“ধন্যবাদ বন্ধু ভারত!” বিপদে পাশে দাঁড়ানোয় আপ্লুত ইরান, কুর্নিশ জানাল বিশ্বকে

বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার মাঝেও মানবিকতাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে ইরানের পাশে দাঁড়িয়েছে ভারত। বিশেষ করে পাকিস্তান যখন আমেরিকা ও ইসরায়েলের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় ব্যস্ত, ঠিক তখনই ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির জন্য দ্বিতীয় দফায় বিপুল পরিমাণ চিকিৎসা সহায়তা পাঠিয়েছে ভারত। ভারতের এই উদারতার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ইরানি রাষ্ট্রদূত মহম্মদ ফাথালি আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন।
কৃতজ্ঞতায় আপ্লুত ইরান
ইরানের কঠিন সময়ে ভারতের এই সহায়তাকে বিশেষভাবে মূল্যায়ন করছে তেহরান। রাষ্ট্রদূত মহম্মদ ফাথালি প্রকাশ্যেই জানিয়েছেন যে, ভারত ও সেদেশের মানুষের এই দয়ার কথা ইরান কখনো ভুলবে না। তিনি বলেন, “ভারতীয় জনগণের এই মানবতা অতুলনীয়। বিপদের দিনে যারা পাশে দাঁড়িয়েছে, সেই ভারত সরকার ও জনগণের প্রতি আমরা চিরঋণী।”
কী আছে এই সহায়তা প্যাকেজে
ভারতের পাঠানো দ্বিতীয় দফার এই ত্রাণ সামগ্রীর তালিকায় রয়েছে অত্যন্ত জরুরি কিছু উপকরণ:
- জীবনদায়ী ওষুধ ও আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম।
- ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য পর্যাপ্ত কম্বল ও শীতবস্ত্র।
- শুকনো খাবার ও প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর খাদ্যসামগ্রী।
সাধারণ ভারতীয়দের আবেগঘন অংশগ্রহণ
২০৬ সালের এপ্রিল মাসে ইরানের সংকটময় পরিস্থিতিতে কেবল সরকার নয়, সাধারণ ভারতীয়রাও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। বিশেষ করে কাশ্মীরসহ ভারতের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ ব্যক্তিগত উদ্যোগে অনুদান পাঠিয়েছেন। ভারতের সাধারণ নাগরিকরা নগদ অর্থের পাশাপাশি নিজেদের সঞ্চিত সোনা ও রুপাও ইরানের জন্য দান করেছেন, যা দুই দেশের জনগণের মধ্যে থাকা গভীর আত্মিক সম্পর্কের বহিঃপ্রকাশ।
অনুদান গ্রহণ বন্ধের ঘোষণা
ভারতীয়দের পক্ষ থেকে সাহায্যের জোয়ার এতটাই প্রবল ছিল যে, ইরানি দূতাবাস শেষ পর্যন্ত একটি বিশেষ বিজ্ঞপ্তি জারি করতে বাধ্য হয়েছে। দূতাবাস জানিয়েছে যে, অনুদানের জন্য নির্ধারিত ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলো বর্তমানে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আর কোনো নগদ অর্থ বা অলঙ্কার জমা না দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে তারা ভারতীয়দের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে।
ভারত ইরান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গুরুত্ব
সীমান্তে উত্তেজনা এবং আন্তর্জাতিক চাপ থাকা সত্ত্বেও ভারত ও ইরানের বাণিজ্যিক ও কৌশলগত সম্পর্ক এখনো অটুট। এর প্রধান কয়েকটি দিক হলো:
- চাবাহার বন্দর: আফগানিস্তান এবং মধ্য এশিয়ায় ভারতের প্রবেশের জন্য এই বন্দরটি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- জ্বালানি নিরাপত্তা: ইরান ঐতিহাসিকভাবে ভারতের তেলের অন্যতম বড় উৎস। বর্তমানে কিছু সমস্যা থাকলেও দুই দেশ জ্বালানি খাতে সহযোগিতা বজায় রেখেছে।
- বাণিজ্যিক আদান-প্রদান: ভারত থেকে চিনি, চাল, চা এবং ওষুধ ইরানে রপ্তানি হয়। অন্যদিকে ইরান থেকে আপেল, পেস্তা ও খেজুরের মতো উন্নত মানের ড্রাই ফ্রুটস ভারতে আমদানি করা হয়।
সব মিলিয়ে বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে ভারত তার নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখে মানবিক সাহায্যের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মহলে নিজের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করেছে।
একঝলকে
- ইরানকে দ্বিতীয় দফায় বিশাল চিকিৎসা সহায়তা পাঠালো ভারত।
- ভারত সফররত ইরানি রাষ্ট্রদূতের পক্ষ থেকে ভারতকে বিশেষ ধন্যবাদ জ্ঞাপন।
- ওষুধ ও খাদ্যের পাশাপাশি ভারতীয় নাগরিকদের সোনা ও রুপা দান।
- উপচে পড়া অনুদানের চাপে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সাময়িকভাবে বন্ধ করল দূতাবাস।
- চাবাহার বন্দর ও বাণিজ্যিক স্বার্থ রক্ষায় দুই দেশের অটুট বন্ধুত্ব।