ছেলের জন্য ঘরবাড়ি বিক্রি, এমনকি জেলবাস! আইপিএলের নতুন হিরো মুকুল চৌধুরীর উত্থানের নেপথ্যে এক বাবার অবিশ্বাস্য ত্যাগ

ছেলের জন্য ঘরবাড়ি বিক্রি, এমনকি জেলবাস! আইপিএলের নতুন হিরো মুকুল চৌধুরীর উত্থানের নেপথ্যে এক বাবার অবিশ্বাস্য ত্যাগ

লখনউ সুপার জায়ান্টসের অভাবনীয় জয়ের নায়ক এখন ২১ বছর বয়সী তরুণ ক্রিকেটার মুকুল চৌধুরী। কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিরুদ্ধে তার বিধ্বংসী ব্যাটিং যখন ক্রিকেট বিশ্বকে অবাক করে দিচ্ছিল, তখন গ্যালারির আড়ালে লুকিয়ে ছিল এক বাবার দীর্ঘ ২০ বছরের হাহাকার আর লড়াইয়ের গল্প। মুকুলের প্রতিটি ছক্কা যেন তার বাবার অপমানের জবাব আর ত্যাগের প্রতিফলন।

পরাজয়ের মুখ থেকে ছিনিয়ে আনা জয়

কলকাতার বিরুদ্ধে জয়ের জন্য শেষ ২২ বলে প্রয়োজন ছিল ৫৪ রান। বড় ব্যাটাররা তখন প্যাভিলিয়নে। ক্রিজে থাকা মুকুল চৌধুরী তখন ৮ বলে মাত্র ২ রান করে ধুঁকছিলেন। কেকেআরের জয় যখন সময়ের ব্যাপার, ঠিক তখনই জ্বলে ওঠেন মুকুল। মহেন্দ্র সিং ধোনির স্টাইলে একটি ‘হেলিকপ্টার শট’ দিয়ে শুরু হয় তাণ্ডব। শেষ পর্যন্ত ৭টি ছক্কা ও ২টি চারে লখনউকে এনে দেন এক অবিশ্বাস্য জয়।

২০ বছর আগের দেখা সেই স্বপ্ন

মুকুলের বাবা দলিপ চৌধুরীর এই লড়াই শুরু হয়েছিল ২০০৩ সালে। গ্র্যাজুয়েশন শেষ করার বছরেই তার বিয়ে হয়। তখনই তিনি প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, তার ছেলে হলে তাকে বড় ক্রিকেটার বানাবেন। মুকুলের জন্মের পর থেকেই সেই স্বপ্ন পূরণে নিজের সর্বস্ব বিলিয়ে দেন দলিপ।

ছেলের ক্যারিয়ারের জন্য ঘরবাড়ি বিক্রি ও জেলবাস

মুকুলকে ভালো কোচিং করানোর জন্য জয়পুরের একাডেমি থেকে সিকারের একাডেমিতে পাঠান তার বাবা। কিন্তু এই যাত্রায় আর্থিক সংকট তাদের পিছু ছাড়েনি। ছেলের খেলার খরচ ও কিট কেনার টাকা জোগাতে দলিপ চৌধুরীকে চরম সিদ্ধান্ত নিতে হয়।

  • সম্পদ বিক্রি: নিজের মাথা গোঁজার একমাত্র সম্বল বাড়িটি তিনি ২১ লক্ষ টাকায় বিক্রি করে দেন।
  • কারাবরণ: হোটেলের ব্যবসা ও ছেলের খেলাধুলার জন্য নেওয়া ঋণের বোঝা সামলাতে না পেরে তাকে জেলেও যেতে হয়েছিল। দলিপের ভাষায়, “আমি কাউকে ঠকাতে চাইনি, কিন্তু ছেলের স্বপ্নের পেছনে ছুটতে গিয়ে ঋণী হয়ে জেল খাটতে হয়েছে।”

পরিশ্রমের ফসল ও কোটি টাকার চুক্তি

মুকুলের ভাগ্য বদলাতে শুরু করে গত বছর সৈয়দ মুস্তাক আলী ট্রফিতে দিল্লির বিপক্ষে শেষ ওভারে ২৫ রান তুলে রাজস্থানকে জেতানোর পর। সেই পারফরম্যান্স নজর কাড়ে আইপিএল স্কাউটদের। নিলামে লখনউ সুপার জায়ান্টস ২.৬০ কোটি টাকায় এই তরুণ তুর্কিকে দলে নেয়। ম্যাচ শেষে মুকুল জানান, গত কয়েক মাস ধরে তিনি প্রতিদিন ১০০ থেকে ১৫০টি ছক্কা মারার অনুশীলন করেছেন।

একঝলকে

  • নায়ক: মুকুল চৌধুরী (লখনউ সুপার জায়ান্টস)।
  • পারফরম্যান্স: কলকাতার বিরুদ্ধে শেষ মুহূর্তে ৭টি ছক্কা ও ২টি চার।
  • বাবার ত্যাগ: ছেলের কোচিংয়ের জন্য নিজের বাড়ি বিক্রি ও ঋণের দায়ে জেলবাস।
  • নিলাম মূল্য: ২.৬০ কোটি টাকা।
  • অনুপ্রেরণা: মহেন্দ্র সিং ধোনির ফিনিশিং স্টাইল ও হেলিকপ্টার শট।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *