বিজেপির কোনো চালই আর ‘চলবে না’! পাটনায় দাঁড়িয়ে মেগা হুঙ্কার শত্রুঘ্ন সিনহার

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক পারদ এখন তুঙ্গে। এই আবহে ভারতের কেন্দ্রীয় ক্ষমতাসীন দল বিজেপিকে কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন আসানসোলের তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) সাংসদ শত্রুঘ্ন সিনহা। শনিবার পাটনা বিমানবন্দরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, বাংলায় বিজেপির কোনো ষড়যন্ত্র বা কৌশল সফল হবে না। তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশংসা করে তিনি বলেন, বিজেপি যে বিপুল অর্থের বিনিময়ে ডিল করার চেষ্টা করছিল, তা জনসমক্ষে ফাঁস করে দেওয়া হয়েছে।
বিজেপির নীতি ও ওয়াশিং মেশিন তত্ত্বের সমালোচনা
শত্রুঘ্ন সিনহা বিজেপির তথাকথিত ‘ওয়াশিং মেশিন’ রাজনীতির তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ তোলেন, যে নেতাদের বিরুদ্ধে বিজেপি আগে হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ এনেছিল, তাদেরই এখন দলে টেনে পবিত্র করা হচ্ছে। মহারাষ্ট্রের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সেখানে দুর্নীতির অভিযোগ থাকা নেতাকে দলে নেওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই অর্থমন্ত্রী করা হয়েছে। এই দ্বিমুখী নীতি বাংলার মানুষ গ্রহণ করবে না বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব ও উন্নয়নের বার্তা
বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘আয়রন লেডি’ হিসেবে অভিহিত করে সিনহা দাবি করেন, তার নেতৃত্ব পরীক্ষিত এবং সফল। তিনি আত্মবিশ্বাসের সাথে জানান, আসন্ন নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস অভাবনীয় ফলাফল করবে। কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি বলেন, মনরেগা প্রকল্পে বাংলার গরিব মানুষের প্রায় ২ লক্ষ কোটি টাকা কেন্দ্র আটকে রেখেছে। ১৫ লক্ষ টাকা অ্যাকাউন্টে দেওয়া বা বছরে ২ কোটি চাকরির প্রতিশ্রুতিকে তিনি স্রেফ ‘জুমলা’ বা ফাঁকা বুলি বলে মন্তব্য করেন।
বিহারে ক্ষমতার পরিবর্তন ও প্রশান্ত কিশোর প্রসঙ্গ
বিহারের রাজনীতি নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে সিনহা বলেন, সেখানে দ্রুত মুখ্যমন্ত্রী বদলের কোনো সম্ভাবনা আপাতত নেই। নীতীশ কুমারকে বিশ্রাম নেওয়ার পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি তিনি ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোরের ভূয়সী প্রশংসা করেন। পিকে-কে একজন ‘ভিশনারি’ ও ‘বিদ্বান’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জানান, বিহারের রাজনীতিতে তার ভূমিকার ওপর নজর রাখা প্রয়োজন।
একঝলকে
- বিজেপির কোনো কৌশল বাংলায় খাটবে না বলে দাবি শত্রুঘ্ন সিনহার।
- অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপির দুর্নীতির ছক উন্মোচন করেছেন বলে তিনি মনে করেন।
- বিজেপির ‘ওয়াশিং মেশিন’ রাজনীতি ও দুর্নীতির দ্বিমুখী নীতির সমালোচনা।
- মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূলের বিপুল জয়ের পূর্বাভাস।
- কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে বাংলার বকেয়া টাকা আটকে রাখার অভিযোগ।
- প্রশান্ত কিশোরকে বিহারের রাজনীতির জন্য একজন দূরদর্শী ব্যক্তিত্ব হিসেবে বর্ণনা।