ভারতীয়দের ঘরেই লুকিয়ে আছে ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের ‘সোনার খনি’! মাত্র ২ শতাংশ ব্যবহার করলেই কি বদলে যাবে দেশের ভাগ্য?

ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ স্বর্ণ ব্যবহারকারী দেশ হিসেবে পরিচিত। তবে সাম্প্রতিক এক গবেষণা প্রতিবেদনে ভারতীয় পরিবারগুলোর কাছে থাকা স্বর্ণের যে পরিমাণ উঠে এসেছে, তা রীতিমতো বিস্ময়কর। বর্তমানে ভারতীয়দের ব্যক্তিগত সংগ্রহে থাকা সোনার বাজারমূল্য প্রায় ৫ ট্রিলিয়ন ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় যা প্রায় ৪১৫ লক্ষ কোটি টাকা)। এই বিপুল সম্পদ বিশ্বের অনেক দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মোট রিজার্ভের চেয়েও বেশি।
পারিবারিক সঞ্চয়ে সোনার পাহাড়
অ্যাসোচ্যাম (ASSOCHAM) এবং ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, ভারতের সরকারি ভাণ্ডারে বর্তমানে প্রায় ৮৮০ টন সোনা গচ্ছিত রয়েছে। কিন্তু সাধারণ মানুষের অন্দরে বা ব্যক্তিগত মালিকানায় থাকা সোনার পরিমাণ এর চেয়ে বহুগুণ বেশি। বিশ্বজুড়ে গৃহস্থালি সম্পদের ক্ষেত্রে ভারতীয়দের এই স্বর্ণ সঞ্চয় এককভাবে শীর্ষস্থানে রয়েছে। ভারতীয় সংস্কৃতিতে সোনা কেবল অলঙ্কার নয়, বরং এটি একটি গভীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার প্রতীক।
মাত্র ২ শতাংশ সোনা পাল্টে দিতে পারে জিডিপি
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই বিপুল পরিমাণ সোনা যদি কেবল লকারে বা আলমারিতে অলঙ্কার হিসেবে ফেলে না রেখে দেশের মূল অর্থনৈতিক স্রোতে যুক্ত করা যায়, তবে ভারতের সমৃদ্ধি হবে অভাবনীয়।
- ২ শতাংশের জাদুর কাঠি: ভারতীয়রা যদি তাদের জমানো সোনার মাত্র ২ শতাংশ প্রতি বছর গোল্ড বন্ড বা বিভিন্ন সরকারি স্কিমের মাধ্যমে অর্থনীতিতে বিনিয়োগ করে, তবে ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতের জিডিপিতে ৭.৫ ট্রিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত প্রবৃদ্ধি যোগ হবে।
- বিশ্বগুরু হওয়ার পথ: এই প্রক্রিয়া সফল হলে ২০৪৭ সাল নাগাদ ভারতের অর্থনীতি বর্তমানের আনুমানিক ৩৪ ট্রিলিয়ন ডলার থেকে লাফিয়ে ৪১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।
অলস সম্পদকে সক্রিয় করার চ্যালেঞ্জ
ভারতীয়দের মধ্যে সোনা গহনা বা বিস্কুট আকারে ধরে রাখার প্রবণতা বেশি। ফলে এই সম্পদ উৎপাদনশীল খাতে সরাসরি ভূমিকা রাখতে পারছে না। এই স্থবিরতা কাটাতে এবং দেশের অবকাঠামো, কৃষি ও শিল্প খাতে অর্থের যোগান নিশ্চিত করতে ‘গোল্ড মনেটাইজেশন’ বা স্বর্ণ নগদীকরণ প্রকল্পের গুরুত্ব অপরিসীম।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে গোল্ড লোনের জনপ্রিয়তা বাড়লেও এই খাতের পূর্ণ সম্ভাবনা এখনো কাজে লাগানো যায়নি। সোনা যখন অলঙ্কারের গণ্ডি পেরিয়ে বিনিয়োগের হাতিয়ার হবে, তখনই এটি দেশের উন্নয়নের প্রধান জ্বালানি হিসেবে কাজ করবে। সঠিক সরকারি নীতিমালা ও জনসচেতনতা এই নিথর সম্পদকে দেশের অর্থনৈতিক শক্তির মূল ভিত্তিতে রূপান্তর করতে পারে।
একঝলকে
- মোট সম্পদ: ভারতীয়দের ঘরে থাকা সোনার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৫ ট্রিলিয়ন ডলার।
- সরকারি রিজার্ভ: ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে গচ্ছিত সোনার পরিমাণ ৮৮০ টন।
- সম্ভাবনা: ব্যক্তিগত সোনার মাত্র ২ শতাংশ অর্থনীতিতে এলে ২০৪৭ সালে জিডিপি ৭.৫ ট্রিলিয়ন ডলার বাড়বে।
- লক্ষ্য: ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে ৪১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তর করা।
- করণীয়: ফিজিক্যাল গোল্ডের পরিবর্তে গোল্ড বন্ড ও মনেটাইজেশন স্কিমে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা।