বাড়ি বাড়ি ঘুরে লোক গণনার কাজ, ২০২৭-এর জনগণনায় উপরি আয়ের সুযোগ! জানুন আবেদনের পদ্ধতি

বাড়ি বাড়ি ঘুরে লোক গণনার কাজ, ২০২৭-এর জনগণনায় উপরি আয়ের সুযোগ! জানুন আবেদনের পদ্ধতি

ভারতে আসন্ন ২০২৭ সালের আদমশুমারি বা জনগণনাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক মহলে তৎপরতা শুরু হয়েছে। দেশের ১৬তম এই শুমারি কেবল জনসংখ্যা নিরূপণ নয়, বরং দেশ গঠনের এক বিশাল কর্মযজ্ঞ। এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হয়ে বাড়তি আয়ের সুযোগ পেতে পারেন কয়েক লাখ সরকারি কর্মী। এবারের জনগণনার সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব হলো এর ডিজিটাল রূপান্তর।

কারা পাবেন এই কাজের দায়িত্ব

জনগণনার কাজে সাধারণত আলাদাভাবে কোনো নতুন স্থায়ী কর্মী নিয়োগ করা হয় না। সরকারের বিভিন্ন স্তরে কর্মরত ব্যক্তিদেরই এই বিশেষ দায়িত্বের জন্য বেছে নেওয়া হয়। সাধারণত যারা এই কাজের সুযোগ পান:

  • সরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুলের শিক্ষক।
  • অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ও সহায়িকা।
  • পাটোয়ারি ও স্থানীয় প্রশাসনের কেরানি।
  • অন্যান্য রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী।

কাজের ধরন ও সংগৃহীত তথ্য

গণনাকারী বা ‘এনিউমারেটর’ হিসেবে নিযুক্ত ব্যক্তিদের মূল কাজ হবে প্রতিটি দরজায় গিয়ে নির্দিষ্ট ফর্ম পূরণ করা। এবার মূলত দুটি ধাপে তথ্য সংগ্রহ করা হবে— প্রথমত বাড়ির তালিকা তৈরি এবং দ্বিতীয়ত জনসংখ্যা গণনা। যে বিষয়গুলোর ওপর জোর দেওয়া হবে:

  • পরিবারের সদস্য সংখ্যা এবং তাদের সঠিক বয়স।
  • সদস্যদের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও বর্তমান পেশা।
  • বাসস্থানের ধরন, মালিকানা এবং কক্ষের সংখ্যা।
  • মৌলিক সুবিধা যেমন— পানীয় জল, বিদ্যুৎ, শৌচাগার ও রান্নার জ্বালানি।
  • আধুনিক জীবনযাত্রার মান বুঝতে ইন্টারনেট, মোবাইল, কম্পিউটার ও যানবাহনের তথ্য।

আয়ের পরিমাণ ও আর্থিক সুবিধা

যেহেতু এই কাজে নিযুক্ত কর্মীরা আগে থেকেই সরকারি বেতনের আওতাভুক্ত, তাই এখানে কোনো স্থায়ী বেতন দেওয়া হয় না। তবে এই অতিরিক্ত পরিশ্রমের জন্য সরকার নির্দিষ্ট পরিমাণ ‘অনারারিয়াম’ বা সম্মানী প্রদান করে। দায়িত্ব ও কাজের পরিধি অনুযায়ী এই সম্মানীর পরিমাণ ১৫,০০০ টাকা থেকে ৩০,০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

ডিজিটাল বিপ্লব ও সেলফ এনুমারেশন

২০২৭ সালের জনগণনায় ভারত সরকার প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে চলেছে। এবারই প্রথম সাধারণ নাগরিকরা চাইলে নিজেরাই অনলাইনে তথ্য জমা দিতে পারবেন, যাকে বলা হচ্ছে ‘সেলফ এনুমারেশন’। ডিজিটাল অ্যাপ ব্যবহারের ফলে তথ্য সংগ্রহের নির্ভুলতা বাড়বে এবং ফলাফল দ্রুত প্রকাশ করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

একঝলকে

  • প্রক্রিয়া: ভারতের ১৬তম ডিজিটাল আদমশুমারি।
  • সময়কাল: ২০২৭ সালে দুটি ধাপে সম্পন্ন হবে।
  • নিয়োগ: শিক্ষক, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ও সরকারি কর্মচারীদের অগ্রাধিকার।
  • বাড়তি আয়: কাজ শেষে ১৫,০০০ থেকে ৩০,০০০ টাকা সম্মানী পাওয়ার সুযোগ।
  • বিশেষত্ব: এবারই প্রথম সাধারণ মানুষের জন্য থাকছে অনলাইন তথ্য প্রদানের সুবিধা।
  • পরিচালনায়: কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনে রেজিস্ট্রার জেনারেল ও সেনসাস কমিশনার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *