“দিল্লি থেকে এল গাই, সাথে এল মোটাভাই”— বাঁকুড়ার সভা থেকে শাহকে ছন্দে বিঁধলেন মমতা!

২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের পারদ চড়ছে। রাজনৈতিক আক্রমণ ও প্রতি-আক্রমণে উঠে আসছে সত্যজিৎ রায়ের সিনেমার রূপক। শনিবার বাঁকুড়ার বড়জোড়ার জনসভা থেকে কেন্দ্রীয় বিজেপি নেতৃত্বকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করে ক্ষমতা দখলের চেষ্টার অভিযোগ তুলে তিনি বিজেপিকে ‘হল্লার দল’ বলে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ পাল্টাক্ষেপ করে মমতাকে ‘হীরক রানি’ বলে কটাক্ষ করেছেন।
সত্যজিৎ রায়ের রূপকে রাজনৈতিক আক্রমণ
এবারের নির্বাচনী প্রচারে দুই পক্ষই প্রতিপক্ষকে আক্রমণ করতে কিংবদন্তি চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়ের কালজয়ী চরিত্র ও সংলাপকে হাতিয়ার করেছেন।
- অমিত শাহের আক্রমণ: শাহ সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, “হীরক রানিকে চেনেন তো? কে সে? এবার হীরক রানিকে টাটা বাই বাই করার সময় চলে এসেছে।”
- মমতার পাল্টা জবাব: এর জবাবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ইডি, সিবিআই এবং নির্বাচন কমিশনের মতো প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহার করে বিজেপি বাংলা দখল করতে চাইছে। তিনি বিজেপিকে ‘দিল্লির বর্গী’ এবং ‘জমিদার’ বলে সম্বোধন করে বলেন, “মনে হচ্ছে হল্লা বল আসছে, ওরা সব হল্লার দল।”
কেন্দ্রীয় বঞ্চনা ও জুমলার অভিযোগ
বড়জোড়ার সভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন যে, বিজেপি সরকার গত ১২ বছরেও দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারেনি। রেলের শূন্যপদ পূরণ না করা এবং প্রতি অ্যাকাউন্টে ১৫ লক্ষ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতিকে তিনি ‘জুমলা’ বলে কটাক্ষ করেন। মমতা দাবি করেন, কেন্দ্রীয় সরকার বাংলার বকেয়া ২ লক্ষ কোটি টাকা আটকে রেখেছে। তিনি আরও জানান, বিজেপি যে সপ্তম পে কমিশনের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে, তা আসলে গত ফেব্রুয়ারি মাসেই কার্যকর হয়ে গিয়েছে।
কৃষকদের সুরক্ষা ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা
আলু চাষিদের সমস্যা নিয়ে বিজেপি নেতৃত্বের সমালোচনার জবাবে মমতা বলেন, চাষিরা বাংলায় সুরক্ষিত।
- এ রাজ্যে আলু চাষিদের জন্য ‘কপ ইন্স্যুরেন্স’ বা শস্য বিমা রয়েছে।
- ফসল নষ্ট হলে সরকার সরাসরি কৃষকদের থেকে আলু কিনে নেয় এবং ক্ষতিপূরণ দেয়।
- বিজেপি নেতাদের ‘গর্দভের দল’ বলে আক্রমণ করে তিনি বলেন, বাংলার চাষিদের নিয়ে কথা বলার আগে তাদের অন্য রাজ্যে কৃষকদের আত্মহত্যা রোধে কাজ করা উচিত।
ইভিএম এবং এনআরসি নিয়ে আশঙ্কা
নির্বাচনী স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে মমতা আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, বিজেপি ভোটের দিন ইভিএম মেশিন বিকল করে তাতে বিশেষ ‘চিপ’ ঢোকাতে পারে। সেই সাথে ডিলিমিটেশন বিল এবং এনআরসি (NRC) কার্যকর করে বাংলাকে টুকরো করার ষড়যন্ত্র চলছে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
একঝলকে
- বিজেপিকে তোপ: বিজেপিকে ‘হল্লার দল’ এবং ‘দিল্লির বর্গী’ বলে মমতার আক্রমণ।
- হীরক রানি: মমতাকে ‘হীরক রানি’ বলে শাহের কটাক্ষ এবং বিদায় নেওয়ার আহ্বান।
- কেন্দ্রীয় বঞ্চনা: বাংলার ২ লক্ষ কোটি টাকা বকেয়া নিয়ে সরব মুখ্যমন্ত্রী।
- কৃষক ইস্যু: বাংলার আলু চাষিদের জন্য বিমা ও সরকারি সাহায্যের কথা ঘোষণা।
- ইভিএম বিতর্ক: ইভিএম কারচুপির আশঙ্কা প্রকাশ করে কর্মীদের শেষ পর্যন্ত পাহারার নির্দেশ।