসিসি) কার্যকর করার অঙ্গীকার করেছে।
বাংলার উন্নয়ন ও আগামীর দিশা
প্রধানমন্ত্রী আশাপ্রকাশ করেন যে, বাংলার মানুষ এবার পরিবর্তনের সংকল্প নিয়েছে। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, বিজেপি ক্ষমতায় এলে রাজ্যে ভয়ের পরিবেশের বদলে সুযোগের যুগ আসবে। শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্যে রাজ্যে এইমস (AIIMS), আইআইটি (IIT) এবং আইআইএম (IIM)-এর মতো বিশ্বমানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হবে যাতে স্থানীয় মেধাবী তরুণদের কাজের খোঁজে বাইরে যেতে না হয়।
পরিবর্তনের ধারা এবং বাংলার ইতিহাস
বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাস তুলে ধরে মোদী বলেন, এ রাজ্যের মানুষ যখনই পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়, তখন পৃথিবীর কোনো শক্তি তাদের আটকাতে পারে না। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, আগে ইংরেজদের অহংকার ভেঙেছে, এরপর কংগ্রেস ও বামপন্থীদের অহংকার চূর্ণ হয়েছে। এখন তৃণমূলের অহংকার চূর্ণ হওয়ার সময় এসেছে। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ নিজেদের পরিচয়, সম্মান এবং উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য এবার বিজেপিকে বেছে নেবে বলে তিনি দৃঢ় বিশ্বাস প্রকাশ করেন।
একঝলকে
- তৃণমূলকে বামপন্থীদের ‘কার্বন কপি’ ও সিন্ডিকেট রাজের হোতা হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
- পাচার ও দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের জন্য জেলের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
- বাংলায় ইউসিসি কার্যকর করার মাধ্যমে তুষ্টির রাজনীতি বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
- রাজ্যে উচ্চমানের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের জন্য আইআইটি, আইআইএম এবং এইমস তৈরির লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে।
- ভয়মুক্ত পশ্চিমবঙ্গ গড়ে তোলার এবং হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানিয়েছেন মোদী।