“পাকিস্তানই এর যোগ্য”, মধ্যপ্রাচ্য সংকটে ইসলামাবাদকে তীব্র কটাক্ষ শশী থারুরের

“পাকিস্তানই এর যোগ্য”, মধ্যপ্রাচ্য সংকটে ইসলামাবাদকে তীব্র কটাক্ষ শশী থারুরের

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা নিরসনে পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারী হওয়ার প্রচেষ্টাকে তীব্র কটাক্ষ করেছেন ভারতের কংগ্রেস সংসদ সদস্য শশী থারুর। ওয়াশিংটন ও তেহরানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ইসলামাবাদের আলোচনার উদ্যোগকে ভারতের কূটনৈতিক কৌশলের সঙ্গে তুলনা করে তিনি পাকিস্তানের সীমাবদ্ধতাগুলো তুলে ধরেন। সম্প্রতি দিল্লিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি ভারতের কৌশলগত অবস্থানের পক্ষে যুক্তি প্রদর্শন করেন।

পাকিস্তানের টুইট বিতর্ক ও থারুরের খোঁচা

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টকে কেন্দ্র করে এই বিতর্কের সূত্রপাত। থারুর অভিযোগ করেন, ওই পোস্টের এডিট হিস্ট্রি দেখে বোঝা যাচ্ছিল সেটি পাকিস্তান সরকারের নিজস্ব নয়, বরং অন্য কারো ড্রাফট করা। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রীর জন্য কোনো বার্তা লেখা হলে তার উপরে কি অন্য কারো নির্দেশনামূলক শিরোনাম থাকত? তিনি ব্যঙ্গ করে বলেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে পাকিস্তান যে ধরনের সম্পর্ক বজায় রাখে, এমন ভূমিকা পালন করা কেবল তাদের পক্ষেই সম্ভব।

মধ্যস্থতার নেপথ্যে পাকিস্তানের বাধ্যবাধকতা

ইরান ও আমেরিকার দ্বন্দ্বে পাকিস্তানের এই অতি-সক্রিয়তার পেছনে ভৌগোলিক ও সামাজিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে বলে মনে করেন থারুর। তার মতে:

  • ইরানের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রায় ৯০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে।
  • পাকিস্তানে বিপুল সংখ্যক শিয়া ধর্মাবলম্বী মানুষের বসবাস।
  • সংঘাত ব্যাপক আকার ধারণ করলে শরণার্থীদের প্রথম ঢেউ সামলানোর ঝুঁকি ইসলামাবাদের ওপরই পড়বে।

তিনি স্পষ্ট করেন, পাকিস্তানের এই দৌড়ঝাঁপ মূলত নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার তাগিদে। অন্যদিকে, ভারতের লক্ষ্য কেবল সংঘাতের অবসান ঘটানো, কে মধ্যস্থতা করল তা নিয়ে ভারতের কোনো মাথাব্যথা নেই।

ভারতের অর্থনীতি ও নীরব কূটনীতি

শশী থারুর ভারতের স্বার্থের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে ব্যাখ্যা করেন। উপসাগরীয় দেশগুলোতে এক কোটিরও বেশি ভারতীয় নাগরিক কাজ করেন। যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় ভারতের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। থারুর বলেন, শান্তি ফিরিয়ে আনা ভারতের জন্য অত্যন্ত জরুরি। তবে এর জন্য সবসময় উচ্চকণ্ঠ হতে হবে এমন নয়। কখনও কখনও ‘নীরবতা’ একটি শক্তিশালী কূটনৈতিক অবদান হতে পারে। ভারত কোন ভূমিকা সবচেয়ে ভালোভাবে পালন করতে পারবে, তা নিরূপণ করা জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

দলের সমালোচনা ও থারুরের ভিন্নমত

কংগ্রেসের পক্ষ থেকে পাকিস্তানের এই ভূমিকাকে ভারতের বিদেশনীতির ব্যর্থতা হিসেবে দেখা হলেও থারুর সেই অবস্থান নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি ভারতকে একটি দায়িত্বশীল আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে বর্ণনা করেন। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন যে, কূটনৈতিক অঙ্গনে শূন্যতা তৈরি হওয়া বিপজ্জনক হতে পারে। বর্তমানে ইসলামাবাদে আমেরিকা ও ইরানের প্রতিনিধিরা থাকলেও যুদ্ধের অবসান ঘটাতে এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট রূপরেখা তৈরি হয়নি।

একঝলকে

  • পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর টুইট পোস্টকে ‘বিদেশি ড্রাফট’ বলে কটাক্ষ করেছেন শশী থারুর।
  • ইরানের সঙ্গে দীর্ঘ সীমান্ত ও শরণার্থী সমস্যার ভয়েই পাকিস্তান মধ্যস্থতায় মরিয়া।
  • ভারতের প্রধান লক্ষ্য প্রক্রিয়া নয় বরং যুদ্ধের ফলপ্রসূ সমাধান ও জ্বালানি নিরাপত্তা।
  • ভারতকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য নিজস্ব শক্তিশালী অবস্থান বজায় রাখার পরামর্শ।
  • কূটনৈতিক নীরবতাকেও ভারতের জন্য একটি কার্যকর কৌশল হিসেবে দেখছেন তিনি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *