মুখ ফসকে গালি দিলেই পকেট ফাঁকা! ৫০০ টাকা জরিমানা না দিলে করতে হবে এই কাজ

মধ্যপ্রদেশের বুরহানপুর জেলার বোরসার গ্রাম এখন এক অনন্য সামাজিক পরিবর্তনের উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গ্রামটিকে ‘শালীন গ্রাম’ হিসেবে গড়ে তুলতে পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ এক কঠোর ও অভিনব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এখন থেকে এই গ্রামে প্রকাশ্যে অশালীন ভাষা বা গালিগালাজ করলেই অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গুনতে হবে মোটা অঙ্কের জরিমানা। মূলত ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে কুপ্রভাব থেকে বাঁচাতে এবং সুস্থ সামাজিক পরিবেশ বজায় রাখতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
শাস্তির বিধান ও পঞ্চায়েতের উদ্যোগ
বোরসার গ্রাম পঞ্চায়েতের সাম্প্রতিক বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, গ্রামে কেউ অশালীন আচরণ করলে বা মুখে গালি দিলে তাকে ৫০০ টাকা জরিমানা দিতে হবে। তবে কেউ যদি অর্থদণ্ড দিতে না পারেন, তবে তার জন্য রয়েছে বিকল্প শাস্তি। সেক্ষেত্রে ওই ব্যক্তিকে গ্রামের কোনো নির্দিষ্ট এলাকা এক ঘণ্টা ধরে পরিষ্কার করার কাজ করতে হবে।
পঞ্চায়েতের উপপ্রধান বিনোদ শিন্ডের মতে, শিশু থেকে বৃদ্ধ—সবার মধ্যেই অশ্রাব্য ভাষা ব্যবহারের প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গিয়েছিল। বিশেষ করে নারীদের লক্ষ্য করে কুরুচিকর মন্তব্য বন্ধ করতেই এই কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। সচেতনতা বাড়াতে ইতিমধ্য়েই গ্রামজুড়ে এই নিয়ম সম্বলিত পোস্টার লাগানো হয়েছে।
কেন এই সিদ্ধান্ত এবং এর প্রভাব
গ্রামের যুবক অশ্বিন পাটিল এই ধারণার মূল উদ্যোক্তা। তিনি জানান, ১২-১৩ বছরের কিশোরদের মুখে নিয়মিত গালিগালাজ শুনে তিনি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলেন। কিশোরদের ভবিষ্যৎ চরিত্র গঠনে এটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছিল। তার প্রস্তাবের ভিত্তিতেই পঞ্চায়েত প্রধান ও উপপ্রধান এই নিয়ম কার্যকর করেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এই নিয়ম চালুর পর গ্রামটিতে ইতিবাচক পরিবর্তন দৃশ্যমান। জয়শ্রী নামের এক স্থানীয় নারী জানান, শাস্তির ভয় থাকায় এখন সবাই কথা বলার সময় সতর্ক থাকছেন। এমনকি ছোটদের মধ্যেও এই প্রবণতা অনেক কমেছে। সমাজতাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে, এটি কেবল একটি আইনি বাধ্যবাধকতা নয়, বরং একটি সুস্থ ও সংস্কৃতিবান সমাজ গড়ার পথে বড় পদক্ষেপ।
একঝলকে
- স্থান: বোরসার গ্রাম, বুরহানপুর জেলা, মধ্যপ্রদেশ।
- নিয়ম: গালিগালাজ বা অশালীন ভাষা ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা।
- শাস্তি: ৫০০ টাকা জরিমানা অথবা এক ঘণ্টা গ্রাম পরিষ্কার করার কাজ।
- উদ্দেশ্য: শিশুদের নৈতিক চরিত্র গঠন ও নারীদের সম্মান রক্ষা করা।
- ফলাফল: গ্রামে অশালীন ভাষার ব্যবহার উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে।