দুবাইয়ের চরম সিদ্ধান্ত! বিপাকে ভারতীয়রা, আকাশছোঁয়া হবে বিমানের ভাড়া?

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার আবহে দুবাই সরকার বিদেশি বিমান সংস্থাগুলোর ওপর নজিরবিহীন বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। দুবাই বেসামরিক বিমান পরিবহন কর্তৃপক্ষের এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে বিপাকে পড়েছে ভারতীয় বিমান সংস্থাগুলো। বিশেষ করে পর্যটন মৌসুমে এই বিধিনিষেধের ফলে কয়েকশো ফ্লাইট বাতিলের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে দুবাইগামী ভারতীয় প্রবাসী ও পর্যটকদের ওপর।
নতুন বিধিনিষেধের সারসংক্ষেপ
দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (DXB) এবং আল মাকতুম বিমানবন্দরের জন্য জারি করা নতুন সার্কুলারে জানানো হয়েছে যে, আগামী ২০ এপ্রিল থেকে ৩১ মে পর্যন্ত প্রতিটি বিদেশি বিমান সংস্থা দিনে মাত্র একটি করে ফ্লাইট পরিচালনা করতে পারবে।
সংকটে ভারতীয় বিমান সংস্থাগুলো
এই সিদ্ধান্তের ফলে ভারতের বিমান পরিষেবা খাত বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে যাচ্ছে। এপ্রিল ও মে মাসের জন্য এয়ার ইন্ডিয়া প্রায় ৭৫০টি এবং ইন্ডিগো ৪৮১টি ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা করেছিল। নতুন নিয়মের ফলে এই পরিকল্পিত ফ্লাইটের একটি বড় অংশই বাতিল করতে হবে। ইন্ডিগোর মতো সংস্থাগুলো এরই মধ্যে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভারত সরকারের কাছে অভিযোগ জানিয়েছে।
বৈষম্যের অভিযোগ ও প্রভাব বিশ্লেষণ
ভারতীয় বিমান সংস্থাগুলোর মূল অভিযোগ হলো এই সিদ্ধান্তের একপাক্ষিকতা। দুবাই বিদেশি সংস্থাগুলোর ওপর বিধিনিষেধ চাপালেও তাদের নিজস্ব সংস্থা ‘এমিরেটস’ এবং ‘ফ্লাই দুবাই’র ক্ষেত্রে কোনো সীমাবদ্ধতা রাখেনি। তারা আগের মতোই ভারতে কয়েকশো ফ্লাইট পরিচালনা করতে পারবে।
এই পরিস্থিতির ফলে বেশ কিছু নেতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে:
- টিকিটের আকাশচুম্বী দাম: ফ্লাইটের সংখ্যা নাটকীয়ভাবে কমে যাওয়ায় চাহিদার তুলনায় জোগান কম থাকবে, ফলে টিকেটের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যেতে পারে।
- প্রবাসী ভোগান্তি: গ্রীষ্মের ছুটিতে যারা দেশে ফেরার পরিকল্পনা করেছিলেন, ফ্লাইট বাতিলের কারণে সেই প্রবাসীরা বড় ধরনের অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।
- পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধি: পাকিস্তানের আকাশপথ বন্ধ থাকা এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে বিমান সংস্থাগুলো আগে থেকেই চাপে ছিল। দুবাইয়ের এই নতুন সিদ্ধান্ত তাদের জন্য ‘মরার ওপর খাঁড়ার ঘা’ হিসেবে দেখা দিয়েছে।
কূটনৈতিক হস্তক্ষেপের দাবি
দুবাই বিমানবন্দরে যাতায়াতকারী বিদেশি যাত্রীদের মধ্যে ভারতীয়রা শীর্ষে। এই বিশাল বাজার ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের কথা মাথায় রেখে ভারতের বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয়কে দ্রুত দুবাই সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। যদি আলোচনা ফলপ্রসূ না হয়, তবে পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে দুবাইয়ের বিমানগুলোকেও ভারতে প্রবেশের ক্ষেত্রে সীমিত করার অনুরোধ জানিয়েছে ভারতীয় সংস্থাগুলো।
একঝলকে
- কার্যকর সময়: ২০ এপ্রিল থেকে ৩১ মে ২০২৬ পর্যন্ত।
- বিধিনিষেধ: বিদেশি প্রতিটি এয়ারলাইন দিনে মাত্র একটি ফ্লাইট চালাতে পারবে।
- ক্ষতিগ্রস্ত সংস্থা: এয়ার ইন্ডিয়া ও ইন্ডিগোসহ সব ভারতীয় বিমান সংস্থা।
- মূল সংকট: টিকিটের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং ফ্লাইট বাতিল।
- অভিযোগ: এমিরেটস ও ফ্লাই দুবাইকে বিশেষ সুবিধা প্রদান করে বিদেশি সংস্থাগুলোর ওপর বৈষম্য।