“বড় মন দেখাক ভারত, কিন্তু পাকিস্তান পাপীই থাকবে!” মধ্যস্থতাকারী সেজে বসা ইসলামাবাদকে কড়া জবাব থারুরের

ইরান ও আমেরিকার মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর মধ্যস্থতাকারী হিসেবে আলোচনায় এসেছে পাকিস্তান। শনিবার ১১ এপ্রিল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে এই যুদ্ধবিরতি নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। প্রায় এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা আমেরিকা-ইসরায়েল বনাম ইরান সংঘাত থামানোর কৃতিত্ব পাকিস্তান নিতে চাইলেও ভারতের প্রবীণ রাজনীতিবীদ ও কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর প্রতিবেশী দেশটির অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছেন।
পাকিস্তানের শান্তিদূত ভাবমূর্তি ও ভারতের অবস্থান
পাকিস্তান নিজেকে আন্তর্জাতিক মহলে শান্তিদূত হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করলেও শশী থারুর মনে করেন, এতে তাদের পুরনো অপরাধ ঢাকা পড়বে না। থারুরের মতে, ২৬/১১ মুম্বই হামলার মতো নারকীয় ঘটনা কিংবা সীমান্তপার সন্ত্রাসবাদে মদত দেওয়ার ইতিহাস ভারতের স্মৃতিতে এখনও অমলিন। পাকিস্তান বর্তমানে আলোচনার টেবিলে থাকলেও ভারতের প্রতি তাদের নীতিতে কোনো মৌলিক পরিবর্তন আসেনি।
সন্ত্রাসের প্রশ্নে পাকিস্তানের দ্বিমুখী নীতি
শশী থারুর অত্যন্ত স্পষ্টভাবে পাকিস্তানের দ্বিমুখী আচরণের ব্যবচ্ছেদ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন:
- পাকিস্তান আজ পর্যন্ত কোনো তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসবাদীর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।
- তাদের ভূখণ্ডে সক্রিয় জঙ্গি প্রশিক্ষণ ক্যাম্পগুলো আজও বন্ধ করা হয়নি।
- পহেলগামে সাম্প্রতিক জঙ্গি হামলায় ২৬ জন নিরীহ মানুষের প্রাণহানির ক্ষত ভারত ভুলে যায়নি।
থারুরের দাবি, এই বাস্তবতাকে এড়িয়ে পাকিস্তান হঠাৎ করে শান্তির বার্তাবাহক হতে পারে না।
ভারতের গঠনমূলক ভূমিকা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা
শশী থারুর জানান, যুদ্ধবিরতি যে দেশই আনুক না কেন—তা পাকিস্তান হোক বা অন্য কেউ—মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি বজায় থাকা ভারতের জাতীয় স্বার্থের অনুকূলে। তিনি বলেন, ভারত একটি প্রাচীন সভ্যতা এবং আমাদের বড় মনের পরিচয় দেওয়া উচিত। এই সংকটে ভারতের একটি ‘কনস্ট্রাক্টিভ রোল’ বা গঠনমূলক ভূমিকা পালন করা প্রয়োজন।
কেন পাকিস্তান মধ্যস্থতায় আগ্রহী
পাকিস্তানের এই আকস্মিক সক্রিয়তার পেছনে থারুর কিছু কৌশলগত কারণ বিশ্লেষণ করেছেন:
- ওয়াশিংটনের প্রভাব: থারুরের মতে, আমেরিকার সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। এমনকি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের ভাষা পর্যন্ত ওয়াশিংটন থেকে নির্ধারিত হয় বলে তিনি কটাক্ষ করেন।
- শরণার্থী সংকট: ইরানের সঙ্গে পাকিস্তানের ৯০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন আমেরিকা যদি ইরানে বড় ধরনের হামলা চালায়, তবে ইরানের বিশাল সংখ্যক শরণার্থী পাকিস্তানে আশ্রয় নেবে। এই চাপ এড়াতেই পাকিস্তান যুদ্ধ থামাতে মরিয়া।
একঝলকে
- ইরান ও আমেরিকার মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে মধ্যস্থতা করছে পাকিস্তান।
- শশী থারুর মনে করেন, শান্তিদূত সেজে পাকিস্তান তাদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ইতিহাস মুছতে পারবে না।
- মুম্বই হামলা ও পহেলগাম ট্র্যাজেডির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে পাকিস্তানের সদিচ্ছাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন থারুর।
- আঞ্চলিক শান্তি ভারতের স্বার্থের জন্য জরুরি হলেও পাকিস্তানের অতীত ভুললে চলবে না।
- শরণার্থী সংকট এড়াতেই পাকিস্তান এই শান্তি আলোচনায় সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছে।